শিকল পর্ব০৩

পরদিন সকালে, গতরাতটা দু’প্রান্তের দুজনের কাছে ছিল বিভীষিকাময়। ছিলনা কোন শান্তি। কষ্টের তীব্রতায় বুকের ভিতরটা শেষ হয়ে গিয়েছে দুজনের৷ একজনও রাতে বিন্দুমাত্র ঘুমায় নি। এ প্রান্তের শিকলে বাঁধা মায়া , ঠিক সেভাবেই বসে আছে ফ্লোরে। খুব কষ্ট হচ্ছে এসব মানতে। মায়ার বাবা আজ সুস্থ থাকলে মায়া এক মুহূর্তও এখানে আর থাকতো না। এই জায়গাটা এখন নরকের চেয়ে কম না। প্রতি নিঃশ্বাসে যেন কষ্টটা আরো বেড়ে যাচ্ছে মায়ার। কিন্তু বাস্তবতা এটাই। বাবার জন্য মায়াকে এই নরকে থাকতেই হবে। বাবাকে বাঁচাতে হলে এই বিশ্বাসঘাতককে মায়ার মেনে নিতে হবে। একদিকে ওর বাবা আরেকদিকে আবির। দুজনের জীবনই যেন ইমরানের হাতে। টাকার ক্ষমতা যে এতোই বেশী মায়ার তা জানা ছিল না। মায়া, বাবা আর আবিরের কথা ভেবে উঠে দাঁড়ায়। ও এই নরকে থাকবে কিন্তু কোন দিন ইমরানকে ওর শরীর স্পর্শ করতে দিবে না। মায়া এসব ভেবে ফ্রেশ হতে চলে যায়।
অন্যদিকে আবির, অন্ধকার এতোটা ওকে পেয়ে বসেছে যে দিনের আলো পর্যন্ত রুমের ভিতর ঢুকতে পারে নি। চোখগুলো এখনো ভিজে৷ নিচের অংশটা কালো হয়ে গিয়েছে অনেক রাত ঘুমায় না বলে। আর কান্নার কারণে ফুলে গিয়েছে চোখটাও। আবির যেন ভিতর থেকে মরে গিয়েছে। যে মানুষটাকে গত ৬ টা বছর নিজের চেয়ে বেশী ভালবেসেছে আগলে রেখেছে, সে আজ অন্যের বুকে দিব্বি শুয়ে আছে। এ কথা ভাবতেই আবিরের বুকটা চিনচিন করে ব্যাথা করে। দম বন্ধ হয়ে আসে। আবির দেয়ালের সাথে মাথা হেলান দিয়ে উপরে তাকিয়ে আছে। ঘুরন্ত ফ্যানটা যেন ওকে বলছে, তুই হেরে গিয়েছিস। মরে যা। নিজেকে শেষ করে দে। আবিরেরও মন চাচ্ছে মরে যেতে। মানুষ ভাবে ছেলেরা কখনো কষ্ট পায় না। কিন্তু তারা জানে না যে ছেলেরা সবচেয়ে বেশী কষ্ট পায়। হারানোর এই ব্যাথা ছেলেরা কখনো ভুলে না। কখনো না। আবিরের কষ্টটাও কেউ বুঝবে না। কেউই না। আবির অপলক দৃষ্টিতে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছে। ও চাইলেই এই দুনিয়া ছাড়তে পারবে না। প্রথমে এই কাজ করলে মারাত্মক পাপ হবে। দ্বিতীয় জন্মদাত্রী মা। তাকে একা ফেলে চলে যাওয়া কোন ভাবেই সম্ভব না। সত্যিই আমরা ছেলেরা হাজারো দায়িত্বের শিকলে বন্দী। যেমনটা আবিরও। আবির ভিতর থেকে ভেঙে পড়েছে। কোন শক্তি পাচ্ছে না।
হঠাৎই দরজায় নক পড়ে। আবিরের মা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। আবির না চাওয়া স্বত্তেও অনেক কষ্টে জমে থাকা শরীরটা নিয়ে উঠে দরজাটা খুলে। আবিরের মা আবিরকে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায়। সে যেন চিনতেই পারছে না তার ছেলেকে। আবিরের মা ওর হাতটা খপ করে ধরে টেনে তার রুমে নিয়ে যান। হঠাৎই ঝলমলে রোদ্দুর এসে আবিরের চোখে লাগে। ও হাত দিয়ে চোখ চেপে ধরে। ওর মা ওকে নিয়ে তার রুমের বিছানায় বসায়। আবিরের চোখ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়। এতোক্ষণ ঘোর অন্ধকারে থাকায় হঠাৎ করে আলোতে চলে আসায় এরকম হয়েছে। আবিরের মা আবিরকে ধরে অস্থির হয়ে বলে,
~ বাবা তোর কি হয়েছে?? এই অবস্থা করেছিস কেন নিজের?? দয়া করে আমাকে বল। আমি তোর মা।
আবির নিথর হয়ে নিষ্প্রাণ তাকিয়ে আছে। কিছুই বলছে না। মা আবার আহ্লাদ দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন,
