কালো জাদু #পর্ব : ০৩ (শেষপর্ব)

(সত্যঘটনা অবলম্বনে)
বিয়ের সপ্তাহ খানেক পর একদিন নিপুর চিৎকার শুনে সবাই দৌড়ে আসে আর তাকে অচেতন অবস্হায় পায়।দেখে সে গ্রিলের মাঝে এমন ভাবে দারিয়ে আছে যেন অদৃশ্য কোনো শক্তি দিয়ে তাকে কেউ বেধে রেখেছে।সবাই এসে নিপুকে নামায়…..
নিপুর জ্ঞান ফিরে পরদিন দুপুরে… তাকে সবাই প্রশ্ন করলো তুমি সেখানে কি করে। নিপু বলে আমি চুলে তেল দিচ্ছিলাম হঠাত জানালাটা ঠাস করে খুলে যায়।জানালার কাছে এসে দেখি কিচ্ছু নেই সেখানে।পার্টটা লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে তারিফ দারিয়ে যায়। আমি ভয় পেয়ে যাই।আমি বললাম তুমি এতো রাতে না জানিয়ে এখানে কেন?….তারিফ কোনো কথা বলছিলো না এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো……..
তারিফ হুট করে একটা ছুরি বের করে নিজেই নিজের গলা পর্যন্ত নামিয়ে দেয়।আমি চিৎকার করে উঠি।তারিফ জানালা বেধ করে করে আমার সামনে এসে আমার গলা ধরে গ্রিলের সাথে ধাক্কা দেয়…. এরপর আর আমি কিছু মনে করতে পারি না…..
নিপুর মা বাবা এসব শুনে ব্যাপারটাকে আমলে নেয় এবং একটি হুজুর ডাকে।হুজুর এসে বলে… নিপুর উপর বদ জ্বিনের কুনজর পরেছে।হুজুর একটা তাবিজ আর পানি পরা দেয় নিপুকে। তারিফকে তখনো তার পরিবার এই ঘটনাটা জানায় নি…..
হুজুর তাবিজ দেওয়ার পর নিপু ২ ৩ দিন আর কোনো সমস্যা হয় নি।গ্রীষ্ম কাল ছিলো তখন সন্ধ্যা বেলায় শুরু হয় খুব ভাল রকমের একটা ঝর…. নিপু বাইরে চলে যায় বাড়ির আঙিনায় আম গাছটার কাছে যেখানে সে আম কুড়াতে ভালবাসতো…..
আম তুলে ফিরে আসার সময় নিপুর পা ধরে যেন কেউ টান মারে আর মাটিতে ফেলে দেয়।সে দেখতে পায় নি তাকে। তারপর যেন কেউ টান মেরে তাকে কেউ আমগাছের নিচে নিয়ে যায়। সে উপরের দিকে তারিকে দেখতে পায়….পুরো গাছের প্রত্যেক ডালে তারিফের মতো দেখতে ৫ থেকে ৭ জন লোক…….
তারিফ নিপুর দিকে তাকিয়ে সবাই হাসছে এবং প্রত্যেকের হাতে একটা ফাসের দড়ি।নিমু এটি দেখে চিৎকার শুরু করে। গাছের পিছন থেকে তারিফের মতো দেখতে আরেকটা লোক এসে তার গলা চেপে ধরে তার কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়…. নিপু কাশতে কাশতে বাড়ির সামনে এসে এসে কিছুক্ষণ পর মা বলে চিৎকার করে মাটিতে পরে যায়……
সবাই এসে দেখে নিপুর মুখ দেখে রক্ত বের হচ্ছে, গায়ে ধুলোবালি …..। বৃষ্টি থামার পর পরই হুজুরকে ডেকে আনা হলে হুজুর বলে সাধারনতো নিপুর পাএ তারিফের থেকেই সমস্যাটা শুরু হয়েছে….কিন্তু হুজুর এসব নিশ্চিত ছিলো না…. হুজুর জানায় তারিফকে তার সামনে নিয়ে আসতে…….
কিন্তু তারিফ এসব শোনার পর কোনো ভাবেই হুজুরের সামনে আসতে রাজি ছিলেন না.. । উনি চাইছিলেন না উনার এই কালো জাদু করার ব্যপারটা সবার সামনে চলে আসুক….।হুজুর তখন আর কিছু করতে পারেন নি….
ঐ দিকে নিপু বিছানায় পরে গেছে হাটাচলা পুরোপুরি ভাবে বন্ধও বলা চলে। এর কিছুদিন পর তারিফ নিপুর সাথে বিয়েটা ভেঙে দেয় আলাদা হয়ে যায়।বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কিছুদিন পর নিপু নাকি গলায় ধরি দিয়ে আত্মহত্যা করে এর কারন কেউ জানতে পারে নি…
তারিফের কোনো সমস্যা ছিলো না এবং ওর কোনো হাতো ছিলোনা এই ঘটনার পিছনে।তারিফ প্রায় ২ টোর দিকে অফিস থেকে হেটে বাড়ি ফিরছিলো।তারিফ শুনতে পায় তার পিছন দিকে কেউ হেটে আসছে…. নরমালি হাটা মেনে নিয়ে সেও তার হাটা কন্টিনিউ করে আরকি এই ভেবে যে হেটে আসতেই পারে তার পিছনে….
একটু পর তার পিছনে থাকা লোকটি তাকে ক্রস করে একটা দৌড় দিয়ে চৌরাস্তার মাঝে চলে যায়….মোরের মাঝখানে একটা পুরাতন বটগাছ।গাছের মাঝখানে এমন জায়গা ছিলো যে খুব সহজেই ২ জন বসে যেতে পারতো…চৌরাস্তায় যাওয়ার পর তারিফের কানে আসে গাছের শেকড় কাটার শব্দ……
তারিফ একে টর্চ মারে দেখতে পায় একটা লোক ছিরা সাদা চেক চেক একটা শার্ট পরে জুতো পায়ে।সে গাছের নিচের মাটি খুড়ে যাচ্ছে… তারিফ এটা দেখে ডাক দেয় এবং লোকটা তার দিকে তাকায় আর কোনো কথা না বলে তারিফের দিকে ছুড়ি ছুরে মারে……
তারিফ কাচিটা ধরে ফেলে দেখতে পায় কাচিতে রক্ত মাখা যেন টপ টপ করে রক্ত তারিফের হাত বেয়ে পরছে।সে দ্রুত সেখান থেকে দৌর দেয় এবং সে বুঝতে পারে তার সাথে অস্বাভাবিক খারাপ কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে…. তারিফ তারাতারি দৌরে তার বাড়িতে এসে রুমে চলে যায়….
এবং তার ঘন্টা দুয়েক পর তারিফের রুম থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে তারিফের মা দৌরে আসে দরজা খুলতে বলে।তারিফ ঘরের দরজা খুলে তার মাকে জানায় সে ভিতরে নাকি নিপুকে দেখেছিলো… নিপুর সাথে নাকি একটা লোক ছিলো নিপু বলছিলো এই লোকটা নাকি তার প্রান নিয়েছে……
তার প্রান গেছে তারিফের জন্য এবার তারিফকেও নাকি মরতে হবে।এটা বলতেই লোকটা নাকি তারিফের কাছে এসে একটা কাচি দিয়ে কোপ দিয়ে তারিফের নাকি আঙুল কেটে ফেলে….কিন্তু রুমের বাইরে আসার পর তারিফ দেখে তার হাতে নাকি কোনো কাটা ছেরার দাগই ছিলো না…….
এই ঘটনা শুরু হবার পর থেকে তারিফ মেন্টাললি অনেক দুর্বল হয়ে পরে।সে নাকি কোনো একটা উপায় খোজে পেয়েছিলো এই ঝামেলা থেকে বের হওয়ার…. নিয়ম মোতাবেক তাকে নাকি নিপুর কবর থেকে কাফনের কাপর ছিড়ে তাকে কিছু কাজ করতে হবে ঐ রাতে ছিলো অমাবস্যা……
তারিফ একাই গিয়েছিলো কবর খুড়ে কাপনের কাপর ছিরে আনার জন্য। কিন্তু এর পরের দিন সে এসব ঘটনা নাকি একটা হুজুরকে জানায় কারন কবর খুরে কোনো কাপর নাকি সে ছিরতে পারে নি… উল্টো নিজেই বেহুশ হয়ে সেখানে পরে যায়…..
অনেক জোরাজোরি করার পর তারিফ স্বীকার করে যে সে ব্ল্যাক ম্যাজিকের সাথে জরিতো।গত রাতে কবরে গিয়ে কাপর আনতে যাবে সে অনুভব করে কাটার মতো পায়ে কিছু একটা লাগছে এটা দেখে সে তাকাতেই দেখে নিপু কবরের এক কোনায় গুটিশুটি মেরে বসে আছে এবং কাফনের কাপড় নাকি খাচ্ছে….
