লোকটার কথা শুনে আমি আর স্থির রাখতে পারলাম না নিজেকে।সারা শরীর একটা অদ্ভুত কম্পন দিয়ে উঠলো।এ কি করলাম আমি….!!নিজের হাতে নিজের বড়ো বোনের এতো বড়ো একটা সর্বনাশ কিকরে করলাম আমি…???
এই কারণেই তখন ঐ ভদ্রমহিলাকে দেখে এতো পরিচিত মনে হয়েছে আমার…বার বার মনে হচ্ছিলো তার সাথে আমার যেন কোনো সম্পর্ক আছে…
নার্স আমার অস্থিরতা বুঝতে পারলো।
—ম্যাম,কি হয়েছে আপনার?আপনি কি অসুস্থ বোধ করছেন?
—আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো প্লিজ,আমি এখানে থাকতে চাই না।
—সেকি,এতোটা কষ্ট করে আসলাম দেখা না করেই চলে যাবো।কি বলছেন আপনি!
—ওহ,প্লিজ আমি ফিরে যাবো।এখানে আর এক মূহুর্ত নয়।তুমি কি বুঝতে পেরেছো আমার কথা।
অগ্যতা নার্স আমাকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়।আমার পক্ষে এই মুহূর্তে নিজের পরিবারের লোকদের ফেইস করা সম্ভব নয় কিছুতেই।কারণ আমি ভালো করেই জানি কিছুতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না আমি।আমার জন্য এই পরিবারে এতো বড়ো একটা বিপর্যয় নেমে আসলো।এই সবকিছুর জন্য আমিই দায়ী।তবে শুধু আমি না।আমাকে ‘আন্দোলন’নামের সেই লোকটাকেও খুঁজে বের করতে হবে।অর্থাৎ আমার বোনের প্রাক্তন স্বামীকে।সে কেন আমার বোনের সন্তান নষ্ট করালো আমাকে দিয়ে,কি শত্রুতা ছিলো তার আমার বোনের সাথে।এগুলো জানতে না পারলে মরেও শান্তি পাবো না আমি।যে পাপ করেছি জীবনে,হয়তো একে খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে তার কিছুটা হলেও লাঘব হবে।এইদিকে আমার মেডিকেল রিপোর্ট বের হতেও আরো কিছু সময় লাগবে।তার আগে আমি জানতে পারছি না সত্যিই আমি প্রেগনেন্ট কিনা। যদি এটা সত্যিই হয় তখন কি হবে এই ভেবে ভয়ে সারা শরীর কাঁটা দিয়ে উঠছে আমার।
যতোদ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ফিরে আসলাম আমরা।নার্স আমাকে বার বার ফিরে আসার কারণ জানতে চাইলেও আমি তার কাছে সবটাই গোপন করে গেলাম।
পরের দিন অনুরোধ আমার সাথে দেখা করতে আসে।আমি তাকে দেখে একটু হলেও স্বস্তি পাই।
—এবার বলো,তোমার মেডিকেল রিপোর্টের কি খবর ?(অনুরোধ আমাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করলো)
—আমি এখন সেই বিষয়ে ভাবছি না।আর ভাবার সময়ও নেই।
—আর ইউ ক্রেজি মাধবী।এটা তোমার কাছে কোনো ভাইটাল বিষয় মনে হচ্ছে না?তাহলে আমাকে এভাবে ডেকে পাঠালে কেন!আশ্চর্য!
—কেন, আমি কি তোমায় ডাকতে পারি না?
—সেটা কথা না।দেখো যদি সত্যিই তুমি এক্সিডেন্টলি হলেও প্রেগনেন্ট হয়ে থাকো তবে তো আমাদের সেটা ভেবেই স্টেপ নিতে হবে।তাই না!
—প্লিজ, স্টপ দিস টপিক। আমি অন্য কিছু ভাবছি।
—কি ভাবছো,তোমার কাছে এই মূহুর্তে নিজের প্রেগনেন্সি ছাড়া কি এমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো।আমিও জানতে চাই।
—দেখো অনুরোধ আমি তোমাকে এখন অতোটা ক্লিয়ার করে বলতে পারবো না।কিন্তু আমার এখন একটা লোককে খুঁজে পাওয়া ভীষণ জরুরী!
—লোক….!কোন লোক??
—লোকটার নাম আন্দোলন লস্কর।
—তার সাথে তোমার কি সম্পর্ক??
—বিশেষ কিছু না,আবার অনেক কিছু…!
