নিয়তির_লিখা পর্বঃ ০৪

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে আমি নিচে গেলাম।বাসায় কিছু মেহমান ছিল।আমি সবাইকে সালাম করে সবার জন্য নাস্তা রেডি করে দিলাম।
আমার শ্বাশুড়ি বলল আয়ানকে ডেকে আনতে।আমি গিয়ে আয়ানকে ডেকে আনলাম।সবাই নাস্তা খাওয়া শেষ করে গল্প করতে বসলাম।সেইখানে আয়ানদের কিছু আত্মীয় আমাকে বলল বাচ্চাগুলোকে দেখে রাখতে।মা মরা বাচ্চা।আমি তাদের কথা শুনছিলাম।
কিছু মানুষ তো আমাকে নিয়ে আমার শ্বাশুড়িকে কথা শুনাচ্ছিল।খালা হলেও খেয়াল রাখতে।হাজার হলেও তো আমি তাদের সৎ মা।কিছু মানুষ বলছে কিছু দিন পর আমার নিজের বাচ্চা হলে আমি ওদেরকে কম যত্ন নিব।আরও অনেক কথা।
সৎ মা কে এতো কথা শুনতে হয় আজ বুঝলাম।আমি তাদের কথাই কান না দিয়ে নিজের মতো কাজ করতে লাগলাম।
দুপুরের খাওয়া শেষ করে রুমে গেলাম।আয়ান আমার পিছু পিছু আসল।
–তুমি ওদের কথাই কিছু মনে করো না।
–না কিছু মনে করার কি আছে?
–আচ্ছা তোমার কি নিজের বাচ্চা হলে তুমি সত্যি বদলে যাবে।
–আমার তো নিজের ২টা বাচ্চা আছেই তাহলে আর বাচ্চা কেন?
–আচ্ছা।সৈকতের আর কোনো খবর পেয়েছিলে?
–না ওর সাথে কাল দেখা হয়েছিল আর কোনো খবর পাই নি।ওর সাথে যোগাযোগ না থাকলেই ভালো হবে।নাহলে আমি সংসারে মন দিতে পারবো না।
–তোমাকে দেখলে আসলে অবাক লাগে।বোনের মেয়েদের জন্য নিজের এতো বড় ত্যাগ করলে?
–কিসের ত্যাগ!!এই দুই মাসুম বাচ্চার মা হতে পেরেছি এইটাই আমার কাছে অনেক।
আমাদের সংসারের অনেক দিন কেটে গেল।আসতে আসতে আয়ানের প্রতি কেমন যেন একটা মায়া জমে গেছে।আয়ানও আমাকে ছাড়া থাকতে পারতো না।
আমাদের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১বছর হয়ে গেছে।নাজিয়াত আরিয়ানাও একটু একটু কথা বলতে পারে।এই এক বছরের তাদেরকে মায়ের অভাব কোনোদিন বুঝতে দেইনি।তারা আমাকে মা বলেই ডাকে।
তারা যখন আমাকে মা ডাকে তখন মনে হয় ওরা যেন আমার নিজের মেয়ে।এই এক বছরে কিন্তু আমার সাথে আয়ানের কোনো স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যে সম্পর্ক সেই সম্পর্কটা হয়নি।আয়ানও কোনো দিন আমাকে তার কাছে চাইনি।
কিন্তু আজ হঠাৎ আয়ান অফিস থেকে আসার সময় কিছু চকলেট আর ফুল নিয়ে আসলো।সে গুলো এনে আমার হাতে দিল।
–এইগুলো আমাকে দিচ্ছেন কেন?
–তোমার জন্য এনেছি তাই।
–আমার জন্য!!
–হ্যাঁ।আচ্ছা খেতে দাও।তোমার সাথে কিছু কথা আছে।
–হ্যাঁ বলেন কি কথা!!
–আচ্ছা আগে খেতে দাও খুব ক্ষিধে পেয়েছে।
আমি আয়ানকে খেতে দিলাম।হঠাৎ মায়ের কল আমার মোবাইলে।
— হ্যাঁ মা বলো।এতো রাতে কল করলে যে?
–তোরা তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয়।তোর বাবা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
আয়ানের খাওয়া শেষে আমি আর আয়ান বাবুদেরকে নিয়ে বাবার বাসায় চলে গেলাম।বাবাকে হসপিটালে ভর্তি করানো হলো।আমি ততদিন বাবার বাসাতেই ছিলাম।
প্রায় ১৫দিন পর বাবাকে বাসায় নিয়ে আসা হলো।এইদিকে আয়ান বারবার কল দিচ্ছে বাসায় যাওয়ার জন্য।আমি আরও কিছুদিন থাকবো বলে আয়ানকে রাজি করালাম।আয়ান মাঝেমধ্যে আমাদেরকে দেখতে আসতো।আজ আয়ান এসেছে বাবাকে দেখতে।
–আচ্ছা আপনি যে ওইদিন বলেছিলেন আমাকে কি কথা বলবেন?ওইদিন তো বাবার অসুস্থতার জন্য বলতে পারেনি।আজ বলুন।
–বাসায় আসো তারপর না হয় বলবো।
আমি ভাবতে লাগলাম আয়ান আমাকে কি এমন কথা বলতে চাই যা এইখানে বলা যাবে না!আমি ভাবলাম নাজিয়াত আরিয়ানাকে নিয়ে হয়তো কিছু বলবে।

Be the first to write a review

5 Responses

Leave a Reply

We’re sorry you’ve had a bad experience. Before you post your review, feel free to contact us, so we can help resolve your issue.

Post Review

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক গল্প