আদম খোর পর্বঃ ২য়

পাশের ঘড়ের বেড়ার ফাক দিয়ে যখন মালতি তার নিজের ঘড়ে উকি মারে তখন যেন তার প্রান বেড়িয়ে গেছে শরির থেকে।
মালতি স্পষ্ট দেখতে পায় ভুপেনের কলিজা বের করে তার জেঠি কচ কচ করে খাচ্ছে আর অট্রহাসিতে মেতে আছে।
এই দৃশ্য দেখার পর মালতির সারা শরির বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়।
ভয়ে যখন মালতি পাথর হয়ে গেছে তখনই বাচ্চা গুলার কথা মনে করে মালতির বুকে একটু সাহস সঞ্চয় হয়। এবং মালতি একটা বুদ্ধি বের করে এবং পাশের ঘর থেকেই বলে উঠে
জেঠি বাচ্চার টয়লেট করতে বাইরে যাবে আমি ওদের বাইরে নিয়ে গেলাম এ কথা শুনেই জেঠি বেশের ওই অশিরিরি ভুপেনের লাশ টা ঠিক আগের মতই সাদা কাপড় দিয়ে ডেকে রাখে।
মালতি তার সন্তান দের নিয়ে বাইরে গিয়ে উঠেন পার হয়ে লোকালয়ের দিক প্রান পনে ছুটতে থাকে যে করেই হোক তার বাচ্চা দুটোকে বাচা তে হবে যে করেই হোক তাকে নিজেকে বাচাতে হবে বাচ্চা দুটোর জন্য প্রানপনে দৌড়াতে লাগলো মালতি । তারপর দিন সকাল বেলার ঘটনা মালতি যখন তার বাচ্চা দুটো সহ গ্রামের লোকজন নিয়ে তার খুপড়িতে আসে এসে একটি ভিবতসো অবস্থা দেখতে পায় সবাই। ভুপেনের লাশ টি ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় ছিড়ে ছুড়ে টুকরো টুকরো হয়ে আছে।
তার জেঠির কোন চিহৃ ও সে গ্রামে ছিলো না।
আজও সে ভয়ানক সৃত্মি ওই গ্রামের মানুষ কে তাড়া করে বেরায়।
আজও মানুষ ভরা অমাবশ্যায় তার নিজের ঘরের দরজা খুলতে ভয় পায়।
ওই ঘটনার কিছু দিন পর মালতি তার ছোট্ট দুইটা ছেলে কে নিয়ে ওই গ্রাম ছেড়ে দুরে কোন গ্রামে চলে যায়।
ছোট্ট একটা গ্রামে আবার ঘর বাধে সে তার ছোট্ট দুই ছেলে রকি আর রনি কে নিয়ে।
বড় ছেলের নাম রকি আর ছোট ছেলের নাম ছিলো রনি।
দেখতে দেখতে রকি আর রনি দুই ভাই ই বড় হয়ে গেলো কেটে গেলো অনেক গুলা বছর।
এতো গুলা বছর পরেও রকি ভুলতে পারেনি তার বাবার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা টা।
রকি নিজের ইচ্ছেতেই পিশাচ সিদ্ধ হলো ভুত প্রেত বান দেওয়ার সকল কায়দা কানুন রকি শিখে নিলো।
চলতে লাগলো এভাবেই তাদের সংসার।
গরিব হলেও খুব হাসি খুশিতেই চলে চলে যেতো তাদের সংসার।
পরিবার টির আয়ের এক মাত্র উপায় ছিলো মাছ ধরা।
রকি আর রনি খুব যত্ন করেই মাছ ধরার কাজ টা রপ্ত করলো।
পাশের বাড়ির গফুর মিয়ার কাছ থেকে।
রোজ রাতে দুই ভাই মিলে চলে
যেতো মাছ ধরার জন্য এবং সকালে ওই মাছ বিক্রি করেই তাদের চলে যেতো আর রাত বিরাতে মাছ ধরাই ছিলো নেশা এবং পেশা।
একরাতে যথারিতি নৌকা নিয়ে তারা মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়লো
সেটি ছিলো ঘোর অমাবশ্যার রাত কুচকুচে কালো সেই রাতে
মালতি তার ছেলেদের মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করলো কিন্তু ছেলেরা জানে আজ মাছ না ধরতে গেলে কাল তাদের উনুন জ্বলবে না তাই দুই ভাই মাকে অভয় দিয়ে চলে গেলো মাছ ধরার জন্য।
