অবয়ব
মূর্তিটা কিনে বাড়ি আনার পরদিনই তন্বী বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো। বলে গেলো, ‘এই বাজে মূর্তিটা যতোদিন বাড়ি থেকে না সরাচ্ছো, আমি বাড়ি ফিরবো না।’ আমিও বললাম, ‘তোমাকে বিয়ে করার পর থেকে আমার একটার পর একটা জিনিস ছাড়তে হচ্ছে।
মূর্তিটা কিনে বাড়ি আনার পরদিনই তন্বী বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো। বলে গেলো, ‘এই বাজে মূর্তিটা যতোদিন বাড়ি থেকে না সরাচ্ছো, আমি বাড়ি ফিরবো না।’ আমিও বললাম, ‘তোমাকে বিয়ে করার পর থেকে আমার একটার পর একটা জিনিস ছাড়তে হচ্ছে।
পুকুরটাও দেখলাম। চারদিকে গাছপালা ঘেরা নির্জন এক পুকুর। সকালের রোদও গাছপাল ভেদ করে পুকুরে আসতে পারছে না। জায়গাটা বেশ নিস্তব্ধ। কোনো পাখির ডাক নাই, পোকার শব্দও নাই। নিজের হার্টবিটের শব্দ মনে হচ্ছিলো নিজেই শুনতে পারছি।
খালামণি থামলেন। চিরকালের হাসিখুশি খালার মুখে এমন ভয়ের গল্প শুনে আমাদেরও ভয়ে ঘাম ছুটে গেছে। খালামণি বললেন, ‘তাড়াতাড়ি সবাই নিচে চলে যা। ঘুমাতে হবে। কালকে তো আবার বৌভাতের অনুষ্ঠান, সকাল সকাল জাগতে হবে।’
আব্বু যদি একটা দিনের জন্যও আগের মতো হয়ে যেতেন, আগের মতো সেই খোলামেলা, হাসিখুশি মানুষটি, তবে হয়তো আমাদের পরিস্থিতিটুকু এতোটা ঘোলাটে হয়ে উঠতো না। আম্মু আব্বুকে বলতেন এই বাড়ির ভূতুড়ে কাহিনী।
মা পরদিন বাবাকে রিমুর কথা বলতে পারলেন না। বাবা শুনতেই চাইলেন না। কেবল চিৎকার করে বলতে লাগলেন, ‘তাহলে তুমি বলতে চাও, আমার মেয়ে পাগল?’
সেইরাতে কেমন হাসির শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। দেখি, রিমু ঘুমের মধ্যে হাসছে। চারদিক নীরব, নিস্তব্ধ, অন্ধকার, এর মাঝে একটা বাচ্চার হাসি যে কি পরিমাণ ভয়ংকর হতে পারে, আমি বোঝাতে পারবো না। রিমু আগে কখনো এমন করেনি।তাড়াতাড়ি ওকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বললাম, ‘তুই হাসছিস
আমার একবার এমন হয়েছিলো। আমি তখন বেশ ছোট, ক্লাস ফোর কি ফাইভে পড়ি। ২০০৬ কি ২০০৭ সালের ঘটনা। সেদিন আমাদের বাসায় একটা বাজে ঘটনা ঘটেছিলো। আমাদের বিল্ডিংয়ের নিচের তলার এক আপু সুই*সাইড করেছিলেন।
“মাশাআল্লাহ বলার বালাই নাই, খালি সুন্দর সুন্দর করতেছে! ফাজিল মেয়েছেলে!” শায়লার পাশে দাঁড়ানো মধ্যবয়সী এক মহিলা বিরক্ত মুখে বিড়বিড় করল।
প্রতিরাতে লোকটাকে আমি আমার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। স্বপ্নে। লোকটাকে আমি চিনতে পারি না, অন্ধকারে ঢাকা পড়ে থাকে তার চেহারা। কিন্তু তবুও বুঝতে পারি, সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে
আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই সেই হাসিটা শোনা গেল! সেই রক্ত হিম করা, তীক্ষ্ণ ঝংকার তোলা অট্টহাসি! ঠিক মাঝখান থেকে! সবাই চমকে চিৎকার করে ওঠে। কণিকা আমাকে খামচে ধরে!