~ বাবা আমার বল না কি হয়েছে তোর?? আর আমাকে কষ্ট দিস না। মা যে সন্তানের এই হাল সহ্য করতে পারে না।
আবির মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ পর হাউমাউ করে কেঁদে দেয়। ওর মায়ের চোখেও মুহূর্তেই অশ্রু এসে পড়ে। আবির ওর মাকে সব খুলে বলে। সব শুনে ওর মা দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস ছাড়ে আর স্বান্তনা দিয়ে ওকে বলে,
~ বাবা, বাস্তবতাকে মেনে নে৷ আমরা গরীব। আমাদের সংগ্রাম করার কোন সামর্থ্য নেই। কীসের বলে সংগ্রাম করবি বল?? কি আছে আমাদের?? ইমরান বাবা তোকে চাকরি না দিলে আমরা কোথায় যেতাম?? আর তারচেয়ে বড় কথা মায়ার বাবার চিকিৎসা কে করাতো বল?? তুই পারতি?? এতো টাকা দিতে??
আবির মাথা নিচু করে নিঃশব্দে কাঁদছে। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে মা বলেন,
~ মায়া এখন সুখে শান্তিতে আছে রে। তুই আর কষ্ট পাস না। তুই এমন করলে ও যদি জানে তাহলে ও অনেক কষ্ট পাবে৷
– মা, মায়া আমাকে একদিনেই ভুলে গেছে। আমাদের ৬ বছরের ভালবাসা ও এক নিমিষেই শেষ করে দিয়েছে।
~ শোন, মাঝে মাঝে আমাদের যা মনে হয় বা দেখি তাই যে সত্য হবে তা কিন্তু নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা মায়া এখন ইমরানের স্ত্রী। তুই আর ওকে নিয়ে ভাবিস না। সামনে আগা। নিজের একটা সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুল। হেরে যাস না বাবা। জীবনের সাথে লড়াই করে বাঁচতে শিখ। বাস্তবতাকে মেনে নে।
মায়ের কথা আবিরের মনে একটু হলেও বেঁচে থাকার আশ্বাস দেয়। সেই শক্তিটুকু নিয়েই আবির উঠে দাঁড়ায়।
এদিকে ইমরানের বাসায়,
মায়া ফ্রেশ হয়ে মলিন মুখে বের হয়ে দেখে বিছানায় কেউ নেই। একটা কমলা কালারের শাড়ী পরেছে ও। ভীষণ সুন্দর লাগছে ওকে। চুল গুলো ভিজা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আনমনে চুলগুলো মুছছে মায়া। হঠাৎই কে যেন এসে ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর চুলের ঘ্রাণ নিতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় মায়া ভয় পেয়ে যায়। ওকে যে জড়িয়ে ধরেছে তাকে ছাড়িয়ে ভীতু ভাবে ঘুরে তাকিয়ে দেখে ইমরান। সে বাকা হাসি দিয়ে মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ইমরান আস্তে আস্তে মায়ার কাছে আসছে। মায়া পিছনে যাচ্ছে। ইমরান আগাচ্ছে৷ মায়া ভয়ে ভয়ে পিছাতে পিছাতে শেষে দেয়ালের সাথে ঠেকে যায়। ইমরান একদম মায়া কাছে চলে আসে৷ মায়া পালাতে নিলে ইমরান ওকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। মায়া ব্যাথায় আর ভয়ে কেঁদে দেয়৷ মায়া কান্নাসিক্ত কণ্ঠে বলে উঠে,
~ আমাকে ছেড়ে দিন। এসব ভালো লাগছে না।
– তুমি আমার বউ। তোমাকে ছেড়ে পালার জন্য বিয়ে করিনি। তোমার সাথে যা ইচ্ছা করার অধিকার আমার আছে বুঝলে।
মায়া অসহায় ভাবে ইমরানের দিকে তাকিয়ে বলে,
~ জি সে অধিকার আপনার আছে। আমিও আপনাকে হয়তো একসময় মেনে নিতাম। কারণ আপনাকে একজন ভালো মানুষ ভেবে ছিলাম। কিন্তু আপনি তো বিশ্বাসঘাতক। যে বন্ধুর কারণে এত দূর পাশ করে এসেছেন। আজ সেই বন্ধুর সবচেয়ে পছন্দের মানুষটাকে আপনি নিজের স্বার্থে কেড়ে নিয়েছেন। লজ্জা করে না এই কাপুরুষতা করে??
