ঘুম ভাঙলো সাজ্জাতের ফোনে।আজ বেশ ফুরফুরে লাগছে।এতদিন পর তাহলে সেই প্রতীক্ষিত সময়টা এসেই গেলো।খবরটা পেয়েই বিজয়ের কাছে গেলাম,গিয়ে দেখি ও অফিসের জন্য রেডি হচ্ছে।আমি বললাম
– বিজয় আজ তোমার একটু সময় হবে?
– কেনো কোনো কাজ আছে কি?
– কাজ না,এক জায়গায় যাবো।
– বিজয় কিছুক্ষন ভেবে,মাথা নাড়িয়ে শায় জানালো বললো আচ্ছা।
আসলে সুফিয়া বিজয়ের কাছে অনেক দিন যাবৎ কিছু চায়না।আজ এভাবে একটু সময় চাওয়াতে নিষেধ করতে পারলোনা,যদিও অফিসে ম্যানেজ করতে একটু প্রবলেম হবে,তাও রাজি হলো।
আজ একটা শাড়ি পরলাম,এই শাড়িটা বিজয় আমাকে প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে দিয়েছিলো।খুব সাজতে ইচ্ছে হচ্ছে আজ তাই একটু সাজলাম, মুখে হালকা মেকআপ আর ঠোঁটে হালকা কালারের একটা লিপস্টিক দিলাম।
রুম থেকে বের হতেই বিজয় আমার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিলো।আমি চোখের ইশারাতে প্রশ্ন করলাম,ও কানের কাছে এসে বললো আজ তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।আমি একটা মুচকি হাসি দিলাম।
বিজয় গাড়ি নিয়ে বের হতে চাইলো,আমি বললাম গাড়িতে না রিক্সায় যাই?
ও মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো।
একটা রিক্সা ডাকলো,আমি রিক্সা ওয়ালা কে বললাম, মামা কবর স্থানে যাবেন?
উনি বললেন উঠেন।বিজয় আমাকে জিজ্ঞেস করলো
– হটাৎ কবর স্থানে কেনো?
– ঐখানে গিয়ে তুমি আর আমি একসাথে মরবো তাই।
– মরার জন্য বুঝি এতো সুন্দর করে সেজেছো?
– হুমমম।কেনো তোমার আফসোস হচ্ছে নাকি?
– আফসোস হবে কেন?
– এইযে মরার আগে সাজতে পারলেনা বলে।
– আমার তো খুশি লাগছে,একসাথে বাচতে না পারি,মরতে তো পারবো, হাহাহা।
– চুপ করো,এভাবে রাক্ষসের মতো হেসো না তো।
– আমি রাক্ষস?
– তার চেয়েও বড় কিছু।
গল্প করতে করতে কবর স্থানে এসে গেলো।
রিক্সা ওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম থাকবেন নাকি চলে যাবেন?
আপনারা কইলে থাকমু।
– আচ্ছা থাকেন তাহলে।
বাবার কবরের সামনে এসে খুব কান্না পাচ্ছিলো,কিছুক্ষন কান্না করে হালকা হলাম।মায়ের কবরটা গ্রামের বাড়িতে,তার কবরটা আর দেখা হলোনা।আজ খুব মনে পরছে বাবা মায়ের কথা।যদি আজ তারা বেচে থাকতো,আমার জীবনটা অন্যরকম হলেও হতে পারতো।
পুনরায় রিক্সায় এসে বসলাম,বললাম মামা উত্তরা আজমপুর চলেন।বিজয় জিজ্ঞেস করলো
– আবার আজমপুর কেনো?
– দরকার আছে।
– কি দরকার?
– গেলেই বুঝতে পারবে।
– আমার কিন্তূ এখন ভয় হচ্ছে।
– কিসের ভয়?
– আমাকে এভাবে একা কোথাও নিয়ে গিয়ে যদি আবার পুরুষ নির্যাতন করো।আজকালের মেয়েদের তো বিশ্বাস নেই।
– পাগলের মত বক বক করা বন্ধ করবে?
