আজ মায়ার বিয়ে। যার সাথে মায়া বাসর ঘরের স্বপ্ন দেখেছিল যাকে ও ৬ বছর ধরে ভালবেসে এসেছে তার সাথে নয় অন্য কেউ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য মায়ার প্রেমিকের বন্ধু ইমরানের সাথে আজ ওর বিয়ে৷ ভিতরটা শেষ হয়ে যাচ্ছে মায়ার। যাকে ৬ টা বছর পাগলের মতো ভালবাসলো আজ তাকে বিয়ে না করে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু মানে ইমরানকে বিয়া করতে হচ্ছে। এই বিয়ে কী মায়ার মতের বাইরে?? উত্তরটা হ্যাঁ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সত্যিকারে উত্তরটা হলো না। বিয়েটা সম্পূর্ণ মায়ার ইচ্ছাতেই হচ্ছে। শুনতে খুব আশ্চর্য লাগলেও এটাই বিষাক্ত এক সত্যি। কারণ মায়ার বাবা এখন বর্তমানে হাসপাতালে। তার হার্টে রিং বসাতে হবে। নাহলে তার মৃত্যু অনিবার্য। এই অপারেশনের জন্য লাগবে অনেক অনেক টাকা। যা ওদের কাছে নেই। কিন্তু ইমরান এই অপারেশন সহ ওদের যাবতীয় সব কিছুর খরচ এবং দায়িত্ব সে নিতে চায়। বিনিময়ে সে শুধু মায়াকে চায়। মায়া এ কথা শুনা মাত্রই আবিরকে সব জানাই। আবির মায়ার কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে যায়। ওর চুপ করে থাকা ওকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলো যে আবির কি চাচ্ছে। মায়া ফোনটা রেখে দেয়। আর বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। কারণ,
আবির ইমরানের অফিসেই কাজ করে। ইমরানের বাবা এ শহরের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির একজন। পড়ালেখা শেষ করার পর ইমরান ওদের কোম্পানির একটা অফিসের দায়িত্ব নেয়। আর আবিরকেও ওর সাথে অফিসে কাজ দেয়। আবিরের পরিবার মধ্যবিত্ত বা গরীবই বলা যায়। ওর বাবা নেই। শুধু মা আছে। ও বেশ ভালো টাকাই আয় করে। ইমরান ওকে বেশ ভালোই বেতন দেয়। অফিসের নাম বলে ইমরান ওকে একটা ফ্ল্যাটও গিফট করেছে। আবির নিজেও অবাক ইমরানকে দেখে। এই ইমরানই একদিন আবিরের চরম শত্রু ছিল। কিন্তু ভার্সিটির ২য় বর্ষে এসে ওরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে যায়। কারণ ইমরানই প্রথম বন্ধুর হাতটা বাড়ায়। আবির আর না করে নি। সেদিন থেকেই আবির আর ইমরান খুব ভালো বন্ধু। ওদের বন্ধুত্ব এত্তো গভীর ছিল যে সবাই হিংসা করতো। ইমরানের টাকা থাকায় পড়াশোনা তেমন করতো না। শুধু পরীক্ষার সময় এসে আবিরেরটা দেখে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতো। আবার ইমরানও আবিরকে অনেক সাহায্য করতো অার্থিকভাবে। তাই বলা যায় এই শহরে আবির যদি আজ শান্তিতে ঘুমাতে পারে তাহলে একমাত্র ইমরানের জন্যই৷ আবির কেন চুপ হয়ে গিয়েছিল মায়া তা জানে এবং বুঝে। শুধুমাত্র ওর মায়ের জন্য আর মায়ার বাবার জন্য আবির চুপ হয়ে যায়। আজ যদি ইমরানের কাছে গিয়ে আবির বলে, “দোস্ত আমি মায়াকে ভালবাসি। তাহলে ইমরান সব বন্ধ করে দিবে। আবির ওর মাকে নিয়ে পথে বসবে আর মায়ার বাবা…। তা আর নাই বলি। মায়া সব বুঝতে পেরেছে।