মায়ার কথা শুনে ইমরানের প্রচন্ড রাগ হয়। ও রাগী কণ্ঠে বলে,
– তোকে ভালবাসি বলে কিচ্ছু বললাম না। নাহলে এখন যে তোকে কি করতাম তা তুই কল্পনাও করতে পারবি না। কিন্তু তোকে শাস্তি আমি দিব। আর সেটা তোর মনে৷ দেখিস।
বলেই ইমরান ফ্রেশ হতে চলে যায়। মায়ার শরীর থরথর করে কাঁপছে। এভাবে আর কতবার ইমরানকে আটকাবে ও। আজ নয়তো কাল ইমরান ওর সব কেড়ে নিবে। মায়ার খুব কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে আবিরের জন্য। সেই যে সেদিন কথা হয়েছে আর একবারও কথা হয়নি। জানে না ও আবির কতটা কষ্টে আছে। ওর কথা খুব মনে পড়ছে মায়ার। মায়া ভাবছে, আবির হয়তো এখন ওকে ঘৃনা করছে। মিথ্যাটা শুনে আবির ওর প্রতি হয়তো বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। আবির তো ওকেই হারিয়ে ফেলেছে। আর বিশ্বাস রেখেই বা কি হবে। পরিস্থিতির কাছে আমরা সবাই হেরে যাই। মায়া এসব ভেবে নিচে চলে যায়।
এ বাড়ির বউ যখন হয়েছে তখন ওকে ওর দায়িত্ব পালন করতেই হবে। এছাড়া ইমরান খারাপ হলেও ওর জন্যই মায়ার বাবার চিকিৎসা হচ্ছে। নাহলে সে এতোদিনে মারাই যেতো। তাই মায়া চায় না ইমরানের পরিবারের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে। মায়া আজ নিজ হাতে নাস্তা বানায়৷ নাস্তা বানাতে গিয়ে ওর চোখে অনেক বার অশ্রু এসে ভীড় জমিয়েছে। কিন্তু ও তাতে সাড়া দেয় নি। কারণ সবার সামনে কাঁদা যাবে না। মায়ার কান্না পেয়েছিল কারণ মায়ার ইচ্ছা ছিল ঠিক এভাবে নাস্তা বানিয়ে আবিরকে খাওয়াবে। কিন্তু সেই ইচ্ছা স্বপ্নই রয়ে গেল। একগাদা টাকা আর পরিস্থিতির কাছে ওরা দুজন হেরে গেল।
নাস্তা বানানো শেষ হলে মায়া টেবিলে খাবার রাখতেই সবাই নেমে আসে। ইমরান ওর পরিবারের একমাত্র ছেলে। ইমরানের বাবা আর ইমরান এসে টেবিলে বসে। ইমরানের মা মায়ার কাছে গিয়ে ওর মাথা হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,
~ কেমন আছো মা?? তুমি নিজে নাস্তা বানিয়েছ বুঝি??
