চেয়ারম্যানের_জেদি_মেয়ে পর্ব: ০৫

ববি: কিন্তু আঙ্কেল আমি তো যেতে পারি কলেজে।
আব্বু: তুমি কলেজে এসে, কি কি পড়া দিচ্ছে, তা ইরাকে জানিয়ে দিও।
ববি: ঠিক আছে আঙ্কেল।
পরের দিন ববি তো কলেজ আসে। এসে ক্লাস করতে থাকে৷ অন্য দিকে ইশাান ওর বাবার কাছে আসে,,
ইশান: বাবা, বাবা, ওহ বাবা,,,
আব্বু: কি হয়েছে বল?
ইশান: ইরার জন্য একটা ছেলে খুঁজবো কি?
আব্বু: কোন দরকার নেই। ওহ মাএ কলেজে পড়ে। আগে ভার্সিটিতে ভর্তি হোক, তারপর ওর বিয়ে নিয়ে ভাবা যাবে, তাছাড়া ২ বছর পরে এলেকশন, এলেকশনের পরেই না হয় ওর জন্য ছেলে দেখবো।
ইশান: আমি কি তাহলে ওনাদের মানা করে দিবো!
আব্বু: হ্যাঁ, মানা করে দাও।
অন্য দিন পরে ইরা তো ভালো হয়ে যায়, কিন্তু আকাশ এখন ও মোটামুটি অসুস্থ হয়ে আছে৷ কলেজে ভিতরে শাকিলের সাথে দেখা হয় ওদের,,,
ববি: কিরেহ তোর বন্ধু কোথায়?
শাকিল: আকাশ এখনও অসুস্থ,,
ইরা: কি বলিস, এখন ও সুস্থ হয় নি?
শাকিল: এই তো আরো ২-৩ দিন তো লাগবেই।
ইরা: আচ্ছা শুন, কলেজ শেষে আকাশের বাড়িতে যাবো, আমাকে একটু নিয়ে যাবি৷
শাকিল: তুই হঠাৎ ওর বাড়িতে কেনো যেতে চাইছো?
ববি: ইরা আমার ও তো সেইম প্রশ্ন?
ইরা: তোকে সবটা জানতে হবে না। যা বলেছি, তা শুধু শুনে রাখলেই হবে।
শাকিল: ঠিক আছে নিয়ে যাবো।
ইরা: চল তাহলে এখনই যাবো আমরা।
শাকিল: হ্যাঁ, চলো তাহলে,,
একটু পরে ওরা রওনা দেয়, কিছুক্ষণ পরে ইরা আকাশের জন্য কিছু ফল কিনে আনে। আকাশের ঘরটা দেখে ইরা মোটামুটি অবাক হয়, কেনো না ঘরটা অনেক ছোট, সবে মিলে ৩ টা রুম আছে ওখানে। একটু পরে ওরা এসে আকাশের পাশে বসে, তখন আকাশ ঘুমাচ্ছিলো। সেজন্য ওরা মোটামুটি পাশে এসে বসে থাকে। ততক্ষণে আকাশের মা ওখানে আসে,,
মা: কি ব্যাপার শাকিল, ওরা কারা ওদের তো চিনলাম না।
শাকিল: আন্টি ওরা আমার বন্ধু, আমরা একই সাথে পড়াশোনা করি,, আকাশ অসুস্থ, সেজন্য ওকে দেখতে চেয়েছে, তাই নিয়ে এসেছি।
মা: তোমরা বসো আমি তোমাদের জন্য নাস্তা নিয়ে আনতেছি।
ইরা: আন্টি চলুন, আপনাকে নাস্তা বানাতে সাহায্য করি৷
মা: তোমরা এই ঘরের মেহমান, তোমরা গল্প করো, আমি একাই সবটা করে নিবো।
ইরা: কিন্তু আন্টি,,
মা: বললাম তো, তোমরা প্রথম এসেছো, সেজন্য গল্প করতে থাকো।
আকাশের মা নাস্তা বানাতে চলে যায়৷ অন্য দিকে ওরা গল্প করতে থাকে, একটু পরে শাকিল আর ববি রুম থেকে বের হয়৷ আসলে ববি ওয়াশরুমে যাবে, সেজন্য ওকে নিয়ে বের হয়৷ এখন শুধু আকাশ আর ইরার আছে ওই রুমে৷ ইরা আকাশের কপালে হাত দিয়ে চেক করতে থাকে, জ্বর কিছুটা ঠিক হয়েছে কি না, কিন্তু হাত দিয়ে বুঝতে পারে জ্বর এখন ও আছে৷ ইরা যেই হাতটা সরিয়ে নিয়ে আসবে, আকাশ ঘুমের মধ্যেই ইরার হাতটা জড়িয়ে ধরে রাখে বুকের সাথে। এরকমটা আকাশ যে করবে, তা তো ইরা ভাবতেও পারে নি। আকাশের ঘুম ও ভাঙছে না, আবার ইরা হাতটা ও সরাতে পাচ্ছে না। ৬ মিনিট ধরে আকাশ হাতটা ওর নিজের বুকে ধরে রেখেছে, এই দিকে ববি আর শাকিলের কথার আওয়াজ শুনে ইরা এভার একটু জোর দিয়ে হাতটা সরিয়ে নিয়ে আসে, সেজন্য আকাশের ঘুমটাও ভেঙে যায়৷ তাও চোঁখে অনেক ঘুম ছিলো, সেজন্য ঠিক ভাবে বুঝতেও পাচ্ছে না, সামনে কে আছে।
আকাশ: একি আম্মু, তুমি এখানে এখন ও বসে আছো?
আকাশের এমন কথা শুনে ইরা তো কিছুটা মিট মিট করে হাঁসছে৷
ইরা: এই যে মিস্টার আমি আপনার আম্মু নই বুঝলেন।
আকাশ: তাহলে আপনি কেহ, ঘুমের কারণে মুখটাও ঠিক মতো দেখতে পাচ্ছি না।
ইরা: দেখতে হবে ও না। তা এখনন কেমন আছেন।
আকাশ: তার আগে বলুন, আপনি কেহ?
ইরা কিছু বলতে যাবে তখনই শাকিল আর ববি এসে পড়ে ওখানে৷
শাকিল: কিরেহ তোর ঘুম ভেঙে গেলো তাহলে।
আকাশ: মনে হলো কেউ আমাকে ধরে টান দিলো আর আমার ঘুম ও ভেঙে গেলো এতে।
শাকিল: এভার একটু ভালো করে তাকিয়ে চারদিকে একটু দেখ, তাহলে বুঝতে পারবি৷
সেজন্য ভালো করে তাকিয়ে দেখতে থাকে, দেখার পরে বুঝতে পারে সবটা।
আকাশ: একি আপনি এখানে কেনো?
ববি: আপনাকে দেখতে এসেছে।
আকাশ: আমাকে আবার দেখার কি আছে?
ইরা: আপনি সুস্থ আছেন কি না, তা দেখার জন্য এসেছি৷
আকাশ: আমি আছি মোটামুটি সুস্থ, তা আমার মতো একটা গরিব ঘরের ছেলেকে দেখতে এসেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ।
ইরা: আচ্ছা আমরা তাহলে চলি এখন,,,
আকাশ: এসেছেন যখন এই গরিবের ঘরের নাস্তা তো খেয়ে যান।
ইরা: তা আর লাগবে না, আসি তাহলে,,,
ওরা বের হতে যাবে, তখনই আকাশের মা নাস্তা নিয়ে এসো ওদের খেতে বলে। ওরা নাস্তা খাওয়া শুরু করে, তখন হালকা কিছু খেয়ে বেরিয়ে পড়ে ইরা ওর ঘরে চলে আসে৷ ইরা বাসায় আসতেই,,,
সাথী: ইরা তোমার হাত এতো লাল হয়ে আছে কেনো?
ইরা: আমার কখন লাল হলো?
সাথী: ভালো করে তাকিয়ে দেখো, তাহলে বুঝতে পারবে, কি ভাবে লাল হলো।
ইরা হাতের দিকে তাকিয়ে বুঝতে বাকি রইলো না যে, এটা ওই সময়ের আকাশ যে ওর হাত ধরে রেখেছিলো, এটা ওই সময়ে এরকম হয়েছিলো, যা ইরা এতক্ষণে খেয়াল ও করে নি৷
ইরা: আরেহ ভাবি জানি না কি করে লাল হলো।
সাথী: আচ্ছা কোন ছেলে তোকে রাস্তায় ডিস্টাব করে নি তো?
ইরা: আরেহ কি যে বলো না ভাবি৷ আমাকে ডিস্টার্ব করবে, এরকম ছেলে কি আমাদের গ্রামে আছে নাকি?
সাথী: সেটা তো ঠিক বলছত,, আচ্ছা যাও এখন ফ্রেশ হয়ে আসো, আমি তোমার জন্য খাবার দিচ্ছি৷
ইরা: ঠিক আছে ভাবি৷
বিকালে ইরার বাবা আর ভাইয়েরা আসে একটা বাড়িতে, জমির ব্যাপারে কথা বলার জন্য।
আব্বু: আবির এই জমিটা ওদের থেকে লিখে নে তো?
লোক: চেয়ারম্যান সাহেব এত বড় জুলুম আমার উপরে করবেন না।
আবির: এখানে জুলুমের কি আছে, তুমি আমাদের থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছো, তাও ৩ বছর আগে৷
লোক: আমি তো বলেছি ৩-৪ মাসে সব টাকা আমি ফেরত দিয়ে দিবো৷
ইশান: যে টাকা তুই ৩ বছরেও দিতে পারিছ নি, সে টাকা কি না, তুই ৩-৪ মাসে ফেরত দিবি, কথাটা তো একটু হাস্যকর তাই না। তাছাড়া তোকে কোন সময় দেওয়া হবে না। সেজন্য তাড়াতাড়ি সাইন কর,,,
লোক: আমি কিন্তু পুলিশে জানাবো!
ইশান: পুলিশের জানাবি ( হেসে হেসে)
লোকটা কথা শুনে চেয়ারম্যান আর আবির ও সাথে সাথে হেঁসে উঠে,,,
আব্বু: বলে কি লোকটা, আমাকে নাকি পুলিশে দিবে,,,
লোক: হ্যাঁ দিবো। আপনার মতো এরকম জালেম চেয়ারম্যান থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। ( রেগে)
আবির : কি বললি তুই? এত বড় সাহস তোর৷ আমার সামনে দাঁড়িয়ে তুই আমার বাবাকেই এত বড় কথা বলিছ, আজকে তোকে আর তোর এই ঘরটাই আগুনে জালিয়ে দিবো ( রেগে)
লোক: আমার এতো বড় ক্ষতি করবেন না চেয়ারম্যান সাহেব, আমি আপনার পায়ে পড়ি ( কেদে)
আব্বু: তোর এই আবদার আমি মেনে নিতাম। কিন্তু,,,,

Be the first to write a review

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প