—কাম অন, তুমি কি বলছো এগুলো।আচ্ছা মাথা ঠিক আছে তো তোমার?
—আমার মাথা ঠিকই আছে।কিন্তু ঐ লোকটাকে খুঁজে বের করতে না পারলে হয়তো ঠিক থাকবে না।
—কেন, কি করেছে সে তোমার?
—আগে খুঁজে পাই তারপরে তোমাকে সব বলবো।তার আগে বলো তাকে খুঁজতে তুমি সাহায্য করবে আমায়।
—নিশ্চয়ই করবো।কিন্তু তাকে খুঁজবো কিকরে। কোনো ক্লু আছে তোমার কাছে।
—হ্যাঁ,তার বাসার ঠিকানা আছে আমার কাছে।অবশ্য সেখানে গেলে এখন পাবো কিনা জানি না।
(নার্সের মাধ্যমে আমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে আন্দোলনের বাসার ঠিকানা ম্যানেজ করেছি)
—আচ্ছা বুঝলাম।তুমি না হয় আমাকে পরেই সবটা বলো।এই মুহূর্তে আমাদের প্রথম কাজ লোকটার কাছাকাছি পৌঁছনো।
—ঠিক বলেছো।একবার পাই তাকে।তার সাথে অনেক হিসেব আছে আমার।
তিয়াশ আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে।বেচারা আমার অদ্ভুত ব্যবহারের আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না।আর বুঝবেই বা কিকরে।যতোক্ষন পর্যন্ত আমি কিছু না বলি।
আমরা সিধান্ত নিলাম পরের দিন সকালে লোকটার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবো।অনুরোধ আমার কাছে থাকার মনস্থির করলো।একেবারে এখানকার কাজ শেষ করে ফিরে যাবে ও।তার আগে নয়।সন্ধ্যাবেলা আমরা দুজনে মিলে কিছু রান্না বান্না করলাম।তারপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হই।অনুরোধ ছাদে একা একা পায়চারি করছে।ওর বিছানা রেডি করার জন্য ওর রুমে গেলাম।জিনিসপত্র এমনকি নিজের জামা কাপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার একটা বাজে অভ্যাস আছে ওর।এক কথায় যাকে বলে অগোছালো।অনুরোধ তার ব্যতিক্রম নয়।ওর বিছানা রেডি করে রুমের বাইরে পা বাড়াবো ঠিক তখন পায়ের কাছে কিছু একটা ঠেকলো।তাকিয়ে দেখি ওর ওয়ালেট পড়ে আছে।এতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কেউ এভাবে ফেলে রাখে।ওয়ালেটটা তুলে বিছানার ওপরে একটু জোরেই ছুড়ে ফেললাম।নিমেষে ভেতর থেকে কতোগুলো কাগজ পত্র,স্টাম্প সাইজের ছবি বেরিয়ে আসে। আমি এগিয়ে সেগুলো ঠিক করে রাখতে গেলাম।ওয়ালেটের ভেতর থেকে চার পাঁচটা ছবি বেরিয়ে এসেছি।এই যুগে এসেও মানুষ ছবি ক্যারি করে সত্যিই অদ্ভুত।ছবিগুলো উল্টিয়ে দেখতে লাগলাম।একটা অনুরোধের নিজের, সাথে আমার ছবিও আছে দেখছি।অনুরোধের বাবা মায়ের ছবিও আছে।ছবি আর কাগজ ওয়ালেটের জায়গামতো রাখার পরে দেখতে পাই আরেকটা ছবি ভুলে বাদ পড়ে গেছে।তার দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম।এতো আন্দোলনের ছবি…!!কিন্তু এই লোকটার ছবি অনুরোধে কাছে আসলো কিকরে?তাহলে কি অনুরোধ চেনে তাকে!যদি তাই হবে আমার কাছে অস্বীকার করলো কেন….??
ছবি আর কাগজ ওয়ালেটের জায়গামতো রাখার পরে দেখতে পাই আরেকটা ছবি ভুলে বাদ পড়ে গেছে।তার দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম।এতো আন্দোলনের ছবি…!!কিন্তু এই লোকটার ছবি অনুরোধে কাছে আসলো কিকরে?তাহলে কি অনুরোধ চেনে তাকে!যদি তাই হবে আমার কাছে অস্বীকার করলো কেন….??
একটু পরেই অনুরোধ এসে ওর রুমে ঢুকলো।আমি ছবিটা হাতে নিয়ে এগিয়ে যাই ওর দিকে।
—এই লোকটাকে তুমি চেনো…??
