নিয়তির_লিখা পর্বঃ০২

সৈকতের প্রায় অনেকগুলো কলের পর আমি তার কল রিসিভ করলাম।
–এতোক্ষণ কই ছিলে?এতোবার কল দিলাম এখন রিসিভ করার সময় হলো?(সৈকত)
–কিছু বলার থাকলে বলো।(আমি)
–কিছু বলার থাকলে বলবো মানে?আজ আমাদের পালানোর কথা ছিল না?
–আমি পালাতে পারবো না।আমি নাজিয়াত আরিয়ানাকে(আপুর দুই মেয়ে) ছাড়া থাকতে পারবো না।
–ওদেরকে নিয়ে আসো তুমি।
–পারবো না।আমি পারবো না তোমার সাথে পালাতে।দুলাভাই ওদেরকে আমার সাথে যেতে দিবে না।আমারও ওদের ছাড়া থাকা সম্ভব না।
–তাহলে তুমি কি চাও?কাল তোমার বিয়ে আর তুমি আজ বলছো আমার সাথে যেতে পারবে না?তুমি কি চাও না আমার সাথে থাকতে?
–সব চাওয়া তো আর পূরণ হয় না।
— তাহলে কি আমাদের এতো বছরের সম্পর্কটা আজ শেষ হয়ে যাবে।
–আপুর মেয়েদের ভালোর জন্য যদি আমার তোমাকে ছাড়তে হয় তাহলে আমি তাই করবো।
–ঠিক আছে সিদ্ধান্ত যখন নিয়ে নিয়েছো তাহলে তাই হবে।ভালো থেকো তুমি।
এই বলে সৈকত কল কেটে দিল।আজ হয়তো নাজিয়াত আরিয়ানার জন্য আমি অনেক বড় একটা ত্যাগ করলাম।কিন্তু এতে আমার কোনো আফসোস নেই।কারণ তারা দুইজন আমার মেয়ের মতোই।আমি কাল দুলাভাইয়ের বৌ হয়ে নই নাজিয়াত আরিয়ানার মা হয়ে আপুর সংসারে ঢুকবো।
সন্ধ্যা হয়ে আসলো।দুলাভাইয়ের ২য় বিয়ে হলেও এইটা আমার প্রথম বিয়ে ছিল।তাই আমার বাসায় ছোট খাটো করে হলুদের এর‍্যাঞ্জমেন্ট করা হয়েছে।আমাকে আমার কাজিনরা ডাকছে আমাকে রেডি করানোর জন্য আমি যেতে না চাইলে ওরা আমাকে জোর করে নিয়ে গেল।
নাজিয়াত আরিয়ানা আমার সাথেই ছিল।ওদের মুখের দিকে দেখে মায়া হতো।কি এমন দোষ করেছিল ওরা যার জন্য জন্মের পরেই তাদের মাকে তারা হারালো।আমি যতই তাদের আদর করি স্নেহ করি ওদের মায়ের অভাবটা কোনোদিন হয়তো পূরণ করতে পারবো না।কিন্তু আমার শেষটা দিয়ে চেষ্টা করবো তারা দুইজন যেন আমার জন্য কোনোদিন কষ্ট পায়।
আমি তারা দুইজনকে ঘুম পাড়িয়ে রেডি হতে বসলাম সবার জোরাজোরিতে।সবাই নাচগান করছে।কিন্তু আমার মন পড়ে ছিল সৈকতের মধ্যে।জানি না ছেলেটা কি করছে।যেই ছেলে আমাকে ছাড়া একটা মুহুর্তও থাকতে পারতো না সেই ছেলে এখন সারাজীবন আমাকে ছাড়া থাকবে।কতো প্লান ছিল সৈকত আর আমার।আমাদের বিয়ে হবে সংসার হবে।কিন্তু সব নিয়তির লিখা হিসেবে উপর থেকে মেনে নিলেও মন থেকে মেনে নিতে পারছিলাম না।কাল আমি আরেকজনের বৌ হতে যাচ্ছি।কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস যাকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতাম তার সাথেই আমার বিয়ে।বাড়ির সবাই সবার মতো আনন্দ করছে।এমন সময় দুলাভাইয়ের কল।আমি তার কল পেয়ে ওয়াসরুমে যাওয়ার নাম করে মানুষের ভিড় থেকে বেরিয়ে আসলাম।
–হ্যাঁ, দুলাভাই বলেন।
–তুমি কি আমাকে সত্যি কাল বিয়ে করছো?
–হ্যাঁ,নাজিয়াত আরিয়ানার জন্য করতেই হবে।
–ওদেরকে আমি একা লালন পালন করতে পারবো।
–কিন্তু ওদেরকে ছাড়া থাকা তো আমার পক্ষে অসম্ভব।
–তাহলে সৈকতের সাথে তোমার সম্পর্কের কি হবে।
–আমাদের সম্পর্কটা না হয় অপূর্ণই থাকুক।
–কিন্তু তোমাকে তো আমি তোমার আপুর স্থানে বসাতে পারবো না।
–আমি আপুর স্থান পেতে আপনার বৌ হয়ে আপনার বাড়িতে যাচ্ছি না।আমি নাজিয়াত আরিয়ানার মা হয়ে আপনার বাড়িতে যাচ্ছি।
–তাহলে কাল আমাদের বিয়েটা হচ্ছে।
–হ্যাঁ।আচ্ছা রাখি এখন।সবাই ডাকছে।আপনি খেয়ে নিয়েন দুলাভাই।
এই বলে কলটা কেঁটে দিলাম।অনুষ্ঠান শেষ হতে প্রায় ভোর ৪টা বেজে গেল।আমিও ফ্রেস হয়ে বসলাম।ওই সময় সৈকতের কল।
–আবার কল দিলে যে?
–কাল দেখা করতে পারবে একটু?তোমাকে শেষবারের মতো একটু দেখবো।সাথে তোমার মেয়েদের আর তোমার বর কে নিয়ে এসো।
–আমার বর কে?
— কেন!!তোমার দুলাভাই।
–আচ্ছা আমি দুলাভাইকে বলে দেখি।যদি উনি রাজি হয় তাহলে যাব।
–ঠিক আছে।
সৈকতের সাথে কথা শেষ হতেই দুলাভাইকে কল দিলাম।
–কি ব্যাপার এতো রাতে কল দিলে যে?
–দুলাভাই একটা ছিল।কাল একটু আমার সাথে বের হতে পারবে?
–কোথায় যাবে?
–সৈকতের সাথে দেখা করতে।সে বলেছে আপনাকেও নিয়ে যেতে।প্লিজ না করো না।
–পালিয়ে যাওয়ার প্লান করছো নাকি?নাজিয়াত আরিয়ানার মায়ের দায়িত্ব শেষ?
–দায়িত্ব যখন নিয়েছি জীবন শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো দায়িত্বটা পালন করতে।আপনি যাবেন নাকি বলেন?
–ঠিক আছে।আমি তোমাকে সকালে নিতে আসবো।
–ওকে।
এইবলে কল কেটে দিলাম।কাল সৈকতের সাথে আমার শেষ দেখা।আর কখনো হয়তো তার সাথে দেখা হবে না।দেখা হলেও হয়তো দূরসম্পর্কের কোনো পরিচিত মানুষ হিসেবে তার সাথে দেখা হবে।

Be the first to write a review

2 Responses

  1. FB7775, solid platform with a good selection of e-games. The interface is easy to get used to, and I haven’t had any major issues. I’m enjoying the games, and the winnings were processed quickly. Try fb7775 today.

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প