তাদের মাছ ধরার নৌকো টি ছিলো মোটামুটি অনেক টা বড়।
এবং নৌকা টি ছিলো তাদের পাশের বাড়ির গফুর মিয়ার রাত হিসাবে তারা গফুর মিয়ার কাছ থেকে নৌকা ভাড়ায় নিতো।
মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে দুই ভাই ঘাটে যাবার জন্য রওনা হলো পথে নেমেই তারা অনেক টা হতভাগ হয়ে গেলো একি আজ দেখি এক ভাই অন্য ভাই এর মুখ ও দেখতে পারছে না এতো নিকশ কালো অন্ধকার।
দুই ভাই এর ই মনে কেমন যেন ছেত করে উঠলো।
সম্পুর্ন নিরব র
গ্রামের মেঠো পথ ধরে তারা হাটছে সামনে পেছনে
রনি ছিলো পিছনে রনির বার বার ই মনে হচ্ছিলো কেউ যেন তাকে দুর থেকে দেখছে আবার মনে হচ্ছিলো দুর থেকে না তার পেছনেই কেউ তাকে অনুসরন করে হাটছে। যদিও রনি যথেষ্ঠ সাহসি ছিলো তাও ওই দিন ভয়ে সে দুমড়ে মুসরে গেছিলো।
রকি কে সে ডেকে কিছুই বললো না পাছে সে ও ভয় পায় অনেক ক্ষন হাটার পর তারা নৌকা ঘাটে চলে আসলো আর ঘটনার শুরু এখান থেকেই।
রনি আর রকি দুই জনের ই স্বভাব ছিলো দুই জন নৌকার দুই প্রান্তে মাছ ধরতো রনি ছোট হলেও মাছ সে রকির চেয়ে সব সময় বেশিই পেতো তখন নৌকা অনেক টা মাঝ নদীতে চলে গেছে যথারিতী তারা মাছ ধরছে
রকি ডাকলো রনি এই রনি মাছ কিরকম ধরলি রনি তার কথার কোন উত্তর ই দিলো না উত্তর না পেয়ে রকি পেছন ফিরে তাকালো আজ যেন রনি মাছ ই পাচ্ছে না তার মাছের ঝুড়ি একদম ই শুন্যের কোঠায় তাতে হাতে গুনা কয়েকটা ছোট ছোট মাছ রকি বুঝতে পারলো যে কোন কারনেই হোক হয়তো রনি ভয় পাচ্ছে বা কোন সমস্যা হচ্ছে রকি জোরে ডেকে উঠলো এই রনি কি হয়েছে আজ তোর রনি ধ্যান যেন ভংগ হলো সে বললো আজ শরির টা ভালো লাগছে না।
কথা শুনে রকি বললো থাক আজ আর তোর মাছ ধরতে হবে না উঠে আয় এদিকে রনি বাধ্য ছেলের মতো রকির পিছনে এসে বসলো রকি একাই মাছ ধরে যাচ্ছে কারন আজ দুজনের কাজ তাকে একাই করতে হবে তাই অন্য কোন দিকে রকি আর ধ্যান দিলো না রকি মাছ ধরছে আর তা রনির কাছে দিচ্ছে এবং রনি সে মাছ গুলা ঝুড়ি তে রাখছে।
চারিদিকে হু হু বাতাস বইছে আর বাতাসের বেগ এতোটাই বেশি ছিলো আশে পাশের কিছুর শব্দই কানে আসছিলো না।
এক সময় বাতাসের গতি কমে গেলো রকি কিছু চাবানোর আওয়াজ পেলো তার ঠিক পেছন থেকেই স্পষ্ট শুনতে পেলো কড়মড় শব্দে কেউ কিছু চাবিয়ে খাচ্ছে।
রকি আড় চোখে পেছনে তাকালো এরপর সে যা দেখলো তাতে যে কারুর ই পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাবার কথা।
রকি দেখলো রকির দেওয়া বড় বড় মাছ গুলা রনি ঝুড়িতে না রেখে কচকচ করে একটা একটা করে চিবিয়ে খাচ্ছে মাছের তাজা রক্ত রনির চোয়াল বেয়ে বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে রকি মুহুর্তেই এতো টা ভিত হয়ে পড়লো যে তার কেবল মাত্র ই রনির কথা মনে পড়ছিলো।
কি হয়েছিলো রকির আর রনির রুপে এই পিশাচ ই বা কোথা থেকে এলো

Be the first to write a review

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প