মায়া মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে। ইমরানের মা বলে,
~ বাহ!! খুব ভালো। সব শ্বাশুড়িরই ইচ্ছে বউমার হাতের নাস্তা খাবে। যাক আমারও পূরণ হলো।
নেহালের বাবা রসিকতার ছলে বললেন,
– শুধু তোমার না আমারও ইচ্ছে বুঝলে।
অন্যদিকে ইমরান বলে,
– আমিও কিন্তু বাদ নেই।
মায়া অনেক কষ্টে মিথ্যা একটা হাসি দিয়ে সবাইকে খাবার বেরে দেয়। সবাই খুব খুশী হয়ে খেতে থাকে। খাওয়ার মাঝে ইমরানের বাবা বলে উঠে,
– ইমরান আজ কিন্তু বাসায় তোদের বিয়ে উপলক্ষে অনেক বড় পার্টি রেখেছি। তুই মায়াকে নিয়ে শপিং করে আয়। আর এদিকে আমি দেখব নে। আমাদের সব কলিগরা আর আত্নীয়রা আসবে। তোর বন্ধুদেরও বলে দিস।
– আচ্ছা বাবা। মায়া তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করো। আমরা এখনই বের হবো।
ইমরানের মা বলে,
~ আরে মেয়েটাকে খেতে দে। এত্তো অস্থির হস না।
– আচ্ছা ওর বাবার ঠিক মতো চিকিৎসা হচ্ছে তো??(বাবা)
– হ্যাঁ বাবা। কয়দিন পরই অপারেশন। আমি খেয়াল রাখছি তুমি চিন্তা কইরো না।
– আচ্ছা।
এরপর খাওয়া দাওয়া শেষে মায়া আর ইমরান উপরে ওদের রুমে আসে। মায়া বিছানায় চুপ করে বসে আছে৷ ইমরান মায়াকে দেখে বলে,
– এতো কিছু করছি শুধু তোমার জন্য। বুঝতে পারতেছো আমি তোমাকে কতটা ভালবাসি??
~ অন্যায় ভাবে কারো কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে?? এটাকে ভালবাসা বলে না। এটা জোরাজোরি।
– আর একটা কথা শুনতে চাই না। সোজা রেডি হয়ে আসো।
~ না আমি কোথাও যাবো না। আমার এসব ভালো লাগে না।
– যাও৷
~ না।
ইমরান খুব রাগী ভাবে এসে মায়ার গাল দুটো হাত দিয়ে চেপে ধরে বলে,
– আর একবার না বললে তোর বাপকে এখনই মেরে ফেলবো। আমি যে কতটা খারাপ তোর আইডিয়া নাই। মানুষ মারা আমার কোন ব্যপার না। ভালো ভাবে বলছি তো ভালো লাগে না। আমাকে খারাপ হতে বাধ্য করিস না। যাহ…
মায়া ভয়ে রীতিমতো কাঁপছে। ইমরানকে এখন হিংস্র পশুর মতো লাগছে। মায়া ভয়ে ভয়ে তাড়াতাড়ি রেডি হতে চলে যায়। এই ফাঁকে ইমরান আবিরের ফোনে একটা ম্যাসেজ করে। ম্যাসেজটা ছিল,
– “দোস্ত আজ আমার আর মায়ার বিয়ে উপলক্ষে বাসায় অনেক বড় পার্টি দেওয়া হয়েছে। সবাই আসছে। তুই যদি না আসিস তাহলে আমি নিচেই নামবো না। এটা আমি প্রমিজ করে বলছি। তুই আমার চিফ গেস্ট। তুই না আসলে কোন পার্টি নেই।”
ইমরান ম্যাসেজটা দিয়ে বাকা হাসি দিচ্ছে। আর মনে মনে বলছে,
– তুই শুধু একবার আস। তারপর যে কি হবে তুই ভাবতেও পারবি না।
এরপর ইমরানের সাথে মায়া শপিং এ চলে যায়। ইমরান মায়াকে অনেক দামী জামা কিনে দেয় সাথে আরো দামী অলংকারও। ওরা শপিং করে এসে দেখে পুরো বাড়ি সাজানো শেষ। অসম্ভব সুন্দর লাগছে। মায়াকে সাজানোর জন্য বাইরে থেকে মেয়ে আসে। তারা মায়াকে খুব সুন্দর করে সাজাচ্ছে। মায়ার ভিতরটা শুধু কাঁদছে। সেই কান্না কেউ শোনে না। কেউ বুঝে না।
সময় চলে যায়। সন্ধ্যা এসে পড়ে। একে একে মেহমানরা এসে পড়ে সবাই। অনেক মেহমান এসেছে। কিন্তু ইমরান অপেক্ষায় আছে শুধু আবিরের। ইমরান ভাবছে আবির কি আসবে না। কিন্তু হঠাৎই পিছন থেকে কেউ ওকে বলল,
– কেমন আছিস দোস্ত??
ইমরান তাকিয়ে দেখে আবির। এবার ও খুব খুশী হয়। কারণ আবিরকে আজ জ্বালাবে ওর সামনে মায়াকে নিয়ে। আবির আজ ফুল ব্ল্যাক কালারের স্যুট আর প্যান্ট পরে এসেছে। বেশ সুন্দর লাগছে ওকে। ইমরান আবিরকে দেখে বলে,
– দোস্ত তোকে তো সেই লাগছে। তুই তো কখনো কালো পরিস না। আজ হঠাৎ পরলি??
