সবাই এবার কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। এই ঘটনা ঘটে গেছে তা প্রায় পঞ্চাশ দিন আগে। তাও এখনো ভয়ে কেউ ঐ জঙ্গলে পা রাখে না।
– পুরোটাই ফল্স ছিলো! আমার তো মনে হয় এটা কোন চোরাচালানকারীদের কাজ!
– না খোকাবাবু, তুমি জানো না তাই বলছো। আমি এতক্ষন যা যা বলেছি সব সত্য!
ইন্টালিজেন্সি ডিপার্টমেন্ট থেকে অদ্ভুত এই জঙ্গল সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে এসেছি আমি আর আমার কলিগ সাইবা সুলতানা। এসে এখানে জঙ্গলটা থেকে কিছুটা দূরে একটা চায়ের দোকানে বসলাম। বৃদ্ধ দোকানদারের সাথে কথা বলতে বলতে কথায় কথায় জঙ্গলের প্রসঙ্গটা টেনে আনলাম। কিন্তু তারপর বৃদ্ধ দোকানদার যা বললো তাতে তো পিলে চমকানোর মতো অবস্থা!
সাইবা বললো,
– আচ্ছা চাচা, তাহলে খালিদের পরিবারের বাকি সদস্যরা সবাই কোথায়? তারা কি পুলিশের কাছে যায়নি? কোন তদন্ত হয়নি?
– তদন্ত কি হবে খুকি! পুলিশ কি আর শয়তান বা প্রেতাত্মাকে ধরতে পারে?
– আচ্ছা কাকা, আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগছে। এবার তাহলে আমরা উঠি! (আমি বললাম)
– ঠিক আছে। আবার এসো কিন্তু।
– অবশ্যই।
আমি আর সাইবা উঠে গেলাম। চারপাশে আরো ঘোরাঘুরি করে জঙ্গলটা সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য বের করলাম। সবাই জঙ্গলটা সম্পর্কে নেগেটিভ মত প্রকাশ করেছে। সবার মতে জঙ্গলটা অভিশপ্ত। রাতে নাকি ভয়ঙ্কর চিৎকার শোনা যায়। আবার কেউ কান্না শুরু করে দেয়! মাঝে মাঝে মারামারি আওয়াজও কানে আসে!
আমরা একটা পাকা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি আর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। সাইবা বললো,
– আমাদের একবার কিন্তু ঐ জঙ্গলে যাওয়া উচিৎ!
– হুম। চলো একবার ঘুরেই আসি।
আমি আর সাইবা ঐ অভিশপ্ত জঙ্গলের উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখতে পেলাম। সাইট দিয়ে মেন রোড। আর রোডের ডান পাশে জঙ্গলটা। শুরুর দিকে খুব একটা ঘন না। ভিতরে আস্তে আস্তে ঘন হয়েছে। আমি কোমরে গুঁজে রাখা বন্দুকটা বের করলাম। আর সাইবাকেও বের করার জন্য ইশারা করলাম। তারপর পা টিপে টিপে এগুতে লাগলাম দুজনে। দুজনেরই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি! হঠাৎ জঙ্গলের ভিতরে মাটি কাঁপতে লাগলো। মানে ভূমিকম্পের মতো! সাইবা বললো,
– এটা কি হচ্ছে?
– বুঝতে পারছি না। তুমি সাবধানে!
– ঐটা কি…..?
সাইবা চিৎকার করে উঠলো। আমি ঐদিকে তাকালাম। আর থমকে গেলাম। একটা কালো ছায়ার মতো কিছু এদিকেই আসছে। ছায়াটা অনেকটা বনমানুষের আকৃতির। আমি সাইবাকে বললাম,
– পালাতে হবে। পালাও!
সাইবা দৌড়াতে লাগলো। আমিও দৌড়াতে লাগলাম। আমি দৌড়াতে দৌড়াতে পিছনে কয়েকটা গুলিও ছুড়লাম। কিন্তু ওগুলো কালো ধোঁয়ার মতো ছিলো! গুলি লাগলো না। সাইবা বললো,
– গুলি পরে করবে আগে পালাও!
