চেয়ারম্যানের_জেদি_মেয়ে পর্ব: ০২

স্যার: তোমাদের অপরাদ হলো, তোমরা লেট করে ক্লাসে এসেছো৷ তাছাড়া তোমরা কি জানো না, আমার ক্লাসে লেট করে আসাটা আমি একদম পছন্দ করি না। তার পরেও লেট করে কেনো এলে? (রেগে)
ইরা: ওই একটা অসভ্য, বজ্জাত ছেলের জন্য আমার আজকে আসতে লেট হয়েছে।
স্যার: তা সে ছেলেটা কি করেছে?
ইরা: স্যার আমি রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে আসছিলাম, ছেলেটা হঠাৎ করে সামনে চলে আসে। এতে একটু ব্যাথা পায়, তবে আমি নিজেও ব্যাথা পেয়েছি অনেক। এতে ছেলেটা আমাকে অনেক বকাবকি করলো। ওই ছেলেটার সাথে জগড়া করতে করতে লেট হয়ে গেলো।
ববি: কি সব উল্টো পাল্টা বলছিস ( কানে কানে)
ইরা: তুই চুপ করে থাক৷ এখন দেখবি স্যার আমাদের কোন কিছুই বলবে না। ( কানে কানে)
ববি: সত্যি বলছিস ( কানে কানে)
ইরা: তুই শুধু দেখে যা, আগে আগে কি হয় ( কানে কানে)
স্যার: দুজনে কি নিয়ে পুসুর পুসুর করছো?
ইরা: আমি ওকে বলছিলাম, কোন টেনশন যেনো না নেয়। স্যার অনেক ভালো মানুষ, আমাদের ঠিকই ক্লাস করতে দিবে। এই কথাটা না বলেছিলাম তোকে।
ববি: হ্যাঁ, স্যার৷ এই কথাটাই বলেছে।
স্যার: কথা কম বলে ভিতরে এসে ক্লাস করো।
কথাটা শুনে ইরা তো মহা খুশি, এসেই বেঞ্চে বসে যায় ক্লাস করতে থাকে। অন্য দিকে আকাশের কি অবস্থা তা আমরা একটু দেখে আসি।
আকাশ: আচ্ছা শাকিল ওই মেয়েটা কেহ রেহ?
শাকিল: ওই মেয়ে হচ্ছে, আমাদের গ্রামের চেয়ারম্যান এর মেয়ে।
আকাশ: কি বলিছ, চেয়ারম্যান এর এতো সুন্দর মেয়ে আছে, আমি তো জানতামই না।
শাকিল: যদি আগে থেকে জেনে থাকতি! তাহলে কি করতি শুনি?
আকাশ: ওই মেয়েকে পটানোর চেষ্টা করতাম।
শাকিল: তোর কি মাথাটা গেছে?
আকাশ: মাথা কেনো যাবে?
শাকিল: ওই মেয়ের সম্পর্কে তো জানিস না কোন কিছু, সেজন্য এই কথাটা বলতে পারলি।
আকাশ: তাহলে একটু বল তো শুনি ,
শাকিল: ওই মেয়ের নামটা তো শুনলি! ওর বাবা যে চেয়ারম্যান সেটা ও জানতে পারলি। ওনার ২ টা ছেলে আছে, ওদের ভয়ে এলাকার কেউ ওনাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে একটুও সাহস পায় না।
আকাশ: কি বলিস এতটা সাঙ্ঘাতিক পরিবারের মেয়ে?
শাকিল: তাহলে আর বলছি কি! আর তুই কি না আসতে না, আসতেই ওই মেয়ের সাথে টক্কর নিয়ে নিলি! এখন ওই মেয়ে যদি ওর ভাইদের তোর কথা বলে, তাহলে তো তোকে মারবে সাথে আমাকেও। তাছাড়া তোর বাবা নেই, তোর মায়ের দিকে তাকিয়ে তুই একটু সাবধানে থাকিছ।
আকাশ: আরেহ আমি তো আছি কয়েকটা দিন, এরপর তো আবার ও ঢাকায় ফিরে যাবো।
শাকিল: আচ্ছা তুই ঘরে ফিরে যায় এখন।
একটু পরেই শাকিল আকাশকে ওদের ঘরে দিয়ে তারপর বেরিয়ে পড়ে। বাড়ির উঠোনে আসতেই আকাশের এমন অবস্থা দেখে, আকাশে মা দৌড়ে এসে নানা রকমের প্রশ্ন করতে থাকে।
আকাশ: আম্মু, এত প্রশ্ন করলে, আমি কোনটা রেখে কোনটার উওর দিবো বলো তো?
মা: আচ্ছা তাহলে আগে বল, তোর হাতে এইটা কি করে হলো।
আকাশ: আর বলো না আম্মু, রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালানোর সময়ে আমি পড়ে যাই, সেজন্য এরকমটা হয়েছে।
মা: কি দরকার ছিলো সাইকেল চালানোর। এমনিতে তুই এসেছিস কয়েকটা দিন এখানে থাকার জন্য, এখন এই অবস্থা নিয়ে থাকবি কি করে?
আকাশ: ওহ কিছু হবে না। তুমি চলো তো, আমাকে ভাত দাও, অনেক ক্ষিদে লেগেছে।
মা: তুই বস! আমি আজকে তোকে নিজের হাতে খাইয়ে দিবো।
আকাশ: ঠিক আছে চলো তাহলে।