—হ্যাঁ,না চিনলে আমার কাছে ওর ছবি আসলো কিকরে?কেন কি হয়েছে?
—তাহলে তখন অস্বীকার করলে কেন?
—কি বলছো তুমি এসব,কখন অস্বীকার করেছি?
—আমি যখন আন্দোলনের কথা বললাম।তখন না চেনার ভান করলে কেন তুমি?
—আন্দোলন,কে আন্দোলন?তোমাকে কে বললো ওর নাম আন্দোলন।
—নাহ,আমাকে প্লিজ একদম মিথ্যে বলো না।আমি জানি এই লোকটার নাম আন্দোলন।একে দেখেছি আমি আগেও।
—কাম অন মাধবী।এটা আমার বন্ধু বর্তমান।পুরো নাম বর্তমান শেখ।
অনুরোধের কথা শুনে মাথা ঘুরে গেল আমার।ও কিনা এই জঘন্য লোকটাকে নিজের বন্ধু বলে দাবি করছে।
—কি বললে,এ তোমার বন্ধু!তুমি আগে তো কখনো বলোনি ওর কথা।
—বলিনি কারণ ওর প্রসঙ্গ ওঠে নি কখনো তাই।তাছাড়া ও দেশে ছিলো না।কয়েকবছর হলো এসেছে।
—তার মানে তুমি একে ভালো করেই চেনো, জানো এর সব ব্যপারে?
—হুমম…আমার খুব কাছের এবং ভালো একজন বন্ধু।দেখতে পাচ্ছো না আমি যার ছবি ক্যারি করি তার সাথে কেমন রিলেশন হতে পারে!
—আচ্ছা ভালো,তাহলে তো ভালোই হলো।
—কি ভালো হলো?
—আমি ওনার সাথে দেখা করতে চাই… কথা বলতে চাই ওনার সাথে?
—মানে কি,চেনা নেই জানা নেই।তুমি কথা বলতে যাবে এমন একজন মানুষের সাথে।
—কে বলেছে চেনা নেই।তুমি একবার দেখো আমি ওর সামনে দাঁড়ালে ওর মুখটা ঠিক কিকরম হয়।
—তুমি কি বলছো বুঝতে পারছি না আমি কিছু,
—-তোমায় আমি পরে সব বলবো।আগে ঐ লোকটার কাছে নিয়ে যাও আমায়।ওর সাথে প্রচুর হিসেব আছে আমার।
—আচ্ছা একটা কাজ করলে কেমন হয়,ওকে বরং এখানেই ডেকে পাঠাই।
—না একদম না,আমি নিজে যাবো দেখা করতে ওর সাথে।
—ঠিক আছে।বাট তোমার হাবভাব দেখে আমি ভুলেই যাচ্ছি তুমি একজন ডাক্তার।ডিটেকটিভদের মতো ব্যবহার করছো।
আমি এরপর অনুরোধের ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছি লোকটা নিজের নাম পরিবর্তন করে এসেছিলো হাসপাতালে।ও আসলে বর্তমান,আন্দোলন নয়।ভাবতেই পারছি না এই লোকটা আমার হবু স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।অথচ আমি সেটা জানিই না।লোকটা যেই হোক না কেন,এর পেট থেকে আসল সত্যিটা বের করতেই হবে আমাকে।তাতে যদি আমাকে জেলে যেতে হয় তাতেও আমার কোনো আপত্তি নেই।কিন্তু আমার বোন আর তার সন্তানের এতো বড়ো সর্বনাশ কেন করলো সেটা জানতেই হবে আমাকে।আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আগামীকালকেই লোকটার সাথে দেখা করতে যাবো।
–
–
–
–
পরের দিন সকালে।অনুরোধ আর আমি রেডি হয়ে বর্তমানের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।সকাল বললে ভুল হবে।অনুরোধের জন্য বেরেতো বেশ লেইট হয়ে যায়।যেখানে নয়টার দিকে বেরেনোর কথা সেখানে এগারোটা বেজে গেলো।গাড়িতে বসে আছি দুজন।অনুরোধ আমার পাশেই।আমাকে উদ্দেশ্য করে অনুরোধ বলে উঠলো…
—-আমাদের যেতে কিন্তু একটু সময় লাগবে।অনেকটা দূরের পথ।
—অনেকটা দূরের মানে, কতক্ষণ লাগবে।দুপুরের আগে পৌঁছবো তো?
—না, বিকেল হয়ে যাবে।সন্ধ্যাও হতে পারে।
—কি!!!!
