স্বামী সাগরের হাতে বিয়ের দ্বিতীয় রাতে অসহনীয় মার খেয়ে তিয়াসা সে রাতেই সিদ্ধান্ত নেয় এভাবে আর বাঁচবে না। যদি স্বামীর সাথে ভালোভাবে সংসার করতে পারে তাহলে করবে অন্যথায় নিজেকে শেষ করে দিবে। এভাবে মৃতের মত বেঁচে থাকার কোনো মানে হয় না। যেখানে সবাই মেনে নিয়েছে সেখানে স্বামী তাক্র স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয় না।
বিয়ের দ্বিতীয় রাতও বারান্দায় কাটিয়ে দেয় তিয়াসা। সকালে বাহিরে এসে রান্নাঘরে যায়। সাগরের মা কাজ করছিলেন। তিয়াসাকে দেখেই বলেন, “কাল তো আগ বাড়িয়ে ওখানে গেলে। সাগর কি কি করেছে? ”
তিয়াসা গতকাল নিজের শ্বাশুড়ি যাতে কষ্ট না পায় সেজন্যই সাগরের সাথে থাকতে গিয়েছিল। আজ যদি সে বলে গতরাতে সাগর তাকে ইচ্ছামত মেরেছে তাহলে তিনি সেই কষ্টই পাবেন। অন্যকে কষ্ট দিতে তিয়াসার ভালো লাগলো না। বললো, “কাল রাতে উনি তেমন কিছু বলেনি। শুধু জানতে চেয়েছিল কেন এসেছি। আমিও দুই এক কথা বলে কাটিয়ে দিয়েছি। এরপর আর কিছু বলেনি।”
তিয়াসা শ্বাশুড়ির মুখ দেখেই বুঝতে পারে তিনি বিশ্বাস করেন নি। না করলে নেই, সে তো সত্য কথা বলেওনি। আর শ্বাশুড়িকে খুশি করার জন্যই বলেছে। যদি শ্বাশুড়ি বিশ্বাস না করে তাহলে কার কি?
কিছুক্ষণ পর সাগর উঠে। সাগরকে দেখেই তার মা বলে, “কাল রাত্ব ঘুমানোর আগে তিয়াসার সাথে কি ব্যবহারটাই না করলি। বউয়ের গায়ে হাত পর্যন্ত তুললি। অথচ রাতে তো ঠিকই ভালোভাবে ঘুমালি। কি দরকার ছিল ওইসবের বল?”
সাগর একটু অবাক হয়। ভালোভাবে ঘুমালো মানে কি? রাতে তিয়াসাকে যে মারা মেরেছে এতে তিয়াসার অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কথা। অথচ মা বলছে ভালোভাবে ঘুমিয়েছে? তিয়াসা না বললে তো এ কথা মা জানবে না। তারমানে তিয়াসাই মাকে এসব বলেছে? কাল রাতে এসেই বলেছিল মা যাতে কষ্ট না পায় সেজন্য সে এই রুমে এসেছে। এরপর সাগর যখন অমানুষিক ভাবে মারছিলো তখন টু শব্দটি পর্যন্ত করেনি। তার মানে তিয়াসা আসলেই মাকে তার মাকে খুশি করার জন্য এসব করছে? নিজের কষ্টের কথা গোপন রাখছে? কিন্তু কেন? তিয়াসা তো আগে সাগরকে চিনতো না। হঠাৎ করেই তাদের বিয়ে হয়েছে। তাহলে একদিনে এত মায়াই বা জন্মাবে কেন সাগরের জন্য। সাগর চিন্তা করে কূল পায় না। সবকিছু হঠাৎ এলোমেলো হয়ে গেছে। কি বলবে বুঝতে পারে না। সাগরকে এভাবে চুপ থাকতে দেখে সাগরের না আবার বলে, “কিছু বলিস না কেন? কাল সন্ধ্যায় যে মেয়েটাকে এত কষ্ট দিলি রাতে তার সাথেই থাকলি। মেয়েটার কাছে ক্ষমা চেয়েছিস? সেটা তো চাসনি।”
সাগর এবারও কিছু না বলে নাস্তা খেতে বসে। ওদিকে তিয়াসা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনছিলো। শ্বাশুড়ির কথা শুনে একবার ইচ্ছা হল সামনে গিয়ে বলে দেয় কাল রাতে তারা ভালোভাবে ঘুমায়নি। সে ভালোভাবে ঘুমায়নি। ঘুমিয়েছে তার কাগজে কলমের স্বামী। তার বাবা জোর করে তার চেয়ে দশ বছরের বড় যে লোকের সাথে তার বিয়ে দিয়েছে সে। যে লোকের দ্বিতীয় স্ত্রী তিয়াসা সে। সমাজ স্বীকৃতি দেওয়ার পরও যে তিয়াসাকে তার স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়নি সে। সেই লোকটাই আরাম করে ঘুমিয়েছে সারারাত। ঘুমানোর