তার আগেই ইরাকে জড়িয়ে ধরে, ইরা অনেক চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারে নি। আকাশের শরিল ভেজা ছিলো বলে, ইরার শরিল ও ভিজে গেলো। কিছুক্ষণ পরে চেড়ে দেয়।
আকাশ: এরপর যদি আমার সাথে লাগতে আসিছ, তাহলে তোমার এমন হাল করবো যে, আমাকে বিয়ে করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
ববি: মানে, সিনেমায় গুন্ডারা যেমন সুন্দর সুন্দর মেয়েকে তুলে নিয়ে এসে, ওই গুলো করে। আপনি ও কি সে রকম কিছু করার চিন্তা করছেন?
আকাশ: ছি ছি ছি, আমার রুচি এতো খারাপ না। যে ওনার মতো একটা মেয়ের সাথে এই গুলো করতে যাবো।
ইরা: তার মানে কি আমি সুন্দরী না। ( রেগে)
আকাশ: আমার থেকে তো সুন্দরী লাগছে না। এভার অন্যদের কাছে কেমন লাগে, সেটা আমি তো আমি বলতে পারি না।
ববি: দেখছিস ইরা, তোকে কিভাবে অপমান করতেছে।
আকাশ: ওনার মতো মেয়ের মান থাকলে তো, তাকে অপমান করবো। যে না চেহারা, আসছে সে চেহারা নিয়ে আমার সাথে জগড়া করতে৷
ইরা: তোকে তো আমি দেখে নিবো ( রেগে)
আকাশ: এতক্ষণ ধরে তো সামনেই আছি, যা দেখার দেখে নাও, কেনো না আমি কয়েকদিন পরে আবার শহরে ফিরে যাবো, তখন কিন্তু দেখে নেওয়ার সুযোগ আর পাবে না।
ইরা: ববি এই ছেলেটাকে আমার চোঁখের সামনে থেকে চলে যেতে বল। নয় তো আমি,,, ( রেগে)
আকাশ: নয় তো কি করবে শুনি?
ইরা: সাইকেল দিয়ে মেরে আবার পুকুরে ফেলে দিবো।
আকাশ: আমি তাহলে সাইকেল শুদ্ধ তোমাকে পুকুরে ফেলে দিবো।
ববি: ভাইয়া আপনি এখন যান এখান থেকে৷ আমার বান্ধবী যদি এরচেয়ে বেশি রেগে যায়, তাহলে কিন্তু অনেক কিছু করে ফেলবে৷ পরে কিন্তু আমি আর সামলাতে পারবো না।
আকাশ: এত মতো মেয়ে আমার সাথে পারবে না। এত চিকন বর্ডি নিয়ে, আমার সাথে কিভাবে পারবে৷
ইরা: ওই চিকন, না মোটা তুই কি দেখেছিস?
আকাশ: জড়িয়ে ধরার সময়ে মাপ নিয়ে নিয়েছি৷
ইরা: কি বেহায়া ছেলেরে বাবা৷ একটু লজ্জা শরম বলতে কিছু নেই।
আকাশ: লজ্জা শরম তো তোমার নেই। যদি থাকতো, তাহলে ঠিকই,,,
ইরা: তাহলে কি, চুপ করে আছিস কেনো ( রেগে)
আকাশ: কিছু না গেলাম আমি৷ তবে একটা কথা, পারফিউমের সুগন্ধিটা কিন্তু অনেক মিষ্টি, তার সাথে চুখের ঘ্রাণ ওহ।
কথা গুলো বলে হাঁটা দেয়। এই দিকো ইরা দাঁড়িয়ে আছে৷ কোন কিছুই বলছে না। কেনো না, এর মতো সাহসী ছেলে, ইরা এই গ্রামে কখনো দেখে নি।
ববি: ইরা তুই আজকেই, এই ছেলের ব্যাপারে, তোর আব্বুকে সবটা বলবি!
ইরা: আব্বুকে কোন কিছু বলা যাবে না। তাহলে ওই ছেলেকে জানেই ফেরে ফেলবে।
ববি: এতে তো ভালোই হবে৷
ইরা: এমনটা করা ঠিক হবে না। সামান্য একটু কারণে কারো প্রাণ নেওয়া ঠিক হবে না। তাছাড়া ওর শত্রুতা তো আমার সাথে, সেজন্য ওকে আমিই হেন্ডেল করবো।
ববি: পারবি তো?
ইরা: চেয়ারম্যান এর মেয়ে আমি, পারতে যে আমাকে হবেই। ওর মতো ছেলেকে কি ভাবে টাইট দিতে হয়, তা আমার থেকে ভালো আর কেহ জানে।
ববি: তবে যাই করিছ, সাবধানে করিছ,, আজকে যা করেছে ছেলেটা, সামনের দিকে তো আরো বেশি কিছু করার চেষ্টা করবে।
ইরা: তুই কোন চিন্তাই করিছ না৷ ওকে আমি এমন ভাবে দেখে নিবো, আমার নামটাই ভুলে যাবে। এখন চল আমরা বাসার দিকে যাই,,,
ববি: হুম চল তাহলে,,,,
ওরা ও বাসায় চলে যায়৷ অন্য দিকে আকাশ ওর ঘরে এসে সবটা চেন্জ করে বসে থাকে, আর ইরার সাথে আজকে যা যা হয়েছে, তা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে। সন্ধায় আকাশের অনেক জ্বর উঠে আকাশের,, শাকিল সন্ধায় কল দিয়ে তা জানতে পারে। সেজন্য আকাশকে দেখার জন্য বের হয়, পথেই ববির সাথে শাকিলের দেখা হয়।
ববি: এই কোথায় যাচ্ছিস তুই? তোর সাথে তোর বন্ধুটা কোথায়?