মায়া জানে আবির এখন বুক ফাটিয়ে কাঁদছে। ও যে মায়াকে কতটা ভালবাসে তা ওর থেকে বেশী কেউ জানে না। কিন্ত ওরা দুজনই যেন মোটা শক্ত এক শিকলে বাঁধা পড়েছে। শিকলটা ছেড়ে যে ওরা এক হবে সেই রাস্তাটুকুও নেই। আবিরের সাথে মায়ার পরিচয় সেই কলেজ লাইফ থেকে। একটা বছর মায়ার পিছনে ঘুরেছে আবির। মায়া পাত্তাই দেই নি। কিন্তু হঠাৎ আবির কয়েকদিনের জন্য যখন হারিয়ে যায় মায়া তখন যেন পাগল হয়ে গিয়েছিলো আবিরকে এক নজর দেখার জন্য৷ এক সপ্তাহ পর আবির ফিরে আসলে জানতে পারে ও অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাও শুধু ওর জন্যই৷ কারণ সেদিন আবির খুব বৃষ্টিতে ভিজেছিল মায়ার জন্য ওকে একটু দেখবে বলে। কিন্তু মায়া ওকে দেখা দেয়নি। সেদিন থেকেই আজ অবধি হয়তো আর কিছু মূহুর্ত মায়া আবিরের স্মৃতি নিয়ে একসাথে আছে। তারপর মায়া সারাজীবনের জন্য ইমরানের হয়ে যাবে।
দিনের অর্ধভাগে এসে পারিবারিক ভাবে মায়া আর ইমরানের বিয়েটা হয়ে যায়। মায়া হাজার বার চেয়েও পারে নি বিয়েটা ভাঙতে। বারবার অসুস্থ বাবার মুখটা সামনে ভেসে উঠছিল। এরপর খাওয়া দাওয়া আর বাকি সব কিছু শেষ হতে হতে রাত হয়ে যায়। আবির বিয়েতে আসে নি। ইমরান অনেক ফোর্স করেছে। নিজেই গিয়েছিল আনতে। কিন্তু আবির খুব অসুস্থতার অভিনয় করে ইমরানকে পাঠিয়ে দেয়। কীভাবে আসবে এই বিয়েতে আবির?? ইমরানতো জানেনা ওর বন্ধুর ভালবাসার সাথেই ওর বিয়ে হচ্ছে৷ আবির কখনো ওর বন্ধু মহলে মায়ার কথা বলেনি বা চিনায় নি। মায়াও একই কাজ করেছে। ওরা লুকিয়ে লুকিয়ে একে অপরকে অনেক ভালবাসত। আবির যেন ঘোর অন্ধকারে পড়ে গিয়েছে। এতো বছরের ভালবাসা মূহুর্তেই শেষ হয়ে যাবে। কিছু যে করবে তাও পারছে না। মায়ের মুখটা বারবার চোখের সামনে চলে আসে। ওদিকে আবার মায়ার বাবা। আবির কিছু ভাবতেই পারছে না। আবিরের মা এসে বলে,
~ বাবা তোর কি হয়েছে?? এভাবে কাঁদছিস কেন?? আজ ইমরানের বিয়ে সেখানেও গেলি না। আবার বললি অসুস্থ। কিন্তু গাতো ঠান্ডা। তোর কি হয়েছে আমাকে বল বাবা। (অসহায় ভাবে)
– মা আমার জীবন থেকে তোমার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস হারিয়ে যাচ্ছে৷ আমি চেয়েও তাকে থামাতে পারছি না। (কাঁদো কণ্ঠে)
~ বাবা আমাকে বল কি হয়েছে?? আমি যদি কোন রাস্তা বের করে দিতে পারি।
– কোন রাস্তাই আর ফাঁকা নেই মা। সব বন্ধ৷ আজ টাকার জন্য ভালবাসার কোন মূল্যই রইলো না। মা টাকা কী আমাদের জীবনে এতোই মূল্যবান?? টাকাই কি সব??