আবির আস্তে করে বলল,
– মন চাইলো তাই।
আসলের মায়ার পছন্দের কালার হলো ব্ল্যাক। আবির মায়ার সাথে দেখা করতে গেলে ব্ল্যাক পরে যেত। তাই আজও ব্ল্যাক পরেছে। একটু পরই মায়া উপর থেকে নেমে আসে। মায়ার সাথে অনেক মেয়েরা। উপর থেকে স্পট লাইট মায়ার উপর পড়েছে। আবির অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে মায়াও ব্ল্যাক কালারের গাউন পরে আছে। স্পট লাইটের আলোতে মায়ার গাউনটা ঝলমল করছে। মায়াকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। ওরা দুইজনই সেইম কালার পরেছে। কিন্তু ইমরান পরেছে সাদা কালারের স্যুট। আজকের পার্টির লাইটিং টাও একটু ডার্ক। তাই ইমরান যেন সবার থেকে আলাদা হয় তাই এই সাদা স্যুট পরা। আর মায়া ওর পছন্দের কালার অনুযায়ী কালো গাউন কিনেছে। কিন্তু এটাও সবার চোখে পড়ার মতো। বেশ দামী।
মায়াকে নিচে আসতে দেখে ইমরান মায়ার কাছে ছুটে যায়। ওর হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আবির দূর থেকে সবার আড়ালে মায়াকে দেখছিল। অসম্ভব সুন্দর লাগছে ওকে। সত্যি আবির চাইলেও মায়াকে এই জীবনটা দিতে পারতো না। আবির আস্তে করে চলে যেতে নিলে ইমরান আবিরকে ডাক দেয়। মায়া আঁতকে ওঠে। ও ভাবেছে আবির আসে নি। কারণ ওর চোখে আবির এখনো পড়েনি। ইমরানের ডাক শুনে আবির আর না যেয়ে পারে না। আবির সবাইকে সাইড করে মায়া আর ইমরানের সামনে আসে। মায়া আবিরকে দেখে স্তব্ধ। ওরা সেইম কালারের ড্রেস পরেছে। ইমরান বলে,
– দোস্ত এই হলো মায়া। আমার মায়া। দেখ কত্তো সুন্দর ও।
আবির না চাওয়া স্বত্তেও মায়ার চোখের দিকে তাকায়। ৬ টা বছরে কখনো এতোটা দূরত্বে ওরা ছিল না যা আজ আছে। এতো কাছে থেকেও ওরা আজ অনেক অনেক দূরে। আবির মায়ার দিকে বেশীক্ষন তাকাতে পারেনা। খুব কষ্ট হচ্ছে। আবির ইমরানকে বলে,
– দোস্ত আমি তো আসলাম। এখন বরং যাই। শরীরটা ভালো না।
মায়া একথা শুনে খুব কষ্ট পায়। ও আবিরকে সব সত্যিটা বলতে চায়। এবং তা আজই। কিন্তু আবিরতো চলে যাচ্ছে। ইমরান দ্রুত বলে,
– মজা করিস বেটা। তোকে ছাড়া এ পার্টি শূন্য। তুই এখন আমাদের জন্য একটা গান গাবি। আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি।
– না দোস্ত। আমি যাই।
– মায়া…তুমি বলোতো। তুমি বললে হয়তো থাকবে।
~ জি থাকুন। যাবেন না৷
– নে এবার তোর ভাবিও বলল। এখন আমাদের একটা গান শুনা। তোর গান শুনে আমরা কাপলরা নাচবো। শুরু কর। দাঁড়া আমি বলে দিচ্ছি সবাইকে।
এরপর ইমরান সবার উদ্দেশ্য বলে দেয় যে আবির গান গাবে। এখন আর না করার কোন রাস্তা নেই আবিরের। মায়া শুধু আবিরের দিকে তাকিয়ে আছে। আবিরও মায়ার দিকে তাকিয়ে গিটারটা হাতে নিয়ে বসে গান ধরে…

Be the first to write a review

2 Responses

  1. 8dayvina, nghe quen quen ta? Hình như có thằng bạn hay chơi ở đây thì phải. Để thử vào xem có gì hay ho không đã. Có khi lại được giới thiệu vài kèo thơm. Give it a shot 8dayvina.

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প