পালাতে পালাতে হঠাৎ আমাদের সামনেও ঐ রকম কিছু এসে দাঁড়িয়েছে। খুব ভয়ংকর দেখতে। সাইবা চিৎকার করে উঠলো। আমি বললাম,
– চিৎকার করো না।
দুজনেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। সাইবা ভয় পেয়ে যায়। আমিও ভয়ে ভয়ে কয়েক ধাপ পিছিয়ে যাই। খুব বেশি অন্ধকার হয়ে গেছে চারপাশ। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ ভয়ঙ্কর কিছু আওয়াজ শোনা গেলো। আমি আর সাইবা দৌড়াতে লাগলাম। পিছনে কিছু দেখা যাচ্ছে না। তবুও বোঝা যাচ্ছে যে, কেউ আমাদের পিছনে আছে!
আমি একটা গাছের নিচে এসে দাঁড়ালাম। সাইবাও আমার পাশে দাঁড়ালো। হঠাৎ গাছের উপর থেকে কিছু আমাদের গায়ে পরতে লাগলো। তরল জাতীয় কিছু!
আমি হাত দিয়ে বুঝতে পারলাম আঁঠা জাতীয় কিছু! হাতটা নাকের কাছে আনতেই সারা শরীর ঝনঝনিয়ে উঠলো! এটা তো টাটকা রক্ত!
আমি উপরে তাকালাম। দেখলাম, একটা সাদা সাদা দুটো চোখ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি সাইবাকে বললাম,
– পালাও!
আমরা আবার পালানো শুরু করলাম। সামনে কি আছে জানি না। শুধু দৌড়ে যাচ্ছি। হঠাৎ কিছুর সাথে একটা ধাক্কা খেলাম। আমার মনে হলো যে, সাইবা আমার পাশে নেই! আমি চারপাশে ওকে খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু পেলাম না।
আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। সাইবা কোথায় গেলো? ওকে আবার ঐ ছায়াগুলো ধরে ফেললো না তো! আমি ভয়ে ভয়ে চারপাশে দেখছি।
হঠাৎ সাইবার চিৎকার শুনতে পেলাম। চিৎকারটা মনে হয় এদিকেই আসছে! কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম যে, ও পথ হারিয়েছিলো! আমরা আবার পালানো শুরু করলাম। কোন দিকে যাবো কিছুই বুঝছি না!
হঠাৎ সামনে দুটো ভয়ঙ্কর চোখ ভেসে উঠলো। ডান দিকে দৌড়ানো শুরু করলাম। দৌড়াতে দৌড়াতে আমি একটা ভাঙা গাছের ডালের সাথে উষ্টা খেয়ে পরে গেলাম। সাইবা অন্ধকার হওয়ায় আমায় দেখতে পেলো না।
আমি আবার উঠতে যাবো এমন সময়…….
এমন সময় দেখি যে, আমার ঠিক উপরে একটা কালো ছায়ার ভাসছে। চোখ দুটো সাদা! আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। ভয়ে আমার মনের ভিতরে ধুকধুক করছে। ঐ কালো ছায়াটা আমার গলার দিকে হাত বাড়ালো। ঐ হাতটাও খুব ভয়ংকর ছিলো।
কিন্তু ঐ হাতটা যেই আমার গলা স্পর্শ করলো জোরে একটা কাঁপুনি দিয়ে উড়ে চলে গেলো দূরে। আমি চমকে উঠলাম। কি হলো এটা?
চারপাশ আলোকিত হয়ে গেলো। আমি দেখলাম, সাইবা ঐ দূরে দাঁড়িয়ে চারপাশে দেখছে। আমায় দেখতে না পেয়ে পিছনে তাকালো। আর বললো,
– কি হচ্ছে এসব? এখুনি তো অন্ধকার ছিলো!
আমি চারপাশে দেখলাম, আর ঐ ছায়াগুলো নেই। তাহলে ব্যাপারটা কি…..