শাকিল: ওর জ্বর এসেছে, সেজন্য ওকে দেখতে যাচ্ছি৷
ববি: জ্বর হলো কি করে।
শাকিল: জানি না কি করে হলো। ওর সাথে দেখা হওয়ার পরে বুঝতে পারবো।
ববি: ঠিক আছে যা তাহলে,,,
শাকিল: তুই কোথায় যাচ্ছিস?
ববি: ইরার ঠান্ডা লেগেছে, সেজন্য ওকে দেখতে যাচ্ছি।
শাকিল: ঠিক আছে, তবে ইরা আমার বন্ধুর সাথে এরকম কেনো করে বলতো।
ববি: সে আমি কি জানি, কেনো এরকম করে।
শাকিল:আচ্ছা চলি তাহলে,,,
এরপর দুইজন দুইদিকে যেতে থাকে। ববি চলে আসে ইরার কাছে। শাকিল চলে আসে আকাশের কাছে। এসে ওর সাথে কথা বলতে থাকে। তখন আকাশের মা আসে ওখানে,,,
মা: শাকিল কখন এলে?
শাকিল: এই তো আন্টি ৫ মিনিট হলো৷
মা: তুমি বসো, আমি তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আনছি।
এই দিকে আকাশের মা তো নাস্তা আনতে চলে যায়। অন্য দিকে ইরা আর ববি গল্প করতে থাকে। পাশে ইরার ২ ভাবি ছিলো।
সাথী: ইরা তোমার এরকম অবস্থা হলো কি করে?
ঈশা: ভাবি আমি তো ওকে দেখেছি জামা কিছুটা ভেঁজা অবস্থায় আসতে৷ মনে হচ্ছে, ভেজা ছিলো বলে, এরকম অবস্থা হয়েছে।
সাথী: তা ইরা তুমি ভিজলে কি করে?
ইরা: আরেহ ওয়াশরুমের ভিতরে এসে, পানি ছাড়তেই ড্রেসিং টেবিলের সব পানি আমার জামায় লাগে, তার সাথে আমার আরো কিছু বান্ধবী তা দেখে, আমার শরিলে আরো পানি মারতে থাকে।
ঈশা: ঠিক আছে, তোমরা ২ জন আলাপ করো, আমরা তোমাদের জন্য নাস্তা নিয়ে আসছি।
ইরার দুই ভাবি তো চলে যায়। ওনারা যাওয়ার পরেই,,
ইরা: দেখলি তো, ওই বজ্জাত ছেলেটার জন্য, আজকে আমার কি হাল হলো।
ববি: তোর তো শুধু ঠান্ডাই লেগেছে, কিন্তু ওই ছেলের তো জ্বর উঠে উঠ৷।
ইরা: তুই কি জানলি?
ববি: আসার সময়ে শাকিলের সাথে দেখা হয়েছে, ওই আমাকে সবটা বলেছে।
ইরা: বেশ হয়েছে, আমার সাথে এরকম বেয়াদবি করার ফল, এখন হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছে৷
ববি: তুই নিজেই তো কষ্টে আছিস।
ইরা: আমার তো শুধু ঠান্ডা, কিন্তু ওই ছেলের তো জ্বর এসেছে। ৪-৫ দিনে ও ঠিক মতো উঠতে পারবে না।
এরই মধ্যে ইরার ২ ভাই আর বাবা আসে রুমে।
আব্বু: কি হয়েছে আমার মামুনির!
ইরা: আব্বু, সামান্য একটু ঠান্ডা লেগেছে, ওহ ঠিক হয়ে যাবে।
আবির: কিন্তু হঠাৎ তোর ঠান্ডা লাগলো কি করে?
ইরা: হয় তো শরিল একটু ভিজে যাওয়ার জন্য হয়েছে।
ইশান: তা ইরা, ডক্টর কি বলেছে৷ আব্বুর সাথে সারাক্ষণ থাকতে হয় বলে, তোর খোঁজ খবর ওহ নিতে পারি না।
ইরা: কিছু হয় নি আমার ভাইয়া, তোমরা শুধু শুধু টেনশন করছো!
ইশান: আব্বু ওকে তাহলে এখন রেস্ট করতে দেই। আর ববি, তুমি কিন্তু আজ রাতটা ইরা সাথে থেকো?
ববি: কিন্তু ভাইয়া, আমি ঘরে না ফিরলে তো, মা অনেক চিন্তা করবে আমাকে নিয়ে।
ইশান: আমি বলে দিবো তোমার মাকে কল দিয়ে।
ববি: ঠিক আছে ভাইয়া।
এই কথা শুনে ইরা তো অনেক খুশি। কেনো না ওরা ২ বান্ধবী সারারাত শুয়ে শুয়ে গল্প করতে পারবে।
আব্বু: আচ্ছা ইরা, তুই সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তোকে কলেজ আর যেতে হবে না।
ইরা: কিন্তু কেনো আব্বু, আমি তো ঠিক আছি৷
আব্বু: কোন ঠিক নেই। যা বলেছি তাই শুন, আমরা তো তোর ভালোর জন্য বলছি।
ইরা: ঠিক আছে যাবো না।
ববি: কিন্তু আঙ্কেল,,