বন্ধু-বান্ধব একসাথে বেড়াতে এসেছি। সেমিস্টার ব্রেক চলছে। বেড়াতে এসেছি বান্ধবী ঈপ্সিতার গ্রামের বাড়িতে।
সেই এক বিশাল বড় বাড়ি! আগে নাকি এটা জমিদার বাড়ি ছিল! দেখেও তাই মনে হয়। সারাদিন হইচই করে, রাতের বেলা খাওয়া-দাওয়ার পাট চুকিয়ে ঈপ্সিতাদের বাগানে গিয়ে পাটি বিছিয়ে বসলাম আমরা – আমি, ঈপ্সিতা, অয়ন, কণিকা, পাভেল আর রাতুল, আমরা এই ছয়জন। আর সাথে রইলেন ঈপ্সিতার মা-বাবা আর দাদা-দাদী।
শুনশান নীরবতা চারদিকে। মাঝেমধ্যেই ঝিঁঝিঁ ডাকছে। এরকম একটা পরিবেশে গল্পের বিষয় শুরুতে যা-ই হোক না কেন তা একসময়ে গিয়ে ভূত-প্রেতের গল্পতে শেষ হয়।
অয়ন দাদুকে জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা দাদু, আপনারা তো সবাই ঢাকায় থাকেন। এখানে দেখাশোনা করে কেয়ারটেকার। এখানে এসে কোনও ভূত প্রেতের ব্যাপারে শুনেন নি?
দাদু হেসে বললেন, না দাদুভাই। এখানে এসব নেই। কেন তুমি কখনও দেখেছ নাকি?
অয়ন প্রবল বেগে মাথা নেড়ে বলল , নাহ।
এরপর আমার দিকে তাকিয়ে বলে, তবে তরু দেখেছে। তাই না তরু?
আমি হেসে কথাটা কাটিয়ে দিতে চাই। কিন্তু সবাই হইহই করে ওঠে!
পাভেল বলল, তরু, তুই বলেছিস তোদের পরিবারে এই ধরনের কিছু একটা ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু ঘটনাটা হাজার জোরাজুরি করা সত্ত্বেও বলিসনি। আজ কোন ছাড় নেই।
আমি ম্লান হেসে বলি, ব্যাড দে না এসব। আমরা তো বেশ অন্য বিষয় আলোচনা করছিলাম। আবার এসব কেন?
রাতুল বলে, আরেহ। এখানে তো আরও চারজন নতুন আছে!
ঈপ্সিতা বলে, রাতের বেলায় এরকম ভূতুড়ে পরিবেশে আরও ইন্টারেস্টিং হবে! আর এখানে দাদা-দাদি আছেন। উনার নিশ্চয়ই কোন ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
এবার দাদী বললেন, বল না দিদিভাই। সবাই এত করে বলছে!
ঈপ্সিতার বাবাও চাপাচাপি করছিলেন।
এত জোরাজুরির পর না বললে বেয়াদবি হয়। সবশেষে আমি বলতে বাধ্য হই।
“ঢাকায় আমাদের যৌথ পরিবার। যখনকার কথা বলছি, আমার দাদা-দাদী বেঁচে ছিলেন। আমার চারজন চাচা। আমার ছোটচাচার তখনও বিয়ে হয়নি। বাকি সবাই বিবাহিত। সব মিলিয়ে আমরা তখন পাঁচজন চাচাত ভাইবোন ছিলাম।আমিসহ তিন বোন আর দুইভাই। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্ক ভাইয়া, তখন কলেজে পড়ত। আর সবচেয়ে ছোট আমার সেজ চাচার মেয়ে মুনিয়া, ক্লাস ফোরে পড়ত। আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।
আমাদের বড় বিশাল বাড়িতে আমরা সারাক্ষণই হইচই করছি। আর আমাদের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন আমার ছোটচাচা। চাচা তখন ভার্সিটিতে ফাইনাল ইয়ারে পড়েন।
আমার দুইজন ফুপু আছেন। দুইজনেই বগুড়ায় থাকেন। প্রতি গ্রীষ্মের ছুটি আর নভেম্বর-ডিসেম্বরে বাচ্চাদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাদের নিয়ে ফুপুরা চলে আসতেন। আমার তিনজন ফুপাত ভাইবোন।
ছোট চাচার মাঝেমধ্যেই উদ্ভট টাইপের খেয়াল আসত আর আমরাও মহা উৎসাহে সেসব করতাম! আমাদের মাথায় কোন দুষ্টুবুদ্ধি আসলে, কোন কথা শেয়ার করার থাকলে আমরা ছোটচাচাকে বলতাম।
যাই হোক, সেবার আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ, ফুপুরা এসেছেন। আমরা সবাই মিলে ছোটাছুটি করছি। এমন সময় সন্ধ্যারবেলা কারেন্ট চলে যায়!
