বিকেলের আলো ক্রমে গাঢ় হয়ে আসছে। অনুরাধা জানালার পাশে বসে, হাতে এক কাপ চা, চোখ দু’টো বাইরের আকাশে স্থির।
আজ সাত দিন — অয়ন ফোন করেনি, মেসেজও না।
না রাগ, না অভিমান—শুধু একটা প্রশ্ন জাগে…
“তোমার চুপ করে থাকা, কি আমার চুপ করে থাকা থেকে আলাদা?”
—
পুরনো চিঠির পাতায় ফিরে দেখা
এক সন্ধ্যায় অনুরাধা অয়নকে একটা চিঠি দিয়েছিল। অয়ন সেটা পড়েছিল, কিন্তু বলেছিল কিছু না।
চিঠিতে লেখা ছিল:
> “তুমি পাশে না থেকেও পাশে আছো…
এই অনুভবটা বড় অদ্ভুত।
আমি কি তোমার গল্পে একটা চরিত্র, নাকি তুমি আমার অসমাপ্ত কবিতা?”
সেদিন অয়ন শুধু তাকিয়ে ছিল। চুপ করে, গভীরভাবে।
সেই নীরবতা অনুরাধার ভেতর একটা আশ্চর্য কাঁপন তুলেছিল।
—
আজকের দিনটা অন্যরকম
অনুরাধা আজ বেরোয়নি। রুমটা হালকা অন্ধকার, দেয়ালে বইয়ের তাক, একটা টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে।
সেই টেবিলের একপাশে অয়নের দেওয়া পুরনো বইটা পড়ে আছে—“সিদ্ধার্থ”।
পাতার মাঝে একটা গোলাপ শুকিয়ে গেছে, যেদিন অয়ন দিয়েছিল সেদিনকার।
অনুরাধা তার ডায়েরি খুলে লেখে—
> “ভালোবাসা মানেই কি দেখা হওয়া?
নাকি মনে করে যাওয়াই ভালোবাসা?”
—
অন্যদিকে – অয়নের শহর
অয়ন ব্যস্ত। নতুন প্রজেক্ট, বাবা-মার চাপে কিছু জীবন বদলে গেছে।
সে ভাবে, অনুরাধার সঙ্গে কথা বললেই তার সব কিছু ধীরে যেতে থাকে—আর এখন সময় থামানো চলে না।
তবু, প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সে একবার ফোনের স্ক্রিন দেখে,
“অনুরাধা…”
তিনটি ডট, আর কিছু না।
—
এক চিঠি, যা কখনো পাঠানো হয়নি
অনুরাধা আজ লিখে ফেলে আরেকটা চিঠি।
পাঠায় না, শুধু লেখে।
> “তোমার সঙ্গে থাকা মানে নিজের সঙ্গে দেখা হওয়া।
কিন্তু তুমি যখন দূরে সরে যাও, তখন নিজের একটা অংশ হারিয়ে ফেলি।
তুমি কি জানো, আমি অপেক্ষা করতে পারি… কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা ছাড়া?”
চিঠিটা শেষ হয়—
> “যদি কখনো ফিরে আসো… আমি এখানেই থাকব।”
—
বৃষ্টি আসে, কিছু ধুয়ে দিয়ে যায়
রাতে হালকা বৃষ্টি নামে। জানালায় ফোঁটা ফোঁটা শব্দ বাজে।
অনুরাধা জানে না কেন, আজ একটু হালকা লাগছে বুকের ভেতর।
হয়তো ভালোবাসার একটা রং—অপেক্ষার রং—সে মেনে নিতে শিখছে।
সেই রাতে ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে ফোনে একটা মেসেজ আসে—
অয়ন: “আমি ঠিক জানি না কী বলতে চাই… কিন্তু জানো, আমি প্রতিদিন তোমাকে ভাবি।”
অনুরাধার ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে।
সে জবাব লেখে না,
শুধু চোখ বন্ধ করে, বুকের কাছে ফোনটা টেনে নেয়।
—
শেষ দৃশ্য – গল্পের মাঝে দুজন
কখনো কখনো সম্পর্কগুলো গল্পের মতো হয়—
প্রতিদিন একটা নতুন অধ্যায়, কিন্তু শেষ কোথায় কেউ জানে না।
অনুরাধা আর অয়নের গল্প কি প্রেমের?
নাকি একটা ভীষণ সুন্দর ভুল বোঝাবুঝি?
তবু তারা লিখে চলে —
ভোরের শেষ চিঠি।