ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলে যায়, কিন্তু তাদের ভিড়ের মধ্যেও কিছু ভালোবাসা হারিয়ে না গিয়ে উল্টো নতুন করে জন্ম নেয়।
সোহান আর মেহজাবিন – দুই ভিন্ন জগতের মানুষ। সোহান এক সাধারণ মধ্যবিত্ত ছেলেটি, একটি বইয়ের দোকানে কাজ করে, আর মেহজাবিন একটি নামী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, ধনী পরিবারের মেয়ে।
একদিন বই কিনতে এসে মেহজাবিন ভুল করে একটা পুরানো চিঠি নিয়ে যায় — যা সোহান তার প্রিয় লেখককে লিখেছিল কিন্তু পোস্ট করতে পারেনি।
চিঠিতে ছিল –
“ভালোবাসা মানে চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু না বলেও সব বুঝে ফেলা। আমি একদিন এমন কাউকে চাইবো, যে আমার চুপ থাকা বুঝে নিবে।”
মেহজাবিন চিঠিটা পড়ে এতটাই আবেগে ভেসে যায়, সে আবার দোকানে ফিরে যায়, আর সোহানকে বলে,
“তুমি কি সবসময় এমন লেখো?”
সোহান একটু লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে বলে, “না, মাঝে মাঝে… যখন মন চায়।”
সেদিন থেকে তাদের বন্ধুত্ব শুরু, তারপর সেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়।
সোহান তাকে কখনো দামি জিনিস দিতে পারেনি, কিন্তু প্রতিটা চিঠিতে সে তার হৃদয় ঢেলে দিয়েছে।
আর মেহজাবিন বুঝেছে – ভালোবাসা কখনো টাকায় কেনা যায় না, চিঠির পাতাতেই সে অনেক বেশি দামী।
একদিন মেহজাবিন তার বাবাকে বলে,
“আমি কাউকে ভালোবাসি, সে ধনী না, কিন্তু আমার জন্য তার কাছে একটা গোটা জগৎ আছে।”
কঠিন হলেও, ধীরে ধীরে পরিবারও মেনে নেয়।
আর চিঠির পাতার সেই ভালোবাসা একদিন সত্যি হয়ে যায়।
শেষ লাইনে লেখা ছিল:
“তুমি যদি থাকো, আমি কোনো দিন হারাতে ভয় পাবো না।”