দাদু বললেন, সবাই ছাদে চল। আজকে একটা মজা হবে! ছাদে যাওয়া হল। পাটি বিছিয়ে বসা হল। সাথে মুড়ি-চানাচুড় মাখা আর চা।
দাদু ঘোষণা করলেন, আজ গল্পের আসর হবে। সবাই গল্প বলবে। যেকোন বিষয়ে বলতে পার। আর যার গল্প সবচেয়ে ভাল হবে তার জন্য আছে বিশাল পুরস্কার!
সবাই গল্প বললাম। যার যা ইচ্ছা তাই। আলতু- ফালতু গল্প হচ্ছিল বেশিরভাগই। কিন্তু সবশেষে ছোটচাচা একটা প্ল্যানচেট করার গল্প বলে তাক লাগিয়ে দেন। তার গল্পে কয়েকজন ফ্রেন্ড প্ল্যানচেট করে ভূত ডেকে আনে।
দাদু ছোটচাচাকেই বিজেতা ঘোষণা করেন। তবে গিফটটা চাচার একার না। আমাদের সবার জন্যই ছিল। গিফটটা ছিল- আমাদের সিলেট ট্রিপ। দাদুর এক বন্ধু সিলেটে চা-বাগানের ম্যানেজার ছিলেন। তার সাথে কথা বলে দাদু আমাদের জন্য একটা বাংলোবাড়ি ঠিক করে রেখেছেন। আমরা যাব, দুইদিন থাকব, চা-বাগান দেখব! সবাই হইহই করে ওঠে আনন্দে!
আমরা ওইদিন ছোটচাচার সাথে আলোচনায় বসলাম। সিলেটে গিয়ে এমন কী করা যায় যাতে আমাদের ট্রিপটা স্মৃতিময় হয়ে থাকবে? বিভিন্ন আইডিয়া আসল।
এরমধ্যে অর্ক ভাইয়া প্রস্তাব দেয়, চল আমরাও প্ল্যানচেট করি।
আমরাও বেশ শিহরিত বোধ করলাম! ছোটচাচা তো এসব উদ্ভট কাজে একপায়ে খাড়া।
কিন্তু তিনি গম্ভীরমুখে নিষেধ করলেন, না অর্ক। কিছু জিনিস নিয়ে বাড়াবাড়ি ভাল না।
-মানে তুমি বিশ্বাস কর যে প্ল্যানচেট করলে সত্যিই ভূত নামবে?
-না করি না। কিন্তু তাই বলে আমি সেটা যাচাই করতে যাব না।
এরপর আমরা সবাই মিলে ধরলাম, প্লিজ চাচা, প্লিজ প্লিজ!
চাচা বললেন, প্ল্যানচেট করার কিছু নিয়মকানুন আছে। এজন্য প্ল্যানচেট বোর্ড লাগে। এমনি এমনি হয় না। এসব আমরা জানি না।
-না জানলে নাই। আমরা যা জানি তাই করব। মোমবাতি জ্বালিয়ে, হাত ধরে বসে আত্মা ডাকব।
– প্লিজ চাচা! শুধু আমরাই তো। আর তো কেউ না।
চাচা অনেক পীড়াপীড়িতে রাজি হলেন। কিন্তু শর্ত দিলেন, বড় কেউ যেন এর খবর না জানে।
সিলেটে পৌঁছে আমরা সবাই খুব খুশি। আমরা চা-বাগান ঘুরে ঘুরে দেখলাম। অনেক আদিবাসী মেয়েরা কাজ করছে। কেউ কেউ বাচ্চা পিঠে ঝুলিয়ে। সেখানে আমরা কয়েকজনের সাথে কথা বললাম।
একটা মেয়েকে পেলাম। নাম ছিল সিন্ধি। মেয়েটা অনেক কথা বলে আর অনেক হাসে। আর ওর হাসিতে কেমন যেন অনেকটা ঝংকার ওঠে! অট্টহাসির মত লাগে শুনতে!
যাইহোক আমরা প্রথম দুইদিন ঘুরতে ঘুরতে এত ক্লান্ত হয়ে গেলাম যে প্ল্যানচেট করাই হল না।
আমাদের আসার আগেরদিন আমরা সকালে খুবই মর্মান্তিক একটা খবর পেলাম। আর সেটা হল সিন্ধি আত্ম*হত্যা করেছে। মনটা অসম্ভব খারাপ হল। এমন কী হল যে মেয়েটা আত্মহত্যা করল! ওর হাসির আড়ালে কী এমন দুঃখ লুকিয়ে ছিল!