আগে তিয়াসাকে মেরে হাতের সুখ করে নিয়েছে। তিয়াসা বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ না করায় আরো শান্তিতে মারতে পেরেছে। একপর্যায়ে নিজেই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। আর অভাগিনী তিয়াসা, সারারাত চোখের জল ফেলে শেষ পর্যায়ে এসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ জীবন সে আর রাখবে না। তিয়াসার খুব ইচ্ছা হল শ্বাশুড়ি আর তার কাগজে কলমের স্বামীর সামনে গিয়ে কথাগুলো বলে। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য বাঁধা তাকে আর এগোতে দেয়না। দরজার আড়ালে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তিয়াসা আবার ভিতরে চলে যায়।
সাগরও চুপচাপ খেয়ে উঠে যায়। প্রথমবারের মত তিয়াসার জন্য অপরাধবোধ হচ্ছে। কাল রাতে এতটা নির্দয় না হলেও পারতো সে। কিন্তু তারই বা দোষ কি? তাহানা যে তার সবটা জুড়ে আছে। তাহানার স্থান অন্য কাউকে সে কিভাবে দিবে? সেখানে তিয়াসা এসেছে এই জায়গা নেওয়ার জন্য। সাগর কিভাবে তা সহ্য করবে? কিন্তু অবাক লাগছে অন্য জায়গায়। তিয়াসা কেন সবকিছু চেপে যাচ্ছে? মাকে খুশি করার জন্য এতকিছু কেন করবে সে? সাগর ভেবে পায় না। খাওয়া শেষ করে অফিসের উদ্দেশ্য বেরিয়ে যায়।
সাগর যাওয়ার পর সাগরের মা তিয়াসাকে ডেকে বলেন, “মা তোমার কষ্ট হচ্ছে জানি। কিন্তু আমার থেকে লুকিয়ে লাভ নেই। আমি কিছু মনে করব না। আর কাউকে না বললে তুমি আরো কষ্ট পাবে। তাই কিছু হলে আমাকে বল কেমন?”
তিয়াসার বুঝতে বাকি রইলো না যে সাগরের মা তার একটু আগে বলা কথাগুলো বিশ্বাস করেনি। কিন্তু সাগর কাল রাতে যা করেছে তা ভাবাও অসম্ভব। এতটা হয়তো তিনি ভাবেনও নি। তাই তিয়াসা কিছু বলে না। মাথা নেড়ে সায় দেয়, “আচ্ছা মা বলব।”
সাগর অফিসে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয় তিয়াসাকে সে কখনোই মেনে নিবে না। কিন্তু আর যাই হোক তিয়াসার গায়ে হাত তুলবে না কখনো। তিয়াসা যদি তার রুমে শুতেও আসে তাহলে শুবে। কাগজে কলমে যেহেতু তারা স্বামী স্ত্রী তাই একসাথে শুতে বাঁধা নেই। কিন্তু সে মন থেকে কখনোই মানতে পারবে না তিয়াসাকে।
অফিস থেকে আসার পথে সাগর আবার বারে যায়। প্রতিদিনের মতই নেশা করে। সম্পূর্ণ মাতাল হয়ে বাড়ি ফেরে। এবং গতরাতের মতই অবস্থা হয় তিয়াসার সাথে। রাতে ঘুমাতে গেলে সাগর আবারও হাত তুলে তিয়াসার গায়ে। নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা সাগর ভুলে যায় সকালের ভাবনার কথা। আর তিয়াসা, বেচারি নির্দয়ভাবে মারের স্বীকার হয়। বলতে পারে না কিছুই।
সে রাতও বারান্দায় কাটিয়ে দেয় তিয়াসা। চোখের জলে বাঁধ দিতে পারে না কোনোভাবেই। যদি নিজেকে শেষ করে দেওয়া সর্বোচ্চ পর্যায়ের পাপ না হত তাহলে হয়তো ঠিকই নিজেকে শেষ করে দিত। কিন্তু সে তো আর সহ্য করতে পারছে না। জগতে তার জন্য বাকি নেই কিছুই। আর কত গঞ্জনা সইতে হবে তাকে? আর কতকাল স্বামীর হাতে এভাবে নিগৃহীত হবে? আর কতকাল পর সে তার কাঙ্ক্ষিত জীবন পাবে? সে সুযোগ আর আসবে বলে মনে হয় না। তিয়াসা সেই আশাও করে না। তাহলে তার এই পৃথিবীতে বেঁচে থেকে লাভ কি? সৃষ্টিকর্তা কি এতটুকু বুঝবেন না? সে যে অপারগ। আর সহ্য করতে পারছে না পৃথিবী। সৃষ্টিকর্তা তাহলে তাকে কেনই বা বাঁচিয়ে রেখেছেন? উত্তর পায় না তিয়াসা।
এভাবেই দিন কাটতে থাকে। সাগর প্রতিদিন সকালে আগের রাতের জন্য অনুতপ্ত হয়। পণ করে তিয়াসার গায়ে হাত তুলবে না। কিন্তু রাতের বেলা নেশাগ্রস্ত হয়ে বাসায় এসে আর কিছু মাথায় থাকে না। তিয়াসা চোখ মুখ বুজে সব সয়ে যায়। সৃষ্টিকর্তার কাছে মুক্তি চায়। মনে প্রাণে এই আশা করে যে একদিন সাগর ঠিক হয়ে যাবে। সে সুন্দর একটা সংসার পাবে। অথবা তার আগেই সে মারা যাবে। জগতের মায়া কাটিয়ে চলে যাবে পরলোকে। এই আশাতেই দিনের পর দিন কাটে তিয়াসার। ওদিকে সাগরের মা ভাবেন সাগর এখন আর তিয়াসার সাথে খারাপ ব্যবহার করে না। তিয়াসা যে ভুলেও কিছু বলে না! শুধু দেখেন ছেলে উশৃংখল। ভাবেন এটাও হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। তিয়াসাকে ঘরের লক্ষী মনে করেন। ভাবেন তিয়াসাই সাগরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবে।
একদিন সাগর অফিস থেকে বাসায় ফিরে প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে। তিয়াসা আর সাগরের মা অনেক কষ্ট করে রুমে নেয়। সাগরের গায়ে হাত দেওয়া যাচ্ছে না গরমের জন্য। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। তিয়াসা সাগরের জামা খুলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেয়। সাগরের মা ডাক্তার কল করে। ডাক্তার এসে জানায় হঠাৎ করে স্যুগার ফল করেছে। কিছু ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন দিয়ে যায়। তিয়াসা সাগরকে ওষুধ খাওয়ায়। সাগরের মা কোনোমতে সাগরকে রাতের খাবার খাইয়ে দেয়। খাওয়ার পর তিয়াসা যখন ওষুধ খাওয়াতে যায় তখনই সাগর তিয়াসার গায়ের উপর বমি করে দেয়। তিয়াসা তখন নিজ হাতেই সব পরিস্কার করে সাগরকে আবার অল্প কিছু খাওয়ায়। এরপর সাগরকে ওষুধ খাইয়ে শুইয়ে দেয়।
সাগর চলে গেলে তিয়াসা নিজে ফ্রেশ হয়ে শুতে যায়। বিয়ে হয়েছে প্রায় একমাস হয়ে গেছে। প্রতিরাতেই স্বামী সাগরের হাতে মার খেয়েছে তিয়াসা। আজও কি এরকম কিছু হবে? হঠাৎ এত অসুস্থ হয়ে যাওয়া সাগর কি মারতে পারবে তিয়াসাকে? নাকি প্রথমবারের মত মার না খেয়ে একটা রাত কাটাতে পারবে তিয়াসা। তিয়াসা ভেবে কূল পায় না।
খেয়ে তিয়াসা সাগরের রুমে চলে যায়। সাগরের জ্বর কমলেও পুরোপুরি কমেনি। তিয়াসা সাগরের কপালে জলপট্টি দিতে থাকে। একপর্যায়ে সাগর ঘুম থেকে উঠে যায়। তিয়াসা সাগরের দিকে তাকিয়েই ভয় পেয়ে যায়। এই অসুস্থ শরীর নিয়ে মারলে হয়তো সে সহ্য করতে পারবে কিন্তু সাগরেরই উল্টো ক্ষতি হবে। সাগর সেরকম কিছু করেনা। একদৃষ্টিতে তিয়াসার দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে চোখ নামিয়ে ফেলে। একটু পর আবার ঘুমিয়ে যায়।
2 Responses
Bluphim? Ah, a movie site. I’m always on the lookout for new flicks to watch. I’ll check it out and see if they have anything good. Thanks!bluphim
How ya goin’? Tried the jackpotlandapp. Pretty fun little app if you ask me. Worth a shot if you’re looking for a quick game on the go. Give it a go: jackpotlandapp