– আমি পাগল?
– তাতে কি কোনো সন্দেহ আছে?।
– আচ্ছা তাহলে এই পাগলের একটা পাগলামি রাখবে?আজকে একটু আমাকে নির্যাতন করবে?অনেক দিন হলো….
– বিজয়! চুপ করবে নাকি ধাক্কা মেরে ফেলে দিবো রিক্সা থেকে?
– ফেলে দাও,আমি নায়কের মত পড়ে যাবো,তুমি নায়িকাদের মত আমার উপড়ে পরে যাবে।তারপর সুযোগ পেয়ে আমি তোমাকে চুমু দিবো,আর তুমি চোখ বন্ধ করে….
– বিজয় আসলেই মনে হয় তোমার মাথার তার ছিড়ে গেছে,কখন থেকে শুধু উল্টা পাল্টা বক বক করে যাচ্ছো,সত্যিই তুমি পাগল হয়ে গেছো, হাহাহা।
– বিজয় অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
– কি হলো,এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?আমাকে কি এর আগে কখনো দেখোনি?
– দেখেছি তবে,অনেকদিন পর এভাবে তোমাকে হাসতে দেখলাম।
রিক্সা থেমে গেলো,তাকিয়ে দেখি সেই পুরোনো বাসার সামনে এসে পরেছি।
কলিংবেল দিলাম,বাড়িওয়ালী চাচী এসে দরজা খুললেন।এতদিন পর আমাকে দেখে একটু অবাক হলেন।
অনেকদিন পর এই বাসায় আসলাম,এই বাসাতেই বাবা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন,এই বাসাতেই আমার আর বিজয়ের বিয়ে হয়েছিলো।কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বাসায়।তবে আমরা যেই ঘরটায় ভাড়া থাকতাম সেটাতে এখন অন্যকেও থাকে।আমি চলে যাওয়ার পর নতুন ভাড়াটিয়া এসেছেন।
চাচীর সাথে অনেক সময় বসে গল্প করলাম।চাচী না খাইয়ে ছারছিলোই না,তারপর দুপুরে খেয়ে ওখান থেকে বের হলাম।
রাস্তা দিয়ে হাটছি,বিজয় বললো
– আর কোথাও যাওয়ার আছে,মেডাম?
– একটু ভার্সিটিতে যাবে?
– ওখানে গিয়ে কি করবে?
– কিছুনা,এমনি যেতে ইচ্ছে করছে।
– ইচ্ছে যখন করছে তাহলে তো যেতেই হয়।
ভার্সিটিতে কিছুক্ষন ঘুরলাম,পরিচিত স্যারদের সাথে দেখা করলাম।তারপর অফিস হয়ে,সাজ্জাতের সাথে দেখা করে,একটা পার্কে এসে বসলাম।
বিয়ের আগে বিজয় আর আমি এই পার্কে অনেকবার দেখা করেছি।আজ শেষ বারের মত….
বিজয় জিজ্ঞেস করলো
– মেডাম আজকে আপনার কি হয়েছে শুনি? এতো জায়গায় ঘুরলেন,আপনাকে আজ বেশ খুশি খুশি ও দেখাচ্ছে কারনটা কি জানতে পারি?
– আজ তোমার অফিস মিস হয়ে গেলো তাইনা?
– আরেহ ধুরর..অফিস তো সারাবছর ই করি।আজ অফিসে গেলে এতো সুন্দর মুহূর্ত গুলো কি পেতাম?কতকিছু মিস করে যেতাম।
-তাই নাকি?
– জী মেডাম।
– আসলে তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।
– বুঝেছি,আজকে আমাদের বাসর রাত হবে তাইনা?
– তোমার মাথায় এইসব ছাড়া আর কিছু নেই?
– কি করবো বলো,সুন্দরী বৌকে পাশে রেখে নিজেকে নিয়ত্রণ করা যে কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
– হাহাহা,আমিও আবার সুন্দরী!
– হুম,তুমি আমার চোখে সব চেয়ে সুন্দরী একজন নারী।
– ভালই বলেছো।আসলে আজকে আমার প্রমোশন হয়েছে।
– ওহ,তার জন্যই বুঝি এতো আয়োজন?
– এটার জন্যই বলতে পারো,তবে আরেকটা সারপ্রাইজ আছে।
– কি সারপ্রাইজ?
– বাসায় গেলে জানতে পারবে।
– এখনি বলো।
– বললাম তো বাসায় গিয়ে বলবো।
– তাহলে বাসায় চলো।
– আচ্ছা চলো।
পার্কের অনেক টা ভেতরে এসে বসেছি আমরা। হেটে হেটে পার্কের গেটের মুখে যাচ্ছিলাম। হাটতে হাটতে বিজয় বললো
– আজকের দিনটা অনেক ভালো কেটেছে।অনেকদিন পর দুজনে এভাবে ঘুরলাম।অনেকদিন পর তোমার মুখে এত সুন্দর হাসিটা দেখতে পেলাম।আজ আবারো অতীতে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে।আবারও প্রাণ খুলে বলতে ইচ্ছে করছে,ভালোবাসি সুফিয়া তোমায়, অনেক ভালোবাসি।
– ভালোবাসো বলেই তো ব্যাংকের দশ লাখ টাকা, আর বাড়ি আমার নামে লিখে দিয়েছো। ভালোবাসো বলেই তো, আড়ালে থেকে আমার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ করে দিয়েছো, তাইনা?
– বিজয় হাটা বন্ধ করে বললো, তুমি এসব জানো?
– কিছুদিন আগেই জানতে পেরেছি।
– বিজয় আমাকে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে পার্কের একটা দোলনায় বসলো।
– আমি আসলে চেয়ে ছিলাম…
আচ্ছা বিজয় আমি কি কখনো তোমার কাছে এসব চেয়েছি?বাড়ি,টাকা পয়সা এসব দিয়ে আমি কি করবো।আমার তো এসবের কোনো দরকার ছিলোনা,এখনও নেই। আমিতো শুধু এক ছাদের নিচে তোমাকে নিয়ে বাচতে চেয়েছিলাম।সুখী হতে চেয়েছিলাম তোমাকে নিয়ে।সুখী হতে বেশি টাকা পয়সার প্রয়োজন হয়না, প্রিয় মানুষটাকে নিয়ে অল্পতেও সুখী হওয়া যায়।বিজয় টাকা পয়সাই কি জীবনের সব?তুমি আমার জন্য এতো কিছু না করে যদি আমাকে একটু ভালোবাসতে তাহলেই আমি খুশি ছিলাম।
– সুফিয়া আমি তোমাকে এখনও অনেক ভালোবাসি।
– এ কেমন ভালোবাসা তোমার?এমন ভালোবাসা তো আমি চাইনি।যে ভালোবাসা দুজনের মধ্যে দুরত্ব তৈরি করে,যে ভালোবাসা তিলে তিলে মানুষকে মন থেকে শেষ করে দেয়।
– সুফিয়া চলো আমরা দূরে কোথাও চলে যাই,যেখানে কোনো পিছুটান থাকবেনা,শুধু তুমি আর আমি থাকবো।নতুন করে বাচার চেষ্টা করবো।
– সত্যিই কি সেটা আর সম্ভব?
– তুমি চাইলেই সম্ভব।
– না বিজয়,আমি চাইলেই যদি সব হতো,তাহলে আমি তোমাকে নিজের করে রাখতে চেয়েছিলাম কই রাখতে পারিনি তো।তুমি আমি এক সাথে থাকা এটা এখন শুধুই একটা মিথ্যে সপ্ন,মিথ্যে সপ্ন দেখে আনন্দ পাওয়া গেলেও ভালো থাকা হয়না।
এসব বলে আর কি লাভ,চলো বাসায় যাই রাত হয়ে আসছে।
বিজয় আর কিছুই বললোনা,চুপ করে শুধু বার বার দেখছিলো আমায়।
বিজয় আর আমি দুজন এক সাথেই বাসায় ঢুকলাম।অফিস হয়ে আসার সময় সাজ্জাত দরকারি সব কাগজপত্র দিয়ে দিয়েছিলো সাথে।আমি সাজ্জাত কে বলেছিলাম,কাগজ গুলোর ফটোকপি করে দিতে,যাতে বিজয় কে একটা দেখার জন্য দিতে পারি।যদি আসলটা দেই পরে যদি যেতে কোনো বাধা দেয়।আমি কোনো রিস্ক নিতে চাইনা এই ব্যাপারে।
বাসায় ঢুকেই আমি বিজয়ের হাতে একটা খাম তুলে দিয়ে বললাম
– এটাই তোমার সারপ্রাইজ।
– কি এইটা?
– খুলে দেখলেই বুঝবে।
– বিজয় তখনই খুলতে চাইলো।
– আমি বললাম,এখন না ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে পরে দেখো। ছোটোকেও দেখিও,ও দেখলে খুশি হবে।
আমি ফ্রেশ হয়ে মায়ের কাছে গেলাম।মা কে বললাম
– মা আমি কালকে চলে যাচ্ছি।
– কোথায় যাচ্ছিস?
– দুবাই তে।
– দুবাই তে মানে?ওখানে কেনো?
– এখন থেকে ওখানেই থাকবো।
– হটাৎ এমন সিদ্বান্ত কেনো নিলি মা?তুই জানিস না তোকে ছাড়া আমি থাকতে পারিনা।তাছাড়া তুই তো আমাকে কথা দিয়েছিলি এ বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবিনা কিন্তু এখন দেশ ছেরেই চলে যাচ্ছিস?
– পৃথিবীতে কারো জন্য জীবন থেমে থাকেনা মা।আপনি বাবাকে কত ভালোবাসতেন, সে ছিলো আপনার অনেক কাছের মানুষ,তাকে ছাড়া যখন বাচতে পারছেন, আমাকে ছাড়াও আপনি থাকতে পারবেন।আর মা কথা দেওয়ার কথা বলছেন? কতো মানুষ,অনেক বড়ো বড়ো কথা দিয়ে নিমিষেই ভুলে যায়,প্রয়োজনে ভালোবাসার মানুষকে ও ছেড়ে দেয় আর আমিতো সামান্য দেশ ছাড়ছি মাত্র।আর আমি বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে কারো কোনো ক্ষতি হবেনা বরং ভালই হবে।
– অভিমান করেছিস মা?রাগ করেছিস?
– না মা রাগ বা অভিমান কোনোটাই না,শুধু এই হাপিয়ে যাওয়া জীবন থেকে বেরিয়ে একটু বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে চাই।অন্য কারো সংসার এ আর তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে থাকতে চাইনা।এসব থেকে দূরে গিয়ে,একটু নিজের মতো বাচতে চাই।
মা দয়া করে আপনি আমাকে বাধা দিবেন না,আপনি বাধা দিলেও,আমি সেটা মানতে পারবোনা।শুধু একটু দোয়া করবেন আমার জন্য তাহলেই হবে।
শাশুড়িকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই চলে এসেছি। কারন আমি জানি,আমি ওখানে থাকলে সে আবার কান্নাকাটি শুরু করে দিবে।
2 Responses
Heard some buzz about 91clubregister. Signed up, process was smooth. Haven’t won big yet, but fingers crossed! Register now: 91clubregister
Fala, apostadores! Tô buscando um app novo pra dar uns palpites e me indicaram o DonaldBetApp. Alguém usa? Acha que vale a pena baixar? Me contem! Se quiserem saber mais: donaldbetapp