রাতেরবেলা প্ল্যানচেট করব ঠিক করলাম। আমরা নিয়মকানুন কিছুই জানি না। আমাদের কাছে বোর্ডও ছিল না।
আমরা নিজেদের মত করেই চেষ্টা করলাম। ছোটচাচা আর অর্ক ভাইয়ার রুমের খাট দু’টিকে এক সাইডে সরিয়ে দিয়ে আমরা রুমের মধ্যে জায়গা করে নিলাম। এরপর গোল হয়ে বসলাম। লাইট নিভিয়ে, ঘর অন্ধকার করে একজন আরেকজনের হাত ধরলাম। আমরা জানি কিছুই হবে না। এটা নিছকই মজা। তবুও আমরা ভেতরে ভেতরে খুবই উত্তেজনা বোধ করছিলাম।
প্রিয়া, আমার ফুপাত বোন বলল, কার আত্মা ডাকব আমরা?
– আইনস্টাইনের!
– পাগল নাকি! পরে যদি সূত্র ধরে আর না পারি!
ছোটচাচা হাহা করে হেসে বললেন, তোদের ভাব দেখে মনে হচ্ছে সত্যিই ভূত আসবে! এরকম যেভাবে ইচ্ছা করলেই আসে না।
আমার চাচাত ভাই প্রত্যয় বলে, আচ্ছা আমরা যেহেতু আমাদের মত করে করছি, তাই ভূত না এসে ভূতের বাচ্চা আসলেও হবে!
ছোটচাচা এবার সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলে, আমি পেয়েছি। আমরা ডাকব সিন্ধির আত্মাকে। তাহলে আমরা জানতে পারব কেন সে আত্মহত্যা করল!
তোরা সবাই একে অপরের হাত ধরে বসবি। চোখ বন্ধ করে আস্তে আস্তে বলবি, “আমাদের আশেপাশে যদি সিন্ধির আত্মা থেকে থাক সে এসো। আমরা আহ্বান করছি তোমায়। তুমি এসো।”
আমি বললাম, শুনেছি প্ল্যানচেটে এভাবে আত্মা ডাকলে তাদের অনেক কষ্ট হয়।
গম্ভীরমুখে চাচা বললেন, ঠিকই শুনেছিস। চল শুরু করি।
আমরা কিছুক্ষণ এভাবে বলার পর ফিক করে সোনিয়া হেসে ফেলে।
ছোটচাচা হইহই করে উঠলেন, আরে এভাবে তো হবে না। মজা নাকি কোন?
অর্ক ভাইয়া হিহি করে হেসে বলে, ওর ওপরই ভর করেছে সিন্ধি!
ছোটচাচা বললেন, এই লাস্ট টাইম। আর দশ মিনিট। এরপর এসব বন্ধ।
-ওকে।
এরপর আর পাঁচ মিনিট এরকম ডাকার পর হঠাৎই একটা দমকা হাওয়া এল। আর তক্ষুনি মনে হল আমাদের সার্কেলটার ঠিক।মাঝখান থেকে কেউ যেন একদম হুবহু সিন্ধির মত করে হেসে দিল। সেই তীক্ষ্ণ ঝংকার তোলা অট্টহাসি! আমরা চমকে তাকিয়ে দেখি মোমবাতিগুলো সব নিভে গেছে!
ছোটচাচা ভয়ার্ত গলায় বললেন, কে?
ঘরে একটা ফিসফাস কেমন আওয়াজ হল।
অর্ক ভাইয়া এবার বলে, কে? কে করছে এরকম?
এবার কে যেন ফ্যাসফ্যাসে গলায় কথা বলে। কিচ্ছু ভাল বুঝতে পারলাম না। তবে স্পষ্ট কয়েকটা কথা শুনলাম, কষ্ট! কে..কেন ডেকেছ! প্রতিশোধ…নেব… তোমাদের…ভুল.. এভাবে ডাকলে কে… কেন?
এরপর আবার সেই তীক্ষ্ণ হাসি। সিন্ধির অট্টহাসি।
ছোটচাচা বললেন, সবাই হাত ছাড়।এক্ষুনি!
আমরা সাথে সাথেই হাত ছেড়ে দেই। ছোটচাচা উঠে লাইট জ্বালালেন। তীব্র আলোয় রুম ভরে ওঠে। সবার মুখ ভয়ে সাদা হয়ে গেছে!
মুনিয়া কাঁদোকাঁদো মুখে বলে, কী হল ছোটচাচা!
