সাথী: আমি কিছুই বলি নি৷
ইরা: আরেহ ভাবি আমাকে বলতে দাও। ভাইয়া আমার তো সামনে পরিক্ষা, সেজন্য ভাবি তো ওই সময়ে ওনার বাবার বাড়িতে যেতে পারবে না৷ সেজন্য বলছিলাম তুমি ভাবিকে ওনার বাবার বাড়িতে দিয়ে আসো, কয়েকটা দিন থেকে তারপর না হয় চলে আসবে।
আবির: ওহ তাই বল। আমি তো ভেবেছিলাম কি না, কি না কি বলবি তুই। আচ্ছা আমি কালকেই ওকে দিয়ে আসবো,,,
সাথী: তা ইরা তুমি না বললে, তুমি ও আমার সাথে আসবে!
ইরা: না ভাবি! আমি চলে এলে, ছোট ভাবি আবার একা হয়ে যাবে৷
সাথী: উফ, এই কথাটা তো আমি ভেবে দেখি নি।
ইরা: সেজন্য তুমি বরং ঘুরে এসো।
সাথী: ঠিক আছে, যাই তাহলে আমি রুমে। তুমি তাহলে ঘুমাও।
এই দিকে ইরা ও ঘুমায়, পরের দিন সকালে আবির সাথীকে নিয়ে বের হয়৷ সাথে ইরা ওহ৷ আসলে ইরার কলেজের রাস্তার সামনে দিয়েই সাথীদের বাড়িতে যাওয়া হয়৷ সেজন্য ইরা ও একসাথে বের হয়ে একে বারে কলেজের সামনে এসে নেমে পড়ে,, আবির চলে যাওয়ার পরেই ইরা ভিতরে চলে আসে। এসে ওর বান্ধবী গুলোর সাথে আড্ডা দিতে থাকে। এই দিকে,,,,
শাকিল: বন্ধু চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি।
আকাশ: এই সময়ে আবার কোথায় যাবি?
শাকিল: চল একবার কলেজ থেকে ঘুরে আসি।
আকাশ: কিন্তু আমি এসে কি করবো।
শাকিল: আরেহ ক্লাস করবি, তাছাড়া তুই একা একা এখানে বসে থেকে কি করবি! তারচেয়ে বরং আমার সাথে চল ভালোই লাগবে তোর।
আকাশ: ঠিক আছে চল তাহলে,,,
রেডি হয়ে বের হতে যাবে, তখন আকাশকে জিজ্ঞেস করে, কোথায় যাচ্ছে, কি জন্য যাচ্ছে৷
আকাশ: মা এভাবে বসে না থেকে, একটু ঘুরে আসি কোথাও থেকে।
মা: ঠিক আছে, তবে সাবধানে থাকিছ।
সেজন্য ঘর থেকে বের হয়ে আকাশ শাকিলের সাথে চলে আসে কলেজে। শাকিলের সাথে ক্লাসে এসে বসে পড়ে৷ কিছুক্ষণ পরে ইরা ও ওই ক্লাসে আসে, ইরাকে দেখে,,,
আকাশ: শাকিল ওই মেয়েটা এখানে কেনো?
শাকিল: কোন মেয়ে?
আকাশ: আরেহ যে মেয়েটা আমার এরকম অবস্থা করেছে, সে মেয়ের কথা বলতেছি৷
শাকিল: ওহ তো আমার সাথেই পড়ে।
আকাশ: ওহ আচ্ছা তাই বল। এই জন্য তুই ওই মেয়েকে ভালো করে চিনিস তাহলে,,,
শাকিল: হুম সে রকম আর কি!!
একটু পরে স্যার এসে ক্লাস করাতে থাকে। তখন ইরা ক্লাসের মধ্যে জোরে জোরে শব্দ করে হাঁসতে থাকে। সেজন্য স্যার ওকে দাঁড় করায়।
স্যার: ইরা তুমি হাঁসছো কেনো?
ইরা: স্যার আমি হাঁসছি ওই ছেলেটাকে নিয়ে,
স্যার: কোন ছেলে?
ইরা: শাকিলের পাশে যে ছেলেটা বসে আছে, ওই ছেলেকে নিয়ে,,
স্যার: কি করেছে ওই ছেলেটা? তাছাড়া ওই ছেলেকে দেখে তো নতুন মনে হচ্ছে,, কিন্তু ওকে দেখে হাঁসার এতো কারণ তো দেখছি না আমি।
ইরা: স্যার ওই ছেলের হাতের এখানে শার্ট তো ছেঁড়া। সেজন্য আমার হাঁসি পাচ্ছে,,,
কথাটা শুনে আকাশ এভার হাতের ওখানে তাকায়, তখন ছেঁড়া দেখতে পায়৷ আসলে আকাশ জানতো না, এই জায়গায় যে ছেঁড়া ছিলো। তখন,,,
স্যার: তোমার নাম কি?
আকাশ: পারভেজ হোসেন আকাশ।
স্যার: তোমার পরিবারে কেহ কেহ আছে, তাছাড়া তোমাকে তো আগে কখনো দেখি নি এই ক্লাসে।
এরপর আকাশ পরিবার সম্পর্কে সবটা বলতে থাকে। সবটা শুনে, সাথে বাকি কাহিনি শুনে।
স্যার: তাহলে তো, তুমি এদের তুলনায় ১ বেচ সিনিয়র। তা তোমার হাতে এই অবস্থা হলো কি করে?
আকাশ: এই ক্লাসের একটা অহংকারী আর জেদি মেয়ে এই কাজটা করেছে।
স্যার: তুমি কি ইরার কথা বলছো?