~ বাস্তবতা এটাই বাবা। টাকা ছাড়া এক মূহুর্তও যেন শান্তির নিঃশ্বাস নেওয়া যায়না। দুনিয়াটা ভালো করে দেখা যায়না। কিন্তু তোর কি হয়েছে বাবা?? দয়া করে বল।
– টাকার কাছে হেরে গিয়েছি মা টাকার কাছে। আর কিছুই তোমাকে বলতে পারবো না। আমাকে একটু একা থাকতে দেও।
আবির যথেষ্ট বড়। ওর মা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে এই বলে চলে গেল যে,
~ বাবা সব ঠিক হয়ে যাবে। তুই এভাবে কাঁদিস না। মা হয়ে ছেলের কান্না যে সহ্য হয়না। জানি না তোর কি হয়েছে। তবে আল্লাহ যেন তোকে কোন কষ্ট না দেয়।
আবির মনে মনে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
– মা আমার প্রিয় পাখিটা যে হারিয়ে গিয়েছে। আর তাকে কখনো পাবো না৷ সব শেষ। (কাঁদতে কাঁদতে)
মায়া এখন ইমরানের বাসর ঘরে। ওর স্বপ্ন ছিল একদিন এভাবে বঁধু সাজে বসে থাকবে। আবির এসে ওর ঘোমটা তুলে ওকে অনেক ভালবাসবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কাঁচের আয়নার মতো ভেঙে গিয়েছে। বিষাক্ত বর্তমান মায়াকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে এখন। মায়ার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। এ যেন নিশ্চুপ কান্না। আজ মায়া আবিরকে একেবারে হারালো। মায়া ভাবছে, সবকিছুর মূলে এই টাকা। আবির যা আয় করে তা যদি সবও দিয়ে দিত তাও মায়ার বাবার চিকিৎসা হতো না। অনেক টাকার চিকিৎসা এটা। আবিরের কাছে ছুটে যাওয়ার কথা ভাবলেই অসুস্থ বাবার মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে মায়ার। সবচেয়ে বড় সত্য মায়া এখন ইমরানের স্ত্রী।
মায়া দেখতে ঠিক আবিরের কল্পনায় যে একটা মেয়ের ছবি আছে সে রকম। খুব মিষ্টি একটা মেয়ে। যার মুখে আছে একরাশ মায়া। দেখলেই যে কেউ মায়ায় পড়ে যাবে। আবির ওকে ভালবেসে মায়াবতী বলে ডাকতো। ফর্সা মুখে ভার্জিন ঠোঁটটা ছিল সবচেয়ে আকর্ষনীয়। তারপর আসতো চোখ। বড় বড় পাপড়ির আড়ালে ভাসানো চোখ দুটো ছিল ভীষণ সুন্দর। নাকটাও ছিল বেশ সুন্দর। আর মেদহীন শরীর। সবমিলিয়ে মায়া ছিল রাজকন্যা। এই রাজকন্যাটা ছিল শুধু আবিরের৷ কিন্তু হঠাৎ এক ঝড়ে সবকিছু উল্টো পাল্টো করে দিল।
মায়া চুপচাপ বসে আছে। হঠাৎই ও শব্দ পেল রুমে কেউ ঢুকেছে। নিশ্চয়ই ইমরান। মায়া ফিল করছে কেউ একজন ওর দিকে এগিয়ে আসছে। ওর কাছে এসে সে বসল। এটা ইমরান ছাড়া হয়তো আর কেউ না। মায়া মনে মনে বলছে, আল্লাহ এই ঘোমটা সরে গেলে কি আবিরকে দেখতে পারবো?? এটা যদি আবিরই হয়। মায়া জানেনা ওর এই ঘোমটার ওপারে কে বসে আছে। ওর মন চাচ্ছে আবিরই যেন ঘোমটা টা উঠায়। কোন অলৌকিক কিছু হয়ে যাক। ইমরানের জায়গায় আবির এসে যাক।
মায়ার উপর থেকে ঘোমটা সরে গেলে মায়া তাকিয়ে দেখে যে….
2 Responses
Alright, folks, 333betcasino! Gotta say, I gave them a whirl the other day. The slots selection? Not bad at all! Pretty standard stuff, but I had some decent luck. Worth checking out if you’re looking for a new place to spin. Just remember to play responsibly! You can find them here: 333betcasino
Heard 95VNslot’s got some pretty decent slots. Might give them a whirl later. See if it’s worth the hype. Find the latest games at: 95vnslot