তারিফকে দেখে সে বলেছিলো ও আসছে।তোকেও কবর বাসি করার জন্য!! তারপর নাকি সে অজ্ঞান হয়ে যায়।হুজুরকে সব বলার পর হুজুর নাকি তারিফের ট্রিটমেন্ট করতে রাজি হচ্ছিলো না তারপরো সে রাজি হয় তারিফের মায়ের বিশেষ অনুরোধের জন্য……
তারপর ২ দিন সব কিছু স্বাভাবিক ছিলো। তারপর হঠাত একদিন খবর আসে দুপুরে তার মায়ের কাছে তারিফ রোড এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে…. ট্রাকের একটা চাকা নাকি তারিফের মাথার উপর দিয়ে চলে যায় তাই মাথা থেকে তৎক্ষণাৎ রক্ত ক্ষরনের জন্য তারিফ সেই রোডেই প্রান ত্যাগ করে…..
তারিফ মারা যাওয়ার পর তার মা মেন্টাললিভাবে অনেক ভেঙে পরে। তারিফের মৃত্যুর কিছুদিন পর তার মা স্বপ্নে দেখে একটা ভয়ানক কালো বিচ্ছিরি দেখতে একটা লোক যার পুরো শরীর লোমে ডাকা মুখটা এমন যেন দেখতে যেন কতদিন ধরে খেতে পায় না মুখটা শুকিয়ে আছে মাথার চুলগুলো বড় বড়।কালো একটা কাপর ভয়ংঙ্কর দেখতে হলেও মুখটা দেখতে কেমন যেনো অসহায় লাগছে মনে হচ্ছে কিছু একটা বলতে চায়……
তারপর ঐ লোকটা কাছে এলো তারিফের মায়ের অনেক ভয় পাচ্ছিলো।এসে বললো আমি তোমাদের শেষ সত্যটা জানানোর সুযোগ পায় নি তার আগেই আমার কর্মফল আমাকে শাস্তি দিয়ে দিয়েছে….
বাবার মৃত্যুর কারনো ছিলো ব্ল্যাক ম্যাজিক। বাবার পরিচিত একটা লোক বাবার উপর প্রতিশোধ নিতে বাবার উপর ব্ল্যাক ম্যাজিক করে বাবাকে হত্যা করেছিলো।বাবার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিলো না…. আর সেই লোকটা ছিলো আমারই মামা তোমার ফুফাতো ভাই।সে তোমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো তোমাকে পায় নি…. সে চেয়েছিলো তোমাদের আলাদা করতে আমার বাবার সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে সে এটাতেও সফল হতে পারে নি…..
শেষ অবধি কোনো এক তান্ত্রিকের কাছে গিয়ে বাবার উপর কালা জাদু করে বাবাকে মেরে ফেলতে সফল হয়।বাবা উনার মৃতু্্যর পর আমাকে দেখা দিয়েছিলো হয়তো এটাই বলতে চেয়েছিলো আমি বুঝতে পারে নি…. উল্টে বাবার মৃত্যুর রহস্য বেধ করতে আমি না বুঝেই ব্ল্যাক ম্যাজিকে জরিয়ে যাই…..
আমি ঐ লোকটাকে শাস্তি দিয়েছিলাম ঐ জ্বীন ধারা যার যাকে তুমি আমার বন্ধু মনে করেছিলে।সে আসলে আমার বাড়িতে এসেছিলো আমার খোজ নিতে সে আসলে কোনো মানুষ ছিলো না সে ছিলো খারাপ একটা জ্বিন।যে আমার কাছে ঐ কাজের বিনিময়ে জীবিত একটা শিশুর মাথা আহুতি চেয়েছিলো আমি পারি নি মা একটা শিশুকে এমন ভাবে হত্যা করতে…..
তাই আজ আমার এই পরিনতি। তারপর কান্না ভেজা কন্ঠস্বরে বললো মা অামি অনেক কষ্টে আছি। তারিফের মা চিনতে পারে এটা তারিফ সে কিছু বলতে যাবে এমন সময় তার ঘুম ভেঙে যায় দেখে ফজরের আজান দিচ্ছে চারদিকে…..
এরপর থেকে তারিফের মায়ের সাথে কোনো সমস্যা হয় নি সবকিছু আগের মতো ঠিক ঠাক চলতে থাকে।স্বামী আর উপযুক্ত ছেলেকে হারিয়ে তারিফের মা পাগলের মতো হয়ে যায়। এটাই ছিলো ব্ল্যাক ম্যাজিকের শেষ পরিনতি।
এটা কোনো গল্প নয়।এটা হলো নওগায় ঘটা সত্যি একটি ঘটনা ………….। ঘটনাগুলো ভাল লাগলে লাইক,কমেন্ট, শেয়ার করে পাশে থাকবেন……. ধন্যবাদ।

Be the first to write a review

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প