অনেক বছর আগে জয়দেব পুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা।
সেই সময় জয়দেব পুরে হিন্দু বাস ছিলো গ্রামের পর গ্রাম হিন্দুদের বাস ছিলো হাতে গুনা কয়েকটা মুসলমান পরিবার ছিলো জয়দেব পুরে।
এমন ই এক অজপারাগায়ে বাস করতো মালতি আর তার স্বামি ভুপেন।
লোকালয় থেকে বেশ খানিক টা দুরে একটি ঝুপড়ির মতো জায়গায়।
দুই সন্তান আর স্বামি নিয়ে পরিবার ছিলো মালতির।
দারিদ্র আর অসচ্ছলতায় ভরপুর ছিলো তাদের সংসার।
মালতির স্বামি ভুপেন অনেক দিন যাবত শয্যাসায়ি ছিলো।
এতোটাই অসুস্থ ছিলো ভুপেন যে তার বিছানা থেকে উঠার ও শক্তি ছিলো না।
ঘটনাটি ঘটেছিলো শ্রাবন মাসের একদিনে।
শ্রাবন মাসের শুরুর দিকের একটি রাতের ঘটনা এটা। সেদিন আকাশে এতো বড় চাদ ছিলো না।
সেদিন ছিলো গুটগুটে অমাবশ্যার রাত।
অমবশ্যার রাত ওই দিনের রাত কে এতো টাই ভয়ানক করে তুলেছিলো যে তা ভাবলে আজও গা শিউরে উঠে।
ওই দিন বিকেল থেকেই প্রচন্ড বৃষ্টি ছিলো বৃষ্টির রুপ এক সময় দানবের রুপ নেয়। আর বৃষ্টির সাথে মিলিত হয় ঝড় প্রচন্ড ঝড়।
মালতি একা তার স্বামির পাশে বসে ছিলেন মনে প্রচন্ড ভয় নিয়ে।
রাত তখন প্রায় ১০ টার মতো বাজে প্রচন্ড জোরে কাক ডাকাডাকি শুরু হয়ে যায়।
এতো রাতে এই ঝড়ের মাঝে কাকের এই রকম ডাকাডাকি শুনে মালতির হৃদয় স্পন্দন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
মালতি কি যেন ভেবে তার একটি হাত তার স্বামির কপালে রাখে কপালে হাত রেখেক মালতি আঁতকে উঠে তার কারন তার স্বামি মারা গেছে অনেক আগে শিতল একটি দেহ ভুপেনের পড়ে আছে ধরায়।
পুরো শরির বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আছে মালতি চিতকার করে হাত সরিয়ে নেয়।
কিন্তু এই ঝড়ের রাতে কি করবে কোথায় যাবে তা বুঝতে না পেরে অঝোরে কাদতে থাকে মালতি।
ঘড়ের এককোনায় নিথর হয়ে পড়ে আছে তার স্বামি ভুপেনের নিথর দেহ টি।
ঝড় চলছে তো চলছে প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পার হয়ে গেছে
তখন মধ্য রাত প্রায় গাঢ় অন্ধকার চারপাশ।
ঠিক এমন সময় তাদের পোষা কুকুর টা বিকট আওয়াজে চিতকার করতে লাগলো মনে হলো কোন হিংস্র জন্তু কুকুর টাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। মালতির শরির দিয়ে শিতল স্রোত বয়ে গেলো সে তার দুই শিশু কে কাছে বুকে টেনে নিয়ে ভয়ে গুটিসুটি মেরে বসে রইলো।
ওই মাঝ রাতে হঠাৎ মালতির ঘরের দরজায় কেউ করা নাড়ে
আর খুব ক্ষিন স্বরে চিকন আর ফ্যাসফ্যাসে গলায় মালতির নাম ধরে ডাকতে থাকে কন্ঠ শুনে বুঝা যায় বৃদ্ধা কোন মহিলা কন্ঠস্বর এটা।
সে বৃদ্ধা এক নাগাড়ে ডাকতে থাকে মালতি ও মালতি দরজা খোল দরজা খোল মালতি।
কয়েকবার ই এভাবে ডাক এলো দরজার ওপাশ থেকে।
মালতি কি করবে বুঝতে না পেরে অনেক ক্ষন পরে সাহস নিয়ে দরজার ঝাপ টা খুলে দেয়।
মুহুর্তেই মালতির প্রান যেন ফিরে এলো তার কোন এর অতি দুঃসম্পর্কের এক জেঠি এসেছেন। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় মালতি পড়ে খেয়াল করেছিলো বাইরে ঝুম বৃষ্টি হলো কিন্তু জেঠি মার শরিরের কোথাও একটা ফোটা বৃষ্টির আচড় ও লাগেনি।
সাদা বড় বড় চুল জেঠি মা হি হি করে হাসছে তার পান খাওয়া বড় বড় দাত গুলো বের করে।
জেঠি কে তাড়াতাড়ি ঘরে এনে ঘরের দরজা লাগিয়ে মালতি কেদে কেদে বলতে থাকে ভুপেন আর এই পৃথিবিতে নেই।
ভুপেনের সতকারের জন্য ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় মালতি আর তার জেঠি।
বাচ্চা গুলা ভয়ে এতো টাই কুকড়ে ছিলো যে তাদের আর নড়াচড়া করার মতো শক্তিও ছিলো না তাই মালতি ভাবলো বাচ্চা দুটো কে পাশের রুমে ঘুম পাড়িয়ে আসা যাক।
মালতি যখন বাচ্চা দুটোকে নিয়ে পাশের রুমে গেলো ঠিক তখনই ঘটেছিলো এ যাবত কালের সব চেয়ে লোমহর্ষক ঘটনা টি।
মালতি পাশের ঘর থেকে স্পষ্ট শুনতে পায় হাড় গোর ভাংগার কড়কড়ে শব্দ মটমট কটকটব এক জাতিয় শব্দ।
পাশের ঘড়ের বেড়ার ফাক দিয়ে যখন মালতি তার নিজের ঘড়ে উকি মারে তখন যেন তার প্রান বেড়িয়ে গেছে শরির থেকে।