অদৃশ্য_মানব #পর্বঃ০২

তুই এই গ্রামে নিজে থেকে আসিস নি!! আমি তকে এই গ্রামে নিজে টেনে এনেছি!! নীলা এই কথাটা শুনে খুবই ভয় পেয়ে গেলো!! নীলার পুরো রুমে কেউ একজন উচ্চস্বরে হাসছিল!! নীলা এতটাই ভয় পেয়ে গেল যে ও ওর মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে!! কাউকে ডাকতে ও পারছে না!!! ভয়ে ওর গলার কন্ঠ স্বর স্তব্ধ হয়ে গেছে!! নীলা ওর ফোনটা খুজতে থাকলো!! কিন্তু ফোনটা খাটের নিচে পরে ছিল!!
নীলা ফোনটা খাটের নিচ থেকে তুললো!! আর ফোন এর টর্চ জ্বালাতে চাইলো!! কিন্তু আজব ঘটনা কী জানেন?? মোবাইলের টর্চটা জ্বলছিল না!! নীলা আরো বেশি ভয় পেয়ে গেল!! নীলা মনে মনে আয়তুল কোরসি পাঠ করতে চাইলো কিন্তু পারছিলো না!! কারন ভয়ের চুটে ও সব ভুলে গেছে!! নীলা ওর বান্ধুবীকে একটা মেসেজ করলো আর বললো আয়তুল কুরসি টা সম্পূর্ণ লিখে পাঠাতে!!
ওর বান্ধবী জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে?? নীলা বললো এখন কিছু বলতে পারবো না!! যা বলছি তা তারা তারি কর!! নীলার বান্ধবী পুরো আয়তুল কুরসি টা লিখে পাঠালো!! নীলা দেখে দেখে আয়তুল কুরসি টা পড়তে শুরু করে দিল!! কিছুক্ষণ পড়ার পর নীলা খেয়াল করলো এখন তার রুমের আওয়াজ টা একটু কমেছে!! নীলা সেই দিন রাতে আর একটু ও ঘুমায় নি!!
সারা রাত আয়তুল কুরসি ও দোয়া পাঠ করেছে!! ফজরের আজান হয়ে যাওয়ার পর নীলা ঘরের বাইরে চলে আসলো!! আর এসেই নীলা ওর বাবাকে ফোন করলো!! আর ওর বাবাকে সব খুলে বললো!! নীলার বাবা কথাটা শুনে খুবই অবাক হয়ে গেল!! তার মানে এই জিনিস টা আমার মেয়ের পিছন পিছন ওখানেও পৌছে গেছে!! নীলার বাবা বললো তুই ভয় পাস না মা!! আমরা আজকেই তোর ওখানে চলে আসছি!!
নীলার বাবা তৎক্ষনাৎ গ্রামের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলো!!!নীলার বাবা তার নিজের গাড়ি করেই আসছিলো!! তিনি প্রায় গ্রামে এসে পরেছে!! গ্রামের প্রবেশ পথে তিনি খেয়াল করলেন একজন ছেলে ওনার জন্য দাড়িয়ে আছে!! ওনি গাড়ি থামালেন!! আর ছেলেটা বললো নীলা আমাকে পাঠিয়েছে আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে!! নীলার বাবা ছেলেটাকে গাড়িতে উঠতে বললো!!
ছেলেটা গাড়িতে উঠে পরলো!! নীলার বাবা ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলো তুমি নীলাকে কি ভাবে চেন?? ও তো শহরে থাকে!! ছেলেটা কোন কথা বলছে না শুধু চুপ করে আছে!! নীলার বাবা আবার ও জিজ্ঞেস করলো বলো কী ভাবে চেন??
ছেলেটা বললো আমি তো ওকে অনেক আগে থেকেই চিনি!! আমি তো ওর পিছনে পরে আছি!! নীলার বাবা কথাটা শুনে অবাক হলো!! আর ওনি পিছনে তাকিয়ে অবাক!! ছেলেটা উধাও!! ছেলেটা গাড়িতে নেই!! নীলার বাবা খুবই অবাক হয়ে গেলো!!
ওনি গ্রামের বাড়িতে পৌছে গেল!! কিন্তু কাউকে কিছু জানালেন না!! বিকেল বেলা নীলার বাবা নীলাকে নিয়ে একটু হাটতে বেরিয়েছিল!! গ্রামের পাশের বট গাছের নিচ দিয়ে তারা যাচ্চিলো!! হঠাৎ পাগলের মতো চুল আর দাড়ি গুলো লম্বা লম্বা দেখতে একটা লোক নীলাকে দেখে বললো!! তুই নীলা না?? কেন এসেছিস এই গ্রামে!! যদি বাঁচতে চাস তাহলে এখনি এই গ্রাম থেকে চলে যা!!!
লোকটার কথা শুনে নীলা আর ওর বাবা খুবই ভয় পেয়ে গেলো!! নীলার বাবা লোকটাকে জিজ্ঞেস করলো পাগলের মত কি বলছেন এই সব?? যতসব পাগলের মতো কথা!! কিন্তু নীলা খুবই ভয় পেলো!! কারন লোকটা কি ভাবে নীলার নাম জানতে পারলো?? কী করেই বা জানলো নীলা এই গ্রামে প্রথম এসেছে!!
নীলা ওর বাবাকে বললো চলো এখান থেকে বাবা!! আমরা বাড়ি ফিরে যাই!! নীলা আর তার বাবা গ্রামে তাদের বাড়ি ফিরে এলো!! বিয়ে বাড়ি তো একটু কোলাহল পূর্ন ছিলো!! নীলার বাবা নীলাকে জিজ্ঞেস করলো যে তুই আমাকে আনতে কাউকে কী পাঠিয়েছিলি?? নীলা বললো কই না তো!! আমি তো এখানে কাউকে ঠিক মতো চিনি না!! কি করে কাউকে পাঠাবো!! আর তুমি তো এই গ্রামের সব কিছু চিনই! কিন্তু কেন বাবা?? কি হয়েছে??
নীলার বাবা নীলাকে কিছু বললো না!! হয়তো এই কথা শুনলে ও আরো ভয় পেয়ে যাবে!! যে রাস্তায় ওর সাথে দেখা হয়েছিলো যে নীলার পিছনে পরে আছে!! নীলার বাবা বুঝতে পারেন যে এই জায়গা টাও নীলার জন্য নিরাপদ নয়!! ওনি ভাবলেন কাল বিয়েটা মিটে গেলেই নীলাকে এখান থেকে নিয়ে চলে যাবেন!! নীলাকে ওর বাবা ডাকলো আর বললো সব গুছিয়ে রাখতে যে কাল বিয়েটা মিটে গেলেই আমরা শহরে চলে যাবো!!
আজ বিয়ে!! বিয়েটা ভাল ভাবেই মিটেছে!! কোন ঝামেলা ছাড়াই!! নীলার বাবা ভাবলো যাক এবার শহরে ফেরা যাবে!! তারা রেডি হলো শহরে চলে আসার জন্য!! কিন্তু ঠিক সেই মূহুর্তে কে যেন বললো বাড়ির একটা ৫ বছরের ছোট ছেলেকে নাকি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না!! সবাই মিলে খুজতে শুরু করে দিলো!! কিন্তু ছেলেটাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না!! বিয়ে বাড়িটা নিমিষেই থমকে গেলো!! পুরো বাড়ির লোকজন ছেলেটাকে খুজতে ব্যাস্ত হয়ে পরলো!!
প্রায় সারাদিন খুজা খুজির পর!! সন্ধায় ওই ছেলেটাকে খুজে পাওয়া গেলো!! কিন্তু জীবিত না মৃত অবস্হায়!! ছেলেটার লাশটা বাড়ির পাশের পুকুর থেকে পাওয়া যায়!! কিন্তু নীলার বাবা একটা বিষয় খেয়াল করলো!! ওই হুজুরের মৃত্যুর পর শরীরে যেমন দাগ ছিলো এই ছেলেটার শরীরেও ঠিক একই দাগ!! নীলার বাবা দাগ গুলো দেখে চমকে উঠলো!!
ওনি বুঝতে পারলো এটা ওরি কাজ!! আমাদের এই গ্রামে ধরে রাখতেই ও এই ছেলেটাকে মেরে ফেলেছে!!যে হুজুরকে মেরেছে!! পুরো বিয়ে বাড়িটা মরা বাড়িতে পরিনত হলো!! নীলা তার রুমেই শুয়ে ছিলো!! কেবল সন্ধা হয়েছে!! বাইরে বৃষ্টিও শুরু হয়ে গেছে!! নীলা শুনতে পেলো সেই অট্টহাসি!! কেউ একজন চিৎকার করে হাসছে!!
কী ভয়ঙ্কর কন্ঠ!! জোরে জোরে হাসছে আর বলছে কী ভেবে ছিলি?? এখান থেকে চলে যাবি?? তোর কি মনে হয় তুই এখানে আজ তোর নিজের ইচ্ছেতে থেকেছিস?? আরে আমি তকে এখানে আটকে রেখেছি!!!!তুই যেই খানেই যাস না কেন আমি তোর পিছন ছাড়বো না!! নীলার পুরো রুম কারো অট্টহাসিতে ফেটে যাচ্ছে!! নীলা একটা চিৎকার দিয়ে উঠলো!!

Be the first to write a review

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প