আদম খোর পর্বঃ শেষ

রকি মুহুর্তেই এতো টা ভিত হয়ে পড়লো যে তার কেবল মাত্র ই রনির কথা মনে পড়ছিলো কেননা তার পিছনে যে ছিলো সে রনি না অন্য কিছু তাহলে রনি কোথায় ছোট্ট বেলায় তার বাবার সাথে ঘটে যাওয়া সেই দিন টির কথা মনে পড়ে গেলো রকির ওই দিনের ঘটনার পর রকি রনি দুইজন ই অনেক শাশ্র বিদ্যা রপ্ত করেছিলো রনি আর এক মুহুর্ত দেরি না করে কোমড় থেকে খুব সাবধানে গামছা টা খুলে কি যেন পাঠ করে গামছা টা আন্ধা গিট্টু দিয়ে দিলো।
তারপর হঠাৎ ই এক আর্তনাদে ভয়ে ভয়ে গাছের পাতা গুলাও কাপতে লাগলো আর্তনাদ টা রকির ঠিক পিছন থেকেই ভেসে এলো।
বার বার একই কথা বললো রনি রুপি ওই অশিরিরিটা ছেড়ে দে আমায় বাচতে চাইলে ছেড়ে দে।
রকি তার গামছার গিট্টু টা আরও শক্ত করলো এতে সেই চিতকার তিব্র থেকে তিব্রতর হলো।
রকি জিজ্ঞেস করলো আমার ভাই রনি কই তুই কি করছিস তার সাথে।
উত্তরে ওই অশিরিরি অট্রহাসি হাসলো যে হাসি কয়েক সেকেন্ডেই কারুর হৃদ স্পন্দন বের করার জন্য যথেষ্ঠ আর বললো রনি তোর সাথে নৌকাতেই আসেনি।
বলেই আবার তার ভিবতসো সেই অট্টহাসি হাসলো অশিরিরি যা দেখে রকির পিলে চমকে গেলো মুখ থেকে যেন আগুনের গোলা বের হচ্ছে। অশরিরি শুধু এই টুকুই বললো রনি তোর সাথে নৌকা অব্দি আসেনাই এ বলে সে আবার ভয়ানক সে অট্টহাসি তে মেতে গেলো। দুরে কোথাও কুকুর গলা ছেরে ভয়ার্ত আর্তনাদ করছিলো।
রকি মোটামুটি ভাবে সাহস সঞ্চয় করে বললো তোর এই বাধন আমি কখনই মুক্ত করবো না এখন আমার ভাই হয়ে তুই আমাদের সাথে থাকবি আর সব কাজ করে দিবি।
যেহেতু অশিরিরি বান অবস্থাতে ছিলো তাই তার রকির কথা মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না।
মাছ ধরা শেষ করে রকি ওই রাস্তা ধরেই বাড়ি গেলো যে রাস্তা ধরে তারা মাছ ধরতে এসেছিলো।
ঝোপের এক পাশে পড়ে আছে রনির নিথর দেহো দেখে মনে হচ্ছে কেউ শুষে নিয়েছে তার শরিরের সব রক্ত জরিয়ে ধরে দুঃখ ভরা আর্তনাদে ভেংগে পড়লো রকি তারপর কাউকে কিছু না জানিয়ে মাটি চাপা দিয়ে দিলো আদরের এক মাত্র ছোট ভাই কে।
বাসায় ফিরে এসে রকি গিট্টু দেওয়া গামছা টা তার আলমারিতে রেখে দিলো আর তার মাকে বলে দিলো রনি যদি এই গামছা টা চেয়ে মরেও যায় তাও যেন তাকে না দেওয়া হয়।
অনেক গুলো বছর কেটে গেলো
ভালই কাটছিলো দিন গুলা
একদিন রকি তার বউ কে নিয়ে বউ এর বাপের বাড়ি গেলো।
এদিকে রনি নামের ওই অশিরিরি টা আলমারি থেকে গামছা টা চাইতেই মালতি দিয়ে দিলো ওই অশরিরির হাতে গামছা টা।
অশিরিরি তখন বললো মা গোসল করতে যাবো গামছার গিট্টু টা খুলে দাও আমি একটু আসি মালতি শাত পাচ না ভেবে গামছার গিট্টু খুলে দিলো রকির কথা গুলা তার একটুও মনে ছিলো না গামছার গিট্টু খুলে মালতি গামছা টা উঠানে রেখে নিজের কাজে চলে গেলো।
সুযোগ বুঝে ওই অশরিরি খোলা গামছা টা নিয়ে চলে গেলো।
তখন ছিলো ঠিক কালি সন্ধা নির্জন রাস্তা কোথাও কোন মানুষের চিহৃ পর্যন্ত ও নাই
বউ কে রেখে রকি তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো খালের পাশ দিয়ে হঠাৎ এক অজানা ভয় রকিকে গ্রাস করে ফেললো
এই দিন দুপুরেও রকির শরিরের উপর দিয়ে এক শিতল বাতাস বয়ে গেলো রকির বার বার ই মনে হচ্ছিলো কে যেন তার ঠিক পিছনেই হাটছে তার সাথে পায়ে পা মিলিয়ে রকি পেছন ফিরে তাকালো কেউ ছিলো না।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার পা বাড়ানোর জন্য যেই পা বাড়ালো সামনে দাড়িয়ে ছিলো সেই অশিরিরি টা যা কোন একদিন কেড়ে নিয়েছিলো রনির প্রান পাখি।
সন্ধায় রকির ফিরে আসার কথা এখন প্রায় রাত হতে চললো মালতি ছেলের চিন্তায় ভিবোর হয়ে গেলো এদিকে রনিও গোসল করার নামে যে গেলো আর আসলো না মালতির সারা শরির জুরে অজানা এক ভয় ছুয়ে গেলো সে কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলো না।
এমন সময় বাইরে থেকে লোকজনের হৈ চৈ শুনা গেলো নদীর ঘাটে লাশ নদীর ঘাটে লাশ।
মালতির মনে হলো তার কলিজা টা এক টানে কে যেন ছিড়ে নিচ্ছে।
মালতি আর স্থির থাকতে পারলো না এক দৌড়ে চলে গেলো নদীর ধারে গিয়ে দেখলো
অর্ধেক মাটিতে ডুকানো রক্ত শুন্য একটা লাশ। অন্ধকারের কারনে চোখে ঠিক মতো ঠাওর করতে না পারায় লাশ টার সামনে গেলো।
এযে তার ই ছেলে রকি সাথে সাথে জ্ঞান হারালো মালতি। জ্ঞান যখন ফিরে এলো ততোক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে রকির সতকারের সব কাজ হয়ে গেছে।
আজও মালতি পথে পথে ঘুরে বেড়ায় কারন জানার জন্য কি হয়েছিলো রকির সাথে ওই দিন আর খুজে বেড়ায় তার আরেক ছেলে রনি কে।

Be the first to write a review

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প