একটু পরে আকাশের মা ওকে খাইয়ে দিতে থাকে৷ নিজের মায়ের হাতে খাবার, কেহ না খেতে চায় বলুন। এই দিকে আকাশ খেতে থাকুক, ততক্ষণে আপনাদের আকাশের সম্পর্কে একটু জানিয়ে দেই। আকাশ বর্তমানে পড়াশোনা পাশাপাশি, টিউশনি করাতে থাকে। আকাশের বাবা নেই, ১৫ বছর আগে ওনি মারা যায়৷ ওনি মারা যাওয়ার পরেই, আকাশের পরিবারে অভাব দেখা দেয়। কেনো না, ওনার যা জমানো টাকা ছিলো, সে টাকা দিয়েই এতটা দিন আকাশের পড়াশোনা চালাতে থাকে। আকাশের বাবার একটা দোকান ছিলো, সে দোকান অন্য কেউ এখন ভাড়া নিয়ে চালাতে থাকে। সেখান থেকে যা পায়, তা দিয়েই ওদের সংস্যারটা চলে কোন ভাবে৷ এক কথায় আকাশের সংস্যার চলে ওর টিউশনির কিছু টাকা আর দোকান ভাড়া থেকে।,, আকাশের খাওয়া হলে, ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। অন্য দিকে ইরা কলেজের ক্লাস শেষ করে চলে আসে বাড়িতে। বাড়িতে ইরাকে দেখেই, ইরার বাবা-মা, ভাই ভাবিদের মুখে হাঁসি ফুঁটে। কেনো না ইরা ওদের অনেক আদরের ছিলো।
আম্মু: তোর এতক্ষণে আসার সময় হলো?
ইরা: কি করবো আম্মু, কলেজে এতো এতো ক্লাস, কোনটা রেখে কোনটা করবো, ভেবেই তো পাচ্ছি না।
আম্মু: তুই ফ্রেশ হয়ে আয়, আমি তোর ভাবিকে বলে দিচ্ছি, তোর জন্য খাবার নিতে।
ইরা: ঠিক আছে আমি রুমে গেলাম।
ইরা রুমে আসে। কিছুক্ষণ পরে ইরার বড় ভাবি সাথী আসে ইরার রুমে।
ইরা: ভাবি তুমি কেনো আসতে গেলে, আমাকে বললে আমি না হয় নিচে আসতাম।
সাথী: মার খাওয়াবে নাকি আমাকে?
ইরা: মার কেনো খাবে?
সাথী: তোমার বড় ভাই যদি জানে, আমি তোমাকে নিচে নামিয়ে খেতে দিয়েছি, তাহলে আমার কি হবে, একবার ভেবে দেখেছো।
ইরা: ভাইয়ারা একটু বেশি ভাবে আমার জন্য৷
সাথী: তুমি ওনাদের একমাএ আদরের বোন। তোমাকে নিয়ে তো ভাববেই। তাছাড়া একটা কথা বলার ছিলো তোমাকে?
ইরা: কি কথা ভাবি?
সাথী: তোমার ভাইকে বলে, আমার যাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও৷
ইরা: তুমি আমার কোথায় যাবে?
সাথী: বাবার বাড়িতে যাবো।
ইরা: আমাকে না বলে, ভাইয়া অথবা বাবাকে বলো।
সাথী: তোমার ভাই আর বাবাকে তো কোন কিছু বললেই তো ওনারা রাগ করে। তাছাড়া সবাই তোমার কাছে বেড়ালে মতো থাকে৷ তোমার কথা সবাই শুনে, সেজন্য তোমার বাবা আর ভাইকে বলে দেখো, আমার যাওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না।
ইরা: কিন্তু আমি তোমার যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে, আমার কি লাভ হবে শুনি?
সাথী: আচ্ছা কি লাগবে তোমার তা বলো। আমার মেকাপ লাগবে নাকি শাড়ি লাগবে?
ইরা: ওই সব কোন কিছুই আমার লাগবে না।
সাথী: তাহলে কি লাগবে তোমার?
ইরা: আমাকেও তোমার সাথে নিতে হবে।
সাথী: তোমার না সামনে পরিক্ষা?
ইরা: পরিক্ষা হয়েছে তো কি হয়েছে?
সাথী: তোমাকে তো যেতে দিবে না, সাথে আমার যাওয়া ও কেন্চেল হয়ে যাবে।
ইরা: তাহলে যেও না।
সাথী: আচ্ছা ঠিক আছে নিবো আমার সাথে।
ইরা: এই তো আমার লক্ষী ভাবি।।।
এই বলে ইরা ওর ভাবিকে জড়িয়ে ধরে, তখনই সাথীর হাজবেন, মানে ইরার বড় ভাই চলে আসে।
আবির: কি ব্যাপার ভাবি, ননদের এত খাতির কবে থেকে হলো?
ইরা: ভাইয়া তোমাকে তা জানতে হবে না। তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
আবির: কত টাকা লাগবে তোর, শুধু বল একবার,,,
ইরা: উফ ভাইয়া টাকা লাগবে না তো!
আবির: তাহলে কি লাগবো?
ইরা: আমি আর ভাবি,,
আবির: তুই আর সাথী কি, কোথাও ঘুরতে যাবি, না সাথী তোকে কিছু বলেছে?
সাথী: আমি,,,,,,,,

Be the first to write a review

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প