ছোটচাচা ওকে জড়িয়ে ধরে মুখ শক্ত করে বললেন, সবাই সবার ঘরে যা।
আমি মাথা নেড়ে বললাম, আমি আর একা একা যেতে পারব না। আমাকে দিয়ে আসতে হবে।
সবাই মাথা নাড়ে। কারও আর বিন্দুমাত্র সাহস অবশিষ্ট নেই।
আমরা সবাই চাচার রুম থেকে বের হয়ে বারান্দা দিয়ে আমার রুমের দিকে হাঁটছি। আমাদের বাংলোটার সামনে একটা অনেক বড় বটগাছ। আমি হঠাৎই সেখানে তাকিয়ে পাথরের মত জমে গেলাম! আমি অর্ক ভাইয়ার হাত খামচে ধরি।
আমার দৃষ্টি অনুসরণ করে সেও অস্ফুট কণ্ঠে বলল, সিন্ধি!
সিন্ধি একটা আবছায়া হয়ে সেই গাছের নিচটায় দাঁড়িয়ে আমাদের হাতছানি দিচ্ছে!
আমি চিৎকার করতে যাচ্ছি আর ছোটচাচা আমার মুখ চেপে ধরে বলেন, কী করছিস? সবাইকে তুলে ফেলবি নাকি! সবাই জানলে বাসা থেকে বের করে দেবে।
অর্ক ভাইয়া বলে, আর কিছু না বললে ভূতের হাতে প্রাণ যাবে!
ছোটচাচা বললেন, আমি তো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না!
প্রত্যয় বলে, আমিও দেখেছি। এখন চলে গেছে!
তখন আমাদের মাঝে দুটো দল হল। একদল বলল, দেখেছি। আরেকদল বলল, দেখিনি।
ছোটচাচা বললেন, ঠিক আছে। তোরা থাক। আমি যাচ্ছি। আমি ওখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখি কী আছে।
আমরা সবাই ‘না না’ করে উঠি।
মুনিয়া বলে, যেও না চাচা। সিন্ধি কী বলল মনে নেই? ও বলেছে ওকে ডেকে আমরা ভুল করেছি। ওর কষ্ট হচ্ছিল। ও বলেছে প্রতিশোধ নিবে..যেও না।
সোনিয়া মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ। ও ঠিক বলছে। সিন্ধির কথাগুলো সাজালে এটাই দাঁড়ায়।
ছোটচাচা বললেন, তোরা ভুল দেখেছিস। আমি যাচ্ছি। ভয়ে এসব উল্টোপাল্টা দেখেছিস। গাছের পাতা নড়েছে আর কিছু না। আমি যাচ্ছি।
ছোটচাচা কারও কথা না শুনে রওনা হলেন। আমরা ভয়ে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
ছোটচাচা গাছটার নিচে গিয়ে আমাদের দিকে হাত নাড়লেন। আর এরপর হঠাৎই অদৃশ্য কিছু একটা শক্তি চাচাকে সাঁ করে উপরে উঠিয়ে দড়াম করে নিচে ফেলে দিল। আর ঠিক তক্ষুনি আমরা আবার সেই অট্টহাসিটা শুনলাম।
চাচার চিৎকার, আমাদের চিৎকারে সবাই উঠে আসে। চাচাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়।”
আমার ঘটনা বলা শেষ হয়।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, সেই থেকে আমার ছোটচাচা হুইলচেয়ারে! চাচার রুমকি চাচীর সাথে বিয়ে হয়েছে। তাদের আগেই রিলেশন ছিল। চাচী রাজি হয়েছে। আমরা এর অনেক ব্যাখ্যা খুঁজেছি। পাইনি। কেউ বিশ্বাস করুক আর না-ই করুক আমরা কয়েকজন বিশ্বাস করি এটি একটি অলৌকিক ঘটনা!
এতক্ষন সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। একটা কথাও কেউ বলেনি।
ঈপ্সিতার বাবা এবার বলেন, আচ্ছা এটার অন্য কোনও ব্যাখ্যাও তো থাকতে পারে!
আমি ম্লান হেসে মাথা নেড়ে বললাম, না নেই। আপনারা সেটা এখুনি নিজেই বুঝতে পারবেন!
আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই সেই হাসিটা শোনা গেল! সেই রক্ত হিম করা, তীক্ষ্ণ ঝংকার তোলা অট্টহাসি! ঠিক মাঝখান থেকে!
সবাই চমকে চিৎকার করে ওঠে। কণিকা আমাকে খামচে ধরে!
আমি মৃদু হেসে বললাম, এইজন্যেই আমি এই গল্পটা বলতে চাইনি। ওই ঘটনার পর থেকেই যখনই আমাদের কেউই এই ঘটনাটা বলি ও কীভাবে যেন বুঝে ফেলে! ঠিক উপস্থিত হয়ে যায় যেখানে ওর নাম নেয়া হয়েছে সেখানে…ওর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে!