চেয়ারম্যানের_জেদি_মেয়ে পর্ব: ০৬

আব্বু: তোর এই আবদার আমি মেনে নিতাম, কিন্তু তুই আমাকে পুলিশের ভয় দেখাছ, ( রেগে)
লোক: আমার ভুল হয়ে গেছে, আমাকে মাপ করে দেন ( কেদে)
আব্বু: তোর কোন ক্ষমা নেই, ইশান তুই ওর ব্যাবস্থা কর, আমি গেলাম।
ইরার বাবা তো ওখান থেকে চলে যায়। এই দিকে ইরা পরের দিন এসে আকাশের সাথে দেখা করে। তবে ইরা যে আসবে, তা কিন্তু বলে আসে নি, হঠাৎ করেই চলে আসে৷ ইরাকে দেখে,,,
আকাশ: কি ব্যাাপার আপনি৷ এখাানে কেনো?
ইরা: এসেছি তোমার খোঁজ নিতে!
আকাশ: কয়েক দিন আগেও তো আপনি করে বলেছেন, এখন আবার তুমি করে বলতেছেন, ব্যাপারকি বলেন তো?
ইরা: তেমন কিছু না। তোমাকে দেখে কেনো যানি, তোমার মায়ায় পড়ে গেলাম।
আকাশ: মানে,,,
ইরা: মানে তেমন কিছু না। আচ্ছা তুমি তো ঢাকায় চলে যাবে, তা ওখানে তোমার কোন গালফ্রেন্ড নেই তো?
আকাশ: সে সব জেনে আপনি কি করবেন?
ইরা: আমার অনেক কিছু জানার আছে, আর জানার পরে বলার ও আছে৷।
আকাশ: আমার কোন গালফ্রেন্ড নেই।
ইরা: সত্যি বলছো তো?
আকাশ: আপনার কি মনে হয়, আমার মতো একটা গরিব ঘরের ছেলেকে কোন মেয়ে কি ভালোবাসবে?
ইরা: এটা অবশ্যই ঠিক কথা বলেছো। তোমাার নাম্বারটা দিয়ে যাও, আমার যখন ইচ্ছে হবে, তখনই তোমার সাথে কথা বলে নিবো।
আকাশ: আমার নাম্বার কেনো?
ইরা: একটু আগেই তো বলেছি, কথা বলার জন্য৷
আকাশ: যদি না দেই,,,
ইরা: আমার সাথে পাঙ্গা নেওয়াার পরেই৷, কয়েক দিন ধরে জ্বর ভুগতেছো। তাহলে বুঝে দেখো, সামনে তোমার আর কি কি হতে পারে।
১ মিনিটের জন্য আকাশ কিছু একটা ভাবতে থাকে৷ ভাবা শেষ হলে নাম্বারটা দিয়ে দেয়। ইরা খুশি মনে নাম্বারটা নিয়ে চলে আসে৷ এখন এই কাহিনি শুনে অনেকে বলবেন, লেখক সাহেব এটা কি করলো। ওনার তো আকাশের উপরে শত্রুতা থাকার কথা। কিন্তু তা না করে, হঠাৎ এত ধরদ দেখাচ্ছে কেনো, এটাই তো ভাবছেন৷ আসলে একটা কথা কি জানেন, সব শত্রুতার ফল কিন্তু, সহজে পাওয়া যায় না। কিছু জায়গায় টেকনিক খাঁটাতে হয়। এখন দেখা যাচ্ছে ইরা ও সেই টেকনিকটা খাটালো। ইরা কি আকাশকে ভালোবেসে ধোঁকা দিবে, না ওকে সত্যি সত্যি ভালোবেসে ফেলবে, সে সব প্রশ্নের উওর জানতে হলে, আপনাদের গল্পের সাথেই থাকতে হবে৷ কেনো না ইরার মনে কি কি চলছে, তা এক মাএ লেখকই জানে৷ সেজন্য দেখতে থাকুন, সামনে কি কি হয়৷ নাম্বার নিয়ে চলে আসার পরে,,,,
মা: আকাশ কেহ এসেছিলো ঘরে?
আকাশ: শাকিল এসেছিলো আম্মু
মা: ওকে বসতে বলতি?
আকাশ: আমি চলে যাবো তো, সেজন্য আমাকে দেখার জন্য এসেছে।
মা: তুই কি কালকেই ফিরে যাবি?
আকাশ: কি করবো বলো, অনেক পড়াশোনা পড়ে আছে। তার উপর টিউশন তো আছেই।
মা: তাহলে কালকেই চলে যাস, আমি তোর জন্য না হয় কিছু পিঠা বানিয়ে দিবো।
আকাশ: ঠিক আছে,,,
পরের দিন আকাশ বের হয়, পথে ইরার সাথে দেখা হয়, সেখানে ৫ মিনিটের মতো কথা বলে চলে আসে ঢাকায়৷ তবে গাড়িতে যতক্ষন ছিলো, ততক্ষণ কিন্তু ইরা অনেক বারই কল করে খোঁজ নিয়েছিলো। কিছুক্ষণ পরে বাসায় এসে আকাশ রেস্ট নিতে থাকে। পরের দিন থেকে শুরু করে দেয় টিউশনি,, ৭ দিন পরে,,,
ইরা: আব্বু, আমি ঢাকায় যাবো!
আব্বু: ঢাকায় কেনো যেতে চাইছিস?
ইরা: আমার কলেজ ১৫ দিনের মতো বন্ধ দিয়েছে, সেজন্য মামার বাসায় কয়েকটা দিন থেকে আসি।
আব্বু: কিন্তু তুই একা যাবি কি করে?
ইরা: এর আগে ও তো একা একা অনেক দিন গিয়েছিলাম,,,
আব্বু: ঠিক আছে, আমি তোর মামা আর মামীকে বলে দিবো।
ইরা: ঠিক আছে আব্বু,,,
পরের দিন ইরাকে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইরার দুই ভাই আসে। তবে ইরার ভাবিরা ইরার জন্য, অনেক কিছু তৈরী করে দেয়। এই দিকে ইরা যেতে থাকে, অন্য দিকে ইরার বাড়িতে তখনই শুরু হয় ঝামেলা। এই ঝামেলার মূল কারণ হচ্ছে ইরা নিজেই৷ কিন্তু কিভাবে শুরু হলো এই ঝামেলা, তা আপনারা ঠিকই জানতে পারবেন তবে ২-৩ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরে,,, ততক্ষণে আমরা ইরাকে নিয়ে আসি ঢাকায়৷ বাস থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আছে, তখন কেউ একজন পিছন থেকে এসে ইরার চোঁখ ধরে রাখে, আচমকা এভাবে চোঁখ ধরাতে ইরা কিছুটা ভয় তো পায়৷ কিন্তু হাত দিয়ে বুঝতে পারে এটা কোন মেয়ের হাত, সেজন্য বুঝতে আর বাকি রইলো না।
ইরা: নীলাশা তুই?
নীলাশা: বুঝলাম না, তুই আমাকে চিনলি কি করে?
ইরা: তুই ছাড়া আর কার এতো সাহস আছে, যে আমার চোঁখে হাত দিবে।
নীলাশা: এটা অবশ্য ঠিক বলেছিস, তা আসতে কোন অসুবিধা হয় নি তোর?
ইরা: কোন অসুবিধা হয় নি৷ তা তুই একা আসলি যে?
নীলাশা: তোর আসা, এখানে বাবা-মাকেও নিয়ে আসবো?
ইরা: আমি তা বলি নি।
নীলাশা: আচ্ছা এখন কথা না বলে চল আমার সাথে বাসায়৷
ইরা: ঠিক আছে চল।
ওরা বাসায় আসে, তবে ইরার এখানে আসার পিছনে অন্য কিছু কারণ আছে, যা আপনারা গল্পের সাথে থাকলে, ঠিকই বুঝতে পারবেন। একটু পরে ওরা চলে আসে বাসায়,, নীলাশা মা তো ইরাকে দেখে জড়িয়ে ধরে, কথা বলতে থাকে। সেজন্য,,,
নীলাশা: মা এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না।
মামী: কেনো রেহ, আমি কি করলাম।
নীলাশা: ওকে আসা মাএই জড়িয়ে ধরলে, কোই আমাকে তো কখনো এভাবে জড়িয়ে ধরো না।
ইরা: মামী নীলাশার অনেক হিংসে হচ্ছে তাই না।
মামী: তা তো হবেই, শত হোক, তোমারই তো মামাতো বোন।
কথাটা বলে ইরা আর ওর মামী দুজনেই হেসে দেয়।
নীলাশা: আমি ও দেখবো এই ভালোবাসা কতদিন টিকে।
ইরা: থাক মামী, ওকে ও একটু জড়িয়ে ধরো। নয় তো বেচারী সারা রাত কান্না করতে থাকবে, পরে দেখা যাবে, আমি ঘুমাতে ও পারবো না ঠিক মতো করে।
মামী: থাক ইরা, ওকে আর রাগিয়ে দিও না। নীলাশা তোরা ফ্রেশ হও, আমি তোদের জন্য খাবার দিচ্ছি।
ইরা: ঠিক আছে মামী৷ নীলাশা চল, রুমে যাই আমরা।
নীলাশা: ঠিক আছে চল। তা ইরা তুই হঠাৎ করে চলে আসলি?
ইরা: আমি আসাতে তোর কোন অসুবিধা কি হয়েছে?
নীলাশা: আমি তা বলি নি, তোকে গত কয়েকটা মাস ধরেও আমি আনতে পারি নি ঢাকায়৷ কিন্তু সে তুই হঠাৎ করে চলে এসেছিস, সেটা তো আমি ভাবতেও পারি নি।
ইরা: তোকে এতো ভাবতে হবে না। চল এখন রুমে।
ওরা রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে, গল্প করতে থাকে। এই দিকে ইরা যে ঢাকায় এসেছে, তা কিন্তু আকাশ মোটেও জানে না। কেনো না,, ইরা কোন কিছুই আকাশকে জানায় নি। কিছুক্ষণ পরে ওনা খাবার খেয়ে দুজনেই শুয়ে পড়ে। অন্য দিকে গ্রামে কি হচ্ছে, না হচ্ছে, তা আমরা একটু শুনে আসি। ইরা চলে আসার পরে ইরা ভাবি আর ভাইয়েরা মিলে আলাদা ভাবে কথা বলতে থাকে৷
সাথী: তোমার সাথে কিছু কথা আছে আমার!
আবির: কি কথা বলো।
সাথী: আগে বলো, তুমি শুনার পরে রাগ করবে না।
আবির: কি কথা আগে বলবে তো?
সাথী: আমি বলছিলাম কি,,,,,

Be the first to write a review

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প