—এখন আকাশ থেকে পড়লে কেন?তখন তো বললাম আমি ওকে ডেকে পাঠাই।তখন তুমি নিজেই ব্যাগড়া দিলে।এখন বোঝো।
—ঠিক আছে ব্যপার না।যতো সময় লাগে লাগুক।ঐ লোকটাকে ধরতে পারলেই হলো।
—হুম,সময় লাগবে।
—আচ্ছা এখন কি আর যোগাযোগ নেই তোমাদের ভেতরে আর।
—না,এই জাস্ট টকিং টার্মটুকুই আছে।আসলে কারোরই সময় হয়ে ওঠে না সেইভাবে।
গাড়ি তার আপন গতিতে চলতে থাকে।দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়।অনুরোধের আর একটু পথ শুনতে শুনতে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে এলো।অবশেষে বর্তমানের বাড়িতে পৌঁছতে সক্ষম হলাম আমরা।অনুরোধের সাথে বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম।কেয়ার টেকার আমাদের দুজনকে ড্রয়িং রুমে বসতে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলেন।
—এটা সত্যি তোমার বন্ধুর বাড়ি তো?
আমি কৌতুহল বশত অনুরোধকে প্রশ্ন করি।
—আশ্চর্য, তো কি আমি এমনি এমনি নিয়ে আসলাম তোমায় এখানে!
—কাউকেই তো দেখতে পাচ্ছি না।সে কি বাড়িতে নেই নাকি।
—আছে আছে, বাড়িতেই আছে।একটু পরেই চলে আসবে।
অগ্যতা লোকটার জন্য ওয়েট করতে থাকি।জানি না সে কখন আসবে।অনুরোধের সাথে আর কোনো বাক্যালাপ হলো না।কিছুক্ষণ পরে আমাদের সকল অপেক্ষায় অবসান ঘটিয়ে লোকটা উপর থেকে নেমে আসলো।আমি তাকে দেখা মাত্রই দাঁড়িয়ে গেলাম।
—হ্যাঁ, সত্যিই তো।এ তো সেই লোকটাই।অর্থাৎ আমার বোনের স্বামী।যে কিনা তার সন্তানকে হত্যা করিয়েছে আমার দ্বারা।
লোকটার বেশভূষা একদম ভালো লাগলো না আমার।শরীরে কোনো কাপড় নেই।কোমড়ে একটা টাওয়াল জড়ানো।দেখে মনে হচ্ছে এইমাত্র গোসল সেরে এসেছে।তাই বলে কেউ এভাবে কারো সামনে আসে…?
লক্ষ্য করলাম তার হাতে একটা সিগারেট।সেটা নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছে।সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।
আমি এগিয়ে যাই তার দিকে।
—আমি সেই তো যে আমার হাসপাতালে এসেছিলেন নিজের অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে!
—হ্যাঁ,আমিই গিয়েছিলাম।আর শুধু তাই নয় তার গর্ভে যে বড়ো হচ্ছিল তাকেও শেষ করেছিলাম।আর সেই কাজটা কে করেছিলো,….!?
—দূর্ভাগ্যবশত সেই কাজটা আর কেউ নয়। আমিই করেছিলাম।এটাই ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।
—রাইট।একদম রাইট।তো এখন কেন এসেছো আমার কাছে।কি চাই….
একটা অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করলাম।ইনি তো অনুরোধের খুব কাছের বন্ধু।তাহলে এভাবে ওকে ইগনোর করে আমার সাথে কথা বলছে কিভাবে।একবার তাকালো পর্যন্ত না অনুরোধের দিকে।নিজের অন্যায়ের কথা এভাবে স্বীকার করে দিচ্ছে বন্ধুর সামনে!সত্যিই অদ্ভুত।এই ভেবে পেছনে ফিরে তাকালাম আমি।এরপর যে দৃশ্য দেখতে পাই নিজেকে আর স্থির রাখতে পারলাম না।
অনুরোধের হাতে একটা পিস্তল।আর সেটা আমার দিকে তাক করে বসে আছে,ওর চেহারার এক্সপ্রেশন যেন পাল্টে যাচ্ছে এক মূহুর্তে…!!!
2 Responses
Alright, risk-takers, I stumbled on 24kbetbet.com. Anyone placed any bets here? Is it legit? Trying to size it up before I throw down any serious cash. Good luck and learn more at 24kbetbet.
OK9betvn? Chắc là ‘ok’ lắm đây. Để thử vào xem có ‘ok’ như cái tên không đã. Hy vọng là không làm tôi thất vọng. Come on ok9betvn.