আকাশ: স্যার আপনি তো দেখি, না বলতেই, সবটা বুঝে গেলেন।
স্যার: কি করবো বলো, ওর বাবা চেয়ারম্যান, সেজন্য ওহ একটু বেশি অহংকারী৷ ভাগ্য ভালো, আমি কলেজে স্যারের পাশাপাশি, বোর্ডের সদস্য। নয় তো ওর বাবা এত দিনে আমাকে এই কলেজ থেকে বের করে দিতো।
ইরা: স্যার আপনি কিন্তু আমাকে অপমান করছেন।
স্যার: তোমাকে আমি অনেক বুঝিয়েছি৷ তোমার বাবা চেয়ারম্যান বলে, যাকে খুশি তার সাথেই তুমি পাঙ্গা নাও, যাকে তাকে ধরে মারো। তোমার কারণে ক্লাসে অনেক ছেলেই ক্লাস করতে আসে না।
ইরা: সব দোষ কি আমার নাকি? ওরাই তো আমার সাথে উল্টো পাল্টা করতে আসে,,,
স্যার: হয়েছে হয়েছে আর বলতে হবে না। আর এই ছেলে ঢাকা থেকে মাএ আসলো, আর তুমি ওর সাথে প্রথম দিনেই এরকম করে বসলে।
ইরা: এই ছেলে কানা, সেজন্য রাস্তা দেখে চলতে পারে নি, তাই আমার সাইকেলের নিচে এসে পড়েছে৷
আকাশ: আচ্ছা স্যার এই সবটা থাক, আপনি বরং ক্লাস করান ওদের। আমি ততক্ষণ একটু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি।
স্যার: ঠিক আছে দেখো তাহলে,,,,
স্যার ক্লাস করাতে থাকে৷ এই দিকে ইরা তো রেগে একাকার৷ মনে হচ্ছে আকাশকে একা ফেলেই আবার হামলা করবে,, কিছুক্ষণ পরে স্যার তো চলে যায়৷ ওনি যাওয়ার পরে,,,
ববি: তোকে এতো অপমান করলো সবার সামনে, এর প্রতিশোধ কিন্তু নিতে হবে৷
ইরা: নিবো মানে, একটু পরেই নিবো।
ববি: কিভাবে নিবি?
ইরা: সবে মাএ ১ টা হাতে এরকম অবস্থা করেছি, আজকে বাকি হাতের অবস্থা ও খারাপ করে দিবো।
ববি: ঠিক আছে তাই হবে৷
কিছুক্ষণ পরে আকাশ শাকিল ঘরে ফেরার জন্য রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে আসছে৷ গ্রামের রাস্তা তো, একটু আঁকা বাঁকা তো থাকবেই৷ তার উপর হালকা হালকা গর্ত তো আছেই।
শাকিল: আচ্ছা আমি তাহলে গেলাম। তুই বাকি পথ সাবধানে যেতে থাক।
আকাশ: ঠিক আছে, বিকালে কিন্তু বের হবো।
শাকিল: আচ্ছা আমি চলে আসবো সময় করে।
শাকিল চলে যাওয়ার পরেই আকাশ একা একা আসতে থাকে৷ তখন ইরা আর ববি পিছনে আসে, যদিও ওরা যে এসেছে, তা আকাশ খেয়াল করে নি। সেজন্য ওরা দুজনেই সাইকেল দিয়ে আকাশকে আবার ও ধাক্কা দেয়৷ এতে রাস্তার ধারে পড়ে যায়৷ কিন্তু এভার তেমন ক্ষতি হয় নি৷ কেনো না রাস্তার পাশে পুকুর ছিলো বলে পানিতে এসে পড়ে৷ আকাশের এমন পড়ে যাওয়া দেখে ইরা তো অনেক হাঁসতে থাকে, হেসেই প্রায় কুল পায় না। আকাশ তো মুগ্ধ নয়নে ইরার হাঁসি দেখতে থাকে৷
ইরা: দেখলি তো, আমার সাথে পাঙ্কা নেওয়ার মজা।
আকাশ: আপনি নিজেও আমাকে চিনেন না।
ইরা: ওহ তাই নাকি, তা কি করবি তুই?
আকাশ: আগে পুকুর থেকে তে উঠতে দিবেন, তারপর না হয় বলতেছি, কি করা যায়।
ইরা: সাহস থাকলে কিছু করে দেখা।
কথাটা শুনে আকাশ পুকুর থেকে উঠে ইরার সামনে আসে। পানি আকাশের শরিলের শার্ট, প্যান্ট থেকে বের হতে থাকে, সেজন্য সেগুলো একটু হাত দিয়ে নাড়া দিতেই কয়েকটা ফোঁটা পানি এসে ইরার মুখে পড়ে৷
ইরা: তোর সাহস তো কম না, তুই আমার মুখে পানি মেরেছিস?
আকাশ: সাহসের তো কিছুই দেখলি না। এখন যা করবো আমি, তার জন্য তোকে তো প্রস্তাবে হবে।
ইরা: কিছু করবি মানে? কি করবি তুই( ভয়ে)
আকাশ: আরেহ তুমি নাহ চেয়ারম্যান এর মেয়ে, তা এতো ভয় ফেলে কি চলবে?
ইরা: দেখ কাছে আসবি না, কাছে আসলে কিন্তু আমি চিৎকার করবো!
আকাশ: চিৎকার করলে তোমারই সমস্যা।
ইরা: আমার সমস্যা হবে কি করে?
আকাশ: আমি তোমার সাথে যা যা করবো, সে গুলো অন্য কেউ দেখলে তো তোমারই ক্ষতি হবে।
কথাটা শুনে ইরা তো ভয় পায়, ইরা কোন কিছু বলতে যাবে, তার আগেই,,,,,,,,,