নিয়তির_লিখা পর্বঃ০৩

আজ শেষবারের মতো সৈকতের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি আমি।দুলাভাই আমাকে বাসায় নিতে আসলো।দুলাভাই আর আমি নাজিয়াত আরিয়ানাকে নিয়ে বের হলাম।নাজিয়াত আরিয়ানার বয়স প্রায় ৮ মাস।
এইদিকে সৈকত সেই সকাল থেকে পার্কে এসে বসে আছে আমাদের জন্য।দুলাভাই কোনো একটা কাজে আটকে যাওয়ার ফলে আসতে একটু দেরি করেছে।আমরা পার্কে গিয়ে দেখলাম সৈকত বসে আছে একটা বেঞ্চিতে।
–তোমরা এসেছো?এতোক্ষণ করলে যে?(সৈকত)
–আমি একটু কাজে আটকে গিয়েছিলাম তাই।(দুলাভাই)
–আচ্ছা এতো কথা না বলে কেন ডেকেছো বলো?বাসায় বলেছি বাবুদের জন্য শপিংয়ে যাচ্ছি।(আমি)
–নয়না, তুমি কি সত্যি বিয়ে করে ফেলছো আজ?
–হ্যাঁ,আমার বিয়েটা করতে হবে নাজিয়াত আরিয়ানার জন্য।
–তোমার কি একটুও মনে পড়বে না আমাকে?
–জানি না।তবে ভুলে থাকার চেষ্টা করবো।
–সত্যি ভুলে যাবে আমাকে?
–একেবারে ভুলে যাব তো বলি নি।বললাম ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবো।
আমাদের কথাগুলো শুনে দুলাভাই বলল
–তোমরা চাইলে আজকে পালিয়ে যেতে পার।বাসার সবাইকে আমি ম্যানেজ করে নিব।
–না দুলাভাই এইটা আর হবে না।সব যখন ঠিক হয়ে গেছে আমাদের বিয়ের ব্যাপারে তাহলে আমাদের বিয়েটা হবেই আজ।
–ঠিক আছে তোমাদের জন্য বেষ্ট অফ লাক।তোমাদের বিবাহিত জীবন সুখী হোক।আজ শেষ বারের মতো তোমাকে দেখতে চেয়েছিলাম নয়না।তোমাকে আমার দেখা হয়ে গেছে।আমি যাচ্ছি এখন।
সৈকতের কথা গুলো শুনে নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলাম না।আমার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছে।আমি আমার চোখের জল আড়াল করার জন্য দুলাভাই আর সৈকতের সামনে থেকে দৌঁড়ে গিয়ে গাড়িতে বসে গেলাম।আমার পেছনে দুলাভাইও চলে আসলো।
–তুমি যখন সৈকতকে ছাড়া থাকতে পারবে না তাহলে আজ আমাকে বিয়ে করছো কেন?
–আমি যদি আজ আপনাকে বিয়ে না করি তাহলে অনেক গুলো মানুষ কষ্ট পাবে।কিন্তু আজ যদি আমি আপনাকে বিয়ে করি তাহলে শুধু সৈকত কষ্ট পাবে।আমি একজনের জন্য বাসার সবাইকে কষ্ট দিতে পারবো না।নাজিয়াত আরিয়ানার মা হওয়ার যেই দায়িত্বটা নিয়েছিলাম সেই দায়িত্বটা আমি পালন করবো।
–ঠিক আছে।তুমি যা ভালো বুঝো!!
আমরা বাবুদের জন্য শপিং করে বাসায় চলে গেলাম।বাসায় মেহমান ভর্তি।সবাই বলাবলি করছে বিয়ের দিন বরের সাথে ঘুরতে গিয়েছি।আরও অনেক নিন্দা।
এইসব কথা আমি কানে না নিয়ে রুমে গিয়ে বাবুদের ঘুম পাড়িয়ে দিলাম।কিছু কাজিন আর ভাবি আমার রুমে এসে আমাকে বলছিল,কিরে বরের সাথে রাতেই বিয়ে সকালে বের হওয়া লাগে? তর সইছে না বুঝি??আবার কয়েক জনে তো বলে,শুনেছিলাম তোর এক ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল অনেক বছরের?ছেলেটাকে ছেড়ে দিয়েছিস নাকি?তুই কি বিয়েটাতে খুশি?বিয়ের আগেই তো মা হলে গেলি।বাচ্চা গুলোকে দেখে রাখিস।যতই খালা হোস আপন মা তো আর না।সৎ মা সৎ ই হয়।
এই সৎ কথাটা শুনে আমার মাথায় রক্ত উঠে গেল।নিজেকে আর চুপ রাখতে পারলাম না।
–প্লিজ তোমরা এইভাবে বলবে না।আমি ওদের জন্যই বিয়েটা করতে রাজি হয়েছি।আর তোমরাই এইসব কথা বলছো।আমি ওদেরকে নিজের সন্তানের মতোই আদর করবো।আমি ওদের কেমন যত্ন নিব এইটা না হয় ওরা বড় হলে ওদের মুখ থেকে শুনে নিও।
সন্ধ্যা হয়ে আসলো।বাসায় মানুষ আসা শুরু করেছে।আমি রেডি হয়ে বসে রইলাম।দুলাভাই আসলো আমাদের বিয়ে হলো।আমাকে দুলাভাইদের বাসায় নিয়ে যাওয়া হলো।আমাকে বাসর ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো।
সবাই বলছিল আজ আমাদের বাসর তাই বাবুদেরকে তাদের দাদির কাছে রাখতে।আমি বললাম,না,ওরা আজ থেকে আমার মেয়ে।আমার সাথেই থাকবে।
দুলাভাই রুমে আসলো।নাজিয়াত আরিয়ানা ঘুমাচ্ছে।
–দুলাভাই আপনি ওই পাশে ঘুমিয়ে পরুন।বাবুদেরকে আমাদের মাঝেখানে রাখছি।
–আজ থেকে আমাকে দুলাভাই ডেকো না।সবাই খারাপ ভাবতে পারে।তুমি বরং আমার নাম ধরেই ডেকো।তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।আমি কিছুক্ষণ পর ঘুমাচ্ছি।
–ঠিক আছে।আয়ান।পারলে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েন।আজ খুব ধকল গেছে আপনার উপর।

Be the first to write a review

2 Responses

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প