#বলা হয়নি ভালোবাসি
লেখনীতে: নির্ঝরিনী
পার্ট – ১
✦
নতুন শহরের ধুলো-ধোঁয়া, অচেনা ব্যস্ততা আর ভিড়ের ভেতর একলা দাঁড়িয়ে আছে আহনাফ হাসান। শহরটি তার পরিচিত নয়, চাকরির সূত্রে এই শহরে আসা তার। ছোটখাটো একটা বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠানে কাজ করে সে। মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র সন্তান সে।
বেচেলর হিসাবে একটা বাসা ভাড়া নিয়েছে সে। তার পরিবার গ্রামেই থাকে। সকালটা ছিল নীরব আর কোমল। তার সারাদিনের পরিশ্রম শেষ করে সে বিকালে বের হয় অফিস থেকে। সভাবত বই পড়তে ভালো বাসে সে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি ছোট্ট বইয়ের রাজ্য—এক লাইব্রেরি, যেখানে বইয়ের পাতায় ঘুরে বেড়াত হাজারো গল্প, ঠিক তেমনই কোনো এক পাতায় হঠাৎই চোখ আটকে যায় আহনাফের।
নীল শাড়ি পরা একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল লাইব্রেরির কোণের টেবিলটায়। চোখে ছিল গাঢ় ফ্রেমের চশমা, ঠোঁটে নরম এক অদ্ভুত শান্তি। আহনাফ থমকায়, কিছু মুহূর্তের জন্য যেন তার হৃদ-স্পন্দন থেমে যায়। মেয়েটির চোখে ছিল দৃঢ়তা, অথচ সেই চোখে আবার ছিল কাব্যিক এক গভীরতা।
‘কিরে মেহের?! চল বের হই এবার বাইরের যা অবস্থা দেখেছিস, এক্ষুনি বৃষ্টি নামবে’……
‘হু চল।
আহনাফ বুঝতে পারল মেয়েটির নাম ‘মেহের’।
প্রথম দেখাতেই যেন হৃদয়ের কোথাও চুপিসারে নেমে এসেছিল ভালোলাগার এক মৃদু হাওয়া।
দুজনের চোখাচোখি হয়।
কোনো কথা নয়, তবুও মনে হয় হাজার কথা বলা হয়ে গেছে।
মেহের বের হয় লাইব্রেরী থেকে। বাইরেই তার জন্য গাড়ি অপেক্ষা করছিল। আহনাফ ও তার পিছু পিছু বের হয়। সাজ-সজ্জা ও চলন দেখে আহনাফ বুঝতে পারে মেয়েটি নিশ্চয়ই কোনো সম্রান্ত পরিবারের।
সন্ধ্যায়, লাইব্রেরির সেই বৃষ্টিস্নাত মুহূর্ত ফেলে দুজনেই যার যার বাসায় ফিরে যায়।
অপেক্ষা তখনও পিছু ছাড়ে না।
সেই রাতেই মেহের জানতে পারে—আহনাফ তার বাসার ওপরতলায় নতুন ভাড়াটিয়া হয়ে এসেছে!
কাকতালীয় নাকি নিয়তির লেখা, কে জানে…
তবে শুরুটা যেন এক কবিতার মতোই সুন্দর।
✦
(চলবে…)
রেসপন্স পেলে লিখবো ইনশা